হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনাদর্শ হোক আমাদের চলার পথের পথেয়।

0

ইয়াসির আরাফাত ভূঁইয়া (বিশেষ প্রতিবেদক) :-

আজ পবিত্র ১২ রবিউল আউয়াল। মানব ইতিহাসে এক মহিমান্বিত ও গুরুত্বপূর্ণ দিন। কেননা, ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দের আজকের দিনেই সৌদি আরবের মক্কা নগরে ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ (সা.) জন্মগ্রহণ করেন। ৬৩২ খ্রিষ্টাব্দের একই দিনে তিনি ইন্তেকাল করেন। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর এই দিনটি মুসলমানদের কাছে বিশেষ গুরুত্ববহ।

সারা আরব বিশ্ব যখন হিংসা–বিদ্বেষ আর অনাচারে ডুবে গিয়েছিল, তখন মহান আল্লাহপাক তাঁর প্রিয় হাবিব বিশ্বনবী (সা.)-কে বিশ্বজগতের রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছিলেন। তিনি ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। এরপর বিশ্ববাসীকে মুক্তি ও শান্তির পথে আহ্বান জানান। সব ধরনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বহন করে এনেছিলেন তিনি। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। তাঁর শিক্ষায় শিক্ষিত মুসলমানরা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিশ্বে শান্তি, কল্যাণ ও জ্ঞানের আলো জ্বালিয়ে রাখছেন। ইসলামের এই মহানবী নবুয়তপ্রাপ্তির আগেই খ্যাতি অর্জন করেছিলেন ‘আল-আমিন’, অর্থাৎ বিশ্বাসী হিসেবে। তাঁর মধ্যে সম্মিলন ঘটেছিল সমুদয় মানবীয় সদ্‌গুণের: করুণা, ক্ষমাশীলতা, বিনয়, সহিষ্ণুতা, সহমর্মিতা, শান্তিবাদিতা। অসাধারণ চিন্তাশীল ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন তিনি। চিন্তাকে কাজে রূপ দিতে তাঁর সমগ্র জীবন হয়ে ওঠে বিপুল কর্মময়।

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর জমিনে আল্লাহর বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেছেন। মদিনায় রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর মদিনা সনদ প্রণয়নের মাধ্যমে গোটা বিশ্বে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধানপ্রণেতা হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর পুরো জীবনীতে রয়েছে মানবজাতির জন্য শিক্ষণীয় বিষয়। তিনি ছিলেন মুসলমানদের রাসুল; কিন্তু অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষকেও তিনি ভালোবাসতেন সমানভাবে। সব রকম বৈষম্যের বিরুদ্ধে তাঁর জীবনাচরণ ছিল অনন্য উদাহরণ। কিন্তু বর্তমান মুসলমান সমাজে মহানবীর নীতি ও আদর্শ থেকে অনেক দূরে চলে এসেছে বলে হানাহানি বেড়েছে। জ্ঞান–বিজ্ঞানের চর্চা থেকে তারা অনেক দূরে সরে গেছে বলেই মুসলিম বিশ্ব পিছিয়ে আছে। অথচ তিনি জীবনের অন্যতম আদর্শ ছিল জ্ঞানান্বেষণ।

আজকের পৃথিবীতে যে হিংসা-হানাহানি চলছে, তা থেকে পরিত্রাণে এই মহান ব্যক্তিত্বের দেখানো শান্তি ও সমঝোতার কোনো বিকল্প নেই। আসুন, আমরা সবাই মহানবী (সা.)-এর আদর্শে উজ্জীবিত হই। তাঁর জীবনদর্শন হোক আমাদের চলার পথের পাথেয়।

%d bloggers like this: