হালুয়াঘাটে ধান ক্ষেতে ভিন্ন পদ্ধতিতে মাচায় লাউ চাষ

0

মোঃরফিকুল্লাহ চৌধুরী মানিক হালুয়াঘাট(ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ

ময়মনসিংহ হালুয়াঘাটে কৃষকের মুখে হাসি এনে দিয়েছে ধান ক্ষেতে মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষে। গত কয়েক বছর ধরে ধান ক্ষেতের মাঝে আইল করে আধুনিক এ পদ্ধতি অবলম্বন করে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ শুরু করেছেন এখানকার কৃষকরা এবং এতে বেশ লাভবানও হচ্ছেন তারা। দিন দিন এমন চাষের দিকে অন্য কৃষকরাও ঝুঁকে পড়ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর হালুয়াঘাটে ২০০ হেক্টর জমিতে লাউ চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ। উপজেলার ১২ ইউনিয়নের প্রায় সবগুলোর কৃষক বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করছেন, তবে হালুয়াঘাটের পাহাড়ি সিমান্ত ৪নং ইউনিয়নের গোবরাকুরা গ্রামে সবচেয়ে বেশী, এবং অনেক সাফলতাও পাচ্ছেন। তাই ধান ক্ষেতের মাচায় লাউ চাষকারীর সংখ্যা প্রতি বছরই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

উপজেলার বিলডোরা , ধুরাইল, গোবরাকুরা ও নড়াইল ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মাঠেই লাউ চাষ করা হয়েছে। বছর দুই আগেও মাঠে এভাবে লাউ চাষ দেখা যায়নি।

গোবরাকুরা মাঠে লাউ ক্ষেতে কর্মরত কৃষক শামীম মিয়া বলেন, ‘মাচায় লাউ চাষ তুলনামূলক ব্যয়কম ও এ পন্থায় চাষ করলে ফলন বেশি পাওয়া যায়।’

সাধারণত এ অঞ্চলে বাড়ির আঙিনায় ছোট মাচা অথবা ঘরের চালে লাউ চাষ করা হতো। সেই লাউ পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে আত্মীয়স্বজনের মাঝে বিতরণ বা বাজারে বিক্রি করা হতো। বলা চলে গৃহিণীরা শখের বশে বাড়ির আঙিনায় লাউ গাছ লাগাতেন। তবে বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় কৃষকরা এখন ঘরের আঙিনা থেকে লাউকে নিয়ে গেছেন মাঠে। আর মাঠে তা বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে মাচা করে।

শামীম মিয়া, আলমগীর হোসেনও নজরুল ইসলাম জানান, লাউ চাষের মাচা করতে বেশ খরচ হয়। তবে, সেচ, সার ও কীটনাশক অন্য ফসলের মতো প্রয়োগ করতে হয় না। ফলে গড় খরচ বেশি না হওয়ায় কৃষকরা লাউ চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন।

তারা আরও জানান, বর্তমানে হালুয়াঘাটে বাজারে প্রতিটি লাউ খুচরা ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে লাউয়ের ব্যাপক চাহিদা, দামও ভালো, সে কারণে কৃষকরা এ বছর বেশ লাভবান হয়েছেন। তবে বছরের প্রায় পুরো সময়জুড়ে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে লাউ গাছের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে, তারপরও গাছে যে পরিমাণ ফলন হয়েছে তাতে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন বলে মনে করছেন তারা।

হালুয়াঘাট কাঁচাবাজারের আড়তদার নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘লাউ প্রতিটি পরিবারে এখন জনপ্রিয় এক সবজি। বাজারে অন্য সবজির তেমন চাহিদা না থাকলেও লাউয়ের বেশ চাহিদা। প্রতি হাটে ময়মনসিংহ সদর, গাজীপুর,ও কাওরানবাজার সহ বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যাপারিরা আসেন এবং লাউ কিনে ট্রাক বোঝাই করে নিয়ে যান।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান বলেন, হালুয়াঘাট অঞ্চলের প্রতি ইঞ্চি মাটি ধান-পাটসহ সব ধরনের সবজি চাষে অত্যান্ত উপযোগী। এ জনপদের কৃষকরা বর্তমানে বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ শুরু করেছেন। লালতীর ও হাজারী- মূলত এ দুই জাতের লাউ চাষ বেশি হচ্ছে। কৃষকরা যাতে আরও বেশি চাষে মনোযোগী হন সে জন্য কৃষি অফিস কাজ করে যাচ্ছেন।

%d bloggers like this: