Durnitibarta.com
ঢাকাশনিবার , ২৫ মার্চ ২০২৩
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গফরগাঁওয়ে ফ্রীজের মাল্টিপ্লাগ থেকে বসত ঘরে আগুন

প্রতিবেদক
Editor
মার্চ ২৫, ২০২৩ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি :

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ফ্রীজের মাল্টিপ্লাগ থেকে লাগা আগুনে কৃষকের ৩২ হাত লম্বার ঘর,গরু ও নগদ টাকা পুড়ে ছাই হয়েছে। আগুন লাগার আড়াই ঘন্টা পর হলেও ফায়ার সার্ভিসের কোন সহযোগীতা পাইনি বলে অভিযোগ উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক)। এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বিভিন্ন অভিযোগ করছেন।
শনিবার (২৫ মার্চ) ভোর রাতে উপজেলার চরআলগী ইউনিয়নের চরকামারিয়া ভাটি পাড়া গ্রামের কৃষক বাছির মিয়ার বসত বাড়িতে এই ঘটনা ঘটনা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, রাত ৩ টার দিকে উপজেলার চরকামারিয়া গ্রামের কৃষক বছির মিয়ার ঘরের ফ্রীজের মাল্টি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন বসতঘরসহ ঘোয়াল ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আশপাশের লোকজন আগুন দেখে ছুটে এসে আড়াই ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু ততক্ষণে আসবাবপত্র, হাঁস, মুরগী, গোয়াল ঘরের ২টি গরু, নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ,ফায়ার সার্ভিসে যোগাযোগ করলেও দীর্ঘ ২ ঘন্টার মধ্যে কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রোস্তম আলী গণমাধ্যমকে বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ক্ষয়ক্ষতি কিছু কমাতে পারতো।
Md Nayeem Sheikh নামে একজন তার ফেসবুক আইডিতে লিখেন, আজ রাত ২ টার সময় আমাদের গ্রামে বছির মিয়ার বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং বৈদুত্যিক তারে আগুন লেগে যায়। কিন্তু সাথে সাথেই ফোন দেওয়া হওয়া গফরগাঁও ফায়ার সার্ভিস এবং ৯৯৯ এর জরুরি সেবায়। কিন্তু দীর্ঘ ২ ঘন্টা সময়ের ভেতরে পাওয়া যায়নি কারো সাহায্য। অবশেষে এলাকাবাসীর অদম্য সাহসীকতার জোরে এবং আল্লাহর রহমতে এলাকায় আগুন ছড়িয়ে যাওয়ার আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় কিন্তু সর্বশান্ত হয়ে যায় কৃষক।
Yeasin ahmed নামে একজন লিখেন, আসসালামু আলাইকুম। আমরা চরআলগী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকামারিয়া ভাটি পাড়া গ্রামের প্রায় ২ হাজার মানুষ। তারা কতোটা নিরুপায় কতটা অসহায় তার প্রমান পেলাম রাত আনুমানিক ৩ টার সময়। চর কামারিয়া গ্রামের কৃষক বছির মিয়ার একমাত্র ঘর, আসবাবপত্র, গোয়াল ঘরে থাকা দুইটি গরু পুড়ে ছাই। কিন্তু আমরা যে কতটা অসহায়, আগুন লাগার সাথে সাথে গফরগাঁও ফায়ার সার্ভিসে কল দেয়া হয়। কিন্তু দীর্ঘ ৩ ঘন্টার ভিতরে অনেক বার কল দেওয়া হলেও কোনো সাহায্য পাওয়া যায়নি। ওদের বার বার লোকেশন দেওয়ার পরেও গ্রামে পৌছায়নি। ওদের কাছে আমাদের গ্রাম বাসীর জীবনের কোনো মূল্য নাই। তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য আবেদন করেন।
এবিষয়ে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসার রাম প্রাসাদ পাল গণমাধ্যমকে বলেন, সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি বেরিয়ে যায় । কিন্তু বালির রাস্তায় বড় গাড়ি আটকে গিয়ে পথে দেরি হয়। পরে আবার অফিসে ফিরে ছোট গাড়ি নিয়ে রওনা হলে রাস্তায় সংবাদ পাই আগুন নিয়ন্ত্রণে। পরে ঘটনাস্থলে না গিয়ে আমরা ফিরে আসি।
কৃষক বাছির মিয়া বলেন, আমি নিঃস্ব হয়ে গেলাম ৩২ হাত লম্বা ঘর, দুইটি গরু, নগদ ৮৫ হাজার টাকা, আসবাবপত্র সবই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এবিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন,অগ্নিকান্ডের বিষয়টি আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। তবে, যদি এই ঘটনায় কারো অবহেলা থেকে থাকে তাহলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।