loading...

কুলাউড়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার আওয়ামীলীগের কয়েকটি পরিবার

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক আমেরিকা প্রবাসী ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক প্রতিহিংশার শিকার কুলাউড়ার ভাটেরা ইউনিয়নের কয়েকটি পরিবার।

গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করা কে কেন্দ্র করে এবং এলাকার উন্নয়নের কাজ ও জনসেবা করতে গিয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছে ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকী নানু সহ বেশ কয়েকজন।

মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা লাভ করায় পরিকল্পিত ভাবে ষড়যন্ত্র মূলকভাবে তাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে আমেরিকা প্রবাসী ইলিয়াস খসরু ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১১ টার দিকে আমেরিকা প্রবাসী ইলিয়াস খসরু ছেলে নাহিদ নেশাগ্রস্থ হয়ে বেপোরোয়া ভাবে মটোরসাইকেল চালানোর সময় অপর দিক থেকে আসা ভাটেরা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলামের মটরসাইকেল কে ধাক্কা দেয়। তখন কামরুল মাটিতে পরে গিয়ে পায়ে ব্যথা পায়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে তর্কবির্তক জড়িয়ে পড়লে নাহিদ কামরুল কে অক্ষত ও নোংরা ভাষায় গালাগালি করেছে।

এই ঘটনার জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সকল প্রস্তুতি নিয়ে ইলিয়াস খসরু তার চাচাতো ভাই সিরাজ কে দিয়ে ওই দিন সন্ধ্যায় সমাধানের নাম করে তাদের সন্তাসীর আস্তানা ভাটেরা ষ্টেশন বাজারের চাঁদনি হোটেলে ডেকে নিয়ে যায়, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এলাকার প্রবীন মুরুব্বী হাজী মর্তুজ আলী সিদ্দিকী কে। সেখানে গেলে অন্যায় ভাবে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে মর্তুজ আলী কে।

বাধা দিতে গিয়ে তাদের বিএনপি জামাতের সন্তাসী বাহিনী দিয়ে ছালিক মিয়া (৫৫) ও নজরুল ইসলাম (৩৫) কে মার্তক ভাবে জখম করে। এছাড়াও লকুছ মিয়া (৫০), কলা মিয়া সিদ্দিকী (৪৫), রিপন মিয়া (৩০) ও তাজুল মিয়াসহ কয়েক জন কে আহত করে। পরে পুলিশ ঘটনারস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় মর্তুজ আলী কে কুলাউড়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। অন্য আহত ব্যক্তিরা বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, আমেরিকা প্রবাসী ইলিয়াস খসরু এলাকায় প্রভাববিস্তার করতে গিয়ে সব সময় এলাকার সাধারণ মানুষ কে হয়রানিসহ নানা কার্যকলাপ করে আসছে। এছাড়া স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খসরুর চাচাতো ভাই থাকার সুবাদে চেয়ারম্যানের ভাড়াটে সন্তাসী বাহিনী দিয়ে বিভিন্ন অপক্রর্ম কার্যকলাপ চালায়। যার ফলে এলাকার মানুষ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না।

এলাকা সূত্রে জানা যায়, ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকী নানুর সামাজিক অঙ্গণে ব্যাপক পরিচিতি ও সুনাম রয়েছে বর্তমানে তিনি সাইফুল তাহমিনা আলিম মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি, ভাটেরা ষ্টেশন বাজার বণিক সমিতির সাবেক কয়েক বারের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্টানের সাথে জড়িত। বিগত জেলা পরিষদ নির্বাচনে সদস্য পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করে ২য় হয়েছেন। উনার পরিবারে সবাই আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত।

বিগত তিন টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে উনার বড় ভাই সাইফুল আলম সিদ্দিকী প্রতিদ্বিন্ধিতা করেন। ওনার ছোট ভাই ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হাজী নুরুল আলম সিদ্দিকী এলকাছ কে ওই রাজনৈতিক প্রতিহিংশার মামলায় ২নং আসামী করা হয়েছে। সেও ভাটেরা ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত রয়েছে।

স্থানীয় প্রবীন মুরুব্বী ফারুক মিয়া সিদ্দিকী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা সাংবাদিক বন্দুদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে আমার ভাতিজা নানু-সহ অন্যদের ব্যক্তিগত ইমেইজ নষ্ট করতে লিপ্ত হয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করানো হচ্ছে।

শুধু তাই নয় রাজনৈতিক শত্রুরা কৌশলে ছিনতাইয়ের ঘটনায় ফাঁসিয়ে মামলা করেন কুলাউড়া থানায়। এ ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের পেক্ষিতে ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নান কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তিনি ওইদিন তাঁর আপন চাচা মরহুম সোহাগ মিয়া সিদ্দিকীর দাফন কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

এছাড়াও বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করেন। শুধু তাই নয় নির্বাচনে নৌকার অফিস ভাঙচুর অগ্নিসংযোগের দুইটি মামলার বাদী ছিলেন আব্দুল হান্নান। এলাকার সাধারণ মানুষ মনে করছেন তাই ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষ আব্দুল হান্নান কে উদ্বেশ্যমূলক ভাবে এধরনের মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ওনি একজন শান্তিপ্রিয় ও সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠনের বিভিন্ন পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

কুলাউড়া ভাটেরা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বদরুল আলম সিদ্দিকী নানু বলেন, আমাদের উত্থান ও জনপ্রিয়তার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রতিপক্ষরা এধরনের রুটিন মাফিক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার হাস্যকর এক ছিনতাই মামলায় আমাকে জড়ানো ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ। তাই, এই ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রনোদিত আজগুবি সংবাদে বিভ্রান্ত না হতে আইন শৃখংলাবাহিনী,সাংবাদিক বন্ধু, রাজনৈতিক, সু-শীল সমাজ ও শুভাকাঙ্খী সহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: শামিম মূসা বলেন, এঘটনায় ২জন কে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে। আসা করি খুব দ্রুত প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।

 

loading...
%d bloggers like this: