loading...

দু’টি মামলার পৃথক রায়ে পাচারে এক ব্যক্তির ২০ বছর ও যৌতুকে এক যুবকের ৩ বছর কারাদণ্ড

0
শেখ আমিনুর হোসেন,সাতক্ষীরা ব্যুরো চীফঃ

সাতক্ষীরায় পৃথক দুটি পাচার ও যৌতুক মামলার রায় ঘোষনা করা হয়েছে। মামলা দুটির মধ্যে পাচার মামলায় গনেশ চন্দ্র মন্ডল (৪০) নামে এক ব্যাক্তিকে ২০ বছর বিনাশ্রম কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানাসহ অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ড ও অপর যৌতুক মামলায় সালাউদ্দিন সরদার (২৮) নামে এক যুবককে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অনাদায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিয়েছে আদালত।

জরিমানা পরিশোধ করতে না পারলে আরও ছয় মাস সাজা ভোগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার উক্ত মামলা দুটির রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলো,পাচার মামলার গনেশ চন্দ্র মন্ডল সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈকারী ইউনিয়নের বলদঘাটা গ্রামের গোপাল চন্দ্র মন্ডলের ছেলে। অপর যৌতুক মামলার সালাউদ্দিন সরদার জেলার আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে।

পাচার মামলার বিবরণে জানা যায়, রাজধানীর মিরপুর ১২ নম্বরের সাত্তার সাহেবের বস্তিতে বসবাসরত এক গার্মেন্টস কর্মীর (২৫) সাথে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলে একই এলাকায় বসবাসরত হাড়ি-পাতিলের ব্যবসায়ী গনেশ চন্দ্র মন্ডল।
এক পর্যায়ে গনেশ চন্দ্র মন্ডল ওই গার্মেন্টস কর্মীর সাথে মর্জিনা নামে এক মহিলার পরিচয় করিয়ে দেয়। মর্জিনা বিয়ের কথা বলে ওই গার্মেন্টস কর্মী ও তার এক সহকর্মী (১৬) কে ২০০৮ সালের ২২ মে বাসযোগে সাতক্ষীরা নিয়ে এসে গনেশ মন্ডলের কাছে দিয়ে যায়।
গনেশ মন্ডল মোটরসাইকেলে করে তাদের সদর উপজেলার মাহমুদপুর সীমান্তের দিকে নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় বাজারের লোকজনের সন্দেহ হয়। তারা স্থানীয় মেম্বরকে সাথে নিয়ে ওই দুই গার্মেন্টস কর্মীর কাছে কোথায় যাচ্ছে জানতে চাইলে তারা জানায়- গনেশ বিয়ের কথা বলে তাদের এখানে নিয়ে এসেছে।
তখন স্থানীয় মেম্বর খোঁজখবর নিয়ে জানতে পারে- গনেশ তাদের ভারতে পাচারে উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে। তখন ওই মেম্বর পুলিশে খবর দেন এবং পুলিশ এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে ওই গার্মেন্টস কর্মী গনেশ ও মর্জিনাসহ তিনজনের নামে মামলা দায়ের করে।
এ মামলায় সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত গনেশ চন্দ্র মন্ডলকে ২০ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন এবং মর্জিনাসহ অপর দুই আসামিকে খালাস দেন।

অপর যৌতুক মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৩ সালে আশাশুনি উপজেলার গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে সালাউদ্দিন সরদারের সাথে শ্রীকলস গ্রামের রমজান আলীর মেয়ে সেলিনা খাতুনের বিয়ে হয়।
বিয়ের সময় রমজান আলী জামাই সালাউদ্দিন সরদারকে নগদ টাকাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র দেন। তাদের সংসারে একটি ছেলে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। ছেলের বয়স যখন পাঁচ বছর তখন সেলিনা খাতুন আবারও গর্ভধারণ করেন।
সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সালাউদ্দিন সরদার তাকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু করেন। এক পর্যায়ে নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সেলিনা খাতুন বাবার বাড়িতে ফিরে আদালতে মামলা করেন।
ওই মামলায় আদালতের নির্দেশে আর নির্যাতন করবেন না মর্মে মুচলেকা দিয়ে সেলিনা খাতুনকে আবার বাড়ি নিয়ে যান সালাউদ্দিন সরদার। কিন্তু ২০১০ সালের ১৭ আগস্ট ফের সালাউদ্দিন সরদার, তার ভাই রবিউল ইসলাম, বাবা বজলুর রহমান ও মা লাইলি বেগম তার উপর ৩০ হাজার টাকা যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন শুরু করেন।
এই ঘটনায় ওই বছরের ১৮ আগস্ট নির্যাতনের শিকার সেলিনা খাতুনের মা রেবেকা খাতুন চারজনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় আদালত তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ ও নথি পর্যালোচনা করে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সালাউদ্দিন সরদারকে এ সাজা দেন। মামলার অপর তিন আসামিকে খালাস দেন আদালত।
সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার বাবু মামলা দুটির বিষয় নিশ্চিত করে জানান, রায় ঘোষণার সময় যৌতুক মামলার আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং পাচার মামলার আসামী পলাতক ছিল।
loading...
%d bloggers like this: