loading...

২৪ ঘন্টার মধ্যে ময়মনসিংহে কলেজছাত্র শাওন হত্যার রহস্য উদঘাটন, আটক ৭

0

ঘটনায় ২৪ ঘন্টার মধ্যে ময়মনসিংহ নগরীতে ছুরিকাঘাতে নিহত শাওন ভট্টাচার্য (১৯) হত্যার রহস্য উদঘাদন করেছে জেলা পুলিশ। এ ঘটনায় ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মুল আসামীসহ ৭জনকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত মুল আসামী মাহফুজুল ইসলাম মাহিন (১৮)সহ ২জনকে আদালতে হাজির করলে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করে। মাহিন সুইজ গিয়ার চাকু দিয়ে শাওনকে আঘাত করেছে বলে আদালতে স্বীকার করেছে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ সুপার শাহ আবিদ হোসেন তার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি একথা জানান। এ সময় পুলিশ সুপার হুমায়ন কবীর, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আমিন, ডিবির ওসি শাহ কামাল আকন্দ, কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম ও পুলিশ পরির্দশক শাকের আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ৮অক্টোবর মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নগরীর গোলপুকুরপাড় পূজা মন্ডপের প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতিকালে শাওন ভট্টাচার্যসহ অনেকেই আনন্দ করছিলো। কেউ কেউ মদ্যপায়ী ছিল। ওই সময় ৩টি বহিরাগত গ্রুপ (মুন্না গ্রুপ, আবির গ্রুপ ও মাহিন গ্রুপ) নাচিনাচির এক পর্যায়ে মাহিন গ্রুপ ও আবির গ্রুপের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। এর সুত্র ধরে ৩ গ্রুপের মধ্যে মারপিট শুরু হয়। এক পর্যায়ে মাহিন তার ডান প্যান্টের পকেট থেকে সুইজ গিয়ার চাকু বের করে এবং ধস্তাধস্তির সময় প্রথমে আবির আহত হয়। পরে শাওনের বুকে ছুড়িকাঘাত করে তারা দৌড়ে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত শাওনকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করে।

নিহত যুবক শাওন ভট্টাচার্য্য স্থানীয় মোমেনশাহী কমার্স কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র এবং নগরীর ব্রাহ্মপল্লী এলাকার শুভাশিস ভট্টাচার্যের পুত্র। তাদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। ঘটনার খবর পেয়ে তাৎনিক ঘটনাস্থলে যান জেলা পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আবিদ হোসেন।

এ ঘটনায় নিহত শাওনের বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় এজাহার করে। পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভূক্ত আসামী মাহিন, আকাশ, রাকীব, হৃদয়, ফারদিন, সাজ্জাদ ও মুন্নাসহ ৭জনকে গ্রেফতার করে। তারা সকলেই নগরীর ৩টি এলাকা থেকে এসে একত্রিত হয়ছিল। এদের বয়স ১৮ থেকে ১৯ বছর।

আসামী মাহিন জানায়, সে চকবাজার বাজার মা স্টোরের মালিক ইসলাম উদ্দিনের কাছ থেকে বিক্রি নিষিদ্ধ চাকুটি কিনেছিল। পুলিশ ৬মাস আগে এসব চাকু বিক্রি নিষিদ্ধ করেছিল।

পুলিশ সুপার জানান, ঐদিন রাত ৮টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বেধে দিলেও তা মানেননি এই পূজা মন্ডপ কমিটি। দিনের বেলায় বিসর্জন দিলে হয়তো অনাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটত না। এছাড়াও সাংবাদিক সম্মেলনে পুজা উদযাপন পরিষদের নেতা এড, তপন দে, শংকর সাহা, রকেট চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।

শাওনের পিতা শুভাশীষ ভট্টাচার্য ও শাওনের মা বলেন, আমরা ছেলে হত্যাকারীদের দৃস্টান্তমুলক শাস্তি চাই। আমরা গরীব মানুষ। আমরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ দিকে কমার্স কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র শাওন ভট্টাচার্য্যকে হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ সহপাঠীরা নতুন বাজার কলেজের সামনে বুধবার সকাল ১১টায় ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করে। এতে কয়েকশত শিক্ষার্থী অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে শাওন হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।

loading...
%d bloggers like this: