হালুয়াঘাটে নতুন পর্যটন স্পট হচ্ছে গাবরাকালী

0

মোঃরফিকুল্লাহ চৌধুরী মানিক হালুয়াঘাট(ময়মনসিংহ)প্রতিনিধিঃ

হালুয়াঘাটে নতুন করে সন্ধান মিলেছে দৃষ্টিনন্দন আরেকটি পর্যটন স্পটের। ! নিসর্গের মধ্যে লুকিয়ে থাকা এক অপরূপ বন। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার একেবারে প্রান্তসীমায় এক নির্জন স্থানে তার অবস্থান। এ স্পটটি যেন নিসর্গের এক আদর্শ উদ্যান। বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে গাবরাখালী একটি ‘সোয়াম্প বন’। এ যেন প্রদীপের নিচে অন্ধকারের মতো বনটি আবহমানকাল থেকে এখনো টিকে আছে। মেঘালয়ের কোল ঘেঁষে অপরূপ সুন্দর পাহাড়ি গ্রাম গাবরাখালী, ’ আসলেই এটি তেমনই একটি অপরূপ সুন্দর স্পট।

ময়মনসিংহ -হালুয়াঘাট সড়ক ধরে পাহাড়ি সীমান্ত গাবরাখালী। হালুয়াঘাট সদর থেকে উত্তর দিকে মাত্র চার কিলোমিটার দূরত্বের মধ্যেই বনটির অবস্থান। বনটিতে রয়েছে গজারি-হিজল-করচ-জারুল-বরুন-শেওড়া-বুরি আর কদমের লম্বা লম্বা সারি। গাছগুলো একটি আরেকটিকে ঘিরে ধরেছে। শতবর্ষী একেকটি হিজলগাছ নিজের ডালপালা আর পাতা দিয়ে অনেক জায়গাজুড়ে অবস্থান করছে। প্রবল বর্ষায় সে যেন নবরূপে জেগে ওঠে। বনের বিচিত্র সব গাছ, স্থলচর আর প্রাণী নিয়ে তার নিজের একান্ত ভুবন। শতাব্দীর পর শতাব্দী কিভাবে এটি যে পর্যটকদের দৃষ্টির আড়ালে থেকে গেছে সে এক রহস্য।

বৈশিষ্ট্যগত দিক দিয়ে পাহাড়ি গাবরাখালী বন একটি থ‘সোয়াম্প বন’। গজারি গাছকে কেন্দ্র করে বনটির ’ইকোসিস্টেম’ তথা পুরো অস্তিত্ব নির্ভরশীল। ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার একেবারে প্রান্তসীমায় গারো পাহাড়ে এর অবস্থান।

বনের ভেতরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, মুর্তা, বেত, হোগলা আর শনের ঘন জঙ্গল। বড়গাছগুলোর নিচের এসব ঝোপঝাড় দেখলে মনে হতে পারে, ছোট গাছগুলোকে যেন এরা মায়ের মতো আদরের চাদরে ঢেকে রেখেছে। সন্ধ্যার আলো-আঁধারীতে এক একটি হিজল গাছকে মনে হয় গভীর ধ্যানে মগ্ন একেকজন দরবেশ। দিগন্তের ওপারে মেঘালয় পাহাড়ের হাতছানি মনকে আকুল না করে পারে না।

গাবরাখালী বন জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ একটি বন। বিচিত্র প্রজাতির উদ্ভিদ,স্থলচর প্রাণীর এক সমৃদ্ধ আবাসস্থল। বনের মধ্যে দেখা মেলে উদবিড়াল, গেছো ইদুর, কাঠবিড়ালী, খেকশিয়ালসহ নানা প্রজাতির প্রাণী। প্রজাতির পাখির আশ্রয় এই বনে। বিশেষ করে, শীতকালে পরিযায়ী পাখির কলকাকলীতে মুখর থাকে এ বন।

এত আকর্ষণের কথা শুনে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসন ও হালুয়াঘাট উপজেলা প্রশাসনে সকল কর্মকর্তা আজ শুক্রবার ১৩ নভেম্বর ২০২০ বন বিভাগের নথিপত্রে বনটির কোজ খবর নেন ও সরেজমিন পরিদর্শন করেন ও জেলা প্রশাসক বলেন অতি তাড়াতাড়ি এখানে একটি পর্যটক স্পট করা হবে। পর্যটক স্পট কথা শুনে উপজেলা বাসী আনন্দিত। প্রাচীনকালের কোনো এক সময়ে প্রকৃতি যেভাবে এটিকে গঠন করেছিল, আজো বনটি সেভাবে আছে। নিজের অফুরন্ত সম্পদ দিয়ে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এটি মানুষের প্রয়োজন মিটিয়েছে, ভারসাম্য রক্ষা করেছে পরিবেশ ও প্রকৃতির। গাবরাখালী নামক গ্রামটির মানুষের কাছে বনটি সুপরিচিত হলেও বাইরের মানুষের কাছে এটি অজানা রয়ে গেছে।

%d bloggers like this: