স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতার দাফন সম্পন্ন, বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যানসহ গ্রেফতার ৪

0

স্টাফ রিপোর্টার : ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক ও গৌরীপুর বি আর ডি বি’র চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান শুভ্র (৩২) কে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার আরও দুই জনকে কুপিয়ে আহত করা হয়। আহতরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে দশটার দিকে গৌরীপুর পৌর শহরে মধ্যবাজার শহরে পান মহাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।নিহত শুভ্র উপজেলার পৌর শহরের কালিপুর এলাকার ডাঃ সিদ্দিকুর রহমান বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার ভোরে জেলার তারাকান্দা থানার গাছতলা এলাকা থেকে ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া রিয়াদের সহযোগী জাহাঙ্গীর, মুজিবর ও রাসেল নামে তিন যুবককে গৌরীপুর উপজেলার কাউরাট গ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি  সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখের হোসেন সিদ্দিকী।শুভ্র হত্যার প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে পৌর শহরে বিক্ষোভ মিছিল করেন আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের লোকজন।  এদিকে দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে প্রধান অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদের বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাংচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্দরা। এছাড়া অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করা হয় পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের বাসভবন, স’মিল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। অপরদিকে বালুয়াপাড়া এলাকায় রিয়াদের শশুর মৃত নুরুল ইসলামের বাসায় অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করে বিক্ষুব্দরা। ময়মনসিংহ জেলা ও ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসব আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন শহরের পান মহালের আব্দুর রহিমের চায়ের দোকানে মাসুদুর রহমান শুভ্র তাঁর ৪/৫জন সহযোগীদের নিয়ে চা পান করছিলেন। এসময় দু’টি সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে ৮/১০জন অস্ত্রধারী নেমে হঠাৎ শুভ্র’র ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাত থেকে রক্ষা পেতে শুভ্র তখন দৌড়ে পার্শ্ববর্তী মসল্লা
মহালে একটি ঔষধের দোকানে ওঠেন। সেখানে হামলাকারীরা তাকে এলোপাথারীভাবে কুপিয়ে মারাত্মক রক্তাত্ব জখম করে চলে যায়। এসময় শুভ্র’র দুই সহযোগী জাহাঙ্গীর ও আল-আমীনকেও রক্তাক্ত জখম করা হয়।আহত শুভ্রকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এদিকে শুভ্র’র মৃত্যুর খবরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করতে শুরু করে। পুলিশের হস্তক্ষেপে রাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও রবিবার ভোর থেকেই এলাকার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্দ লোকজন শহরের বিভিন্ন সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করে টায়ার জ্বালিয়ে
হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উত্তেজিত লোকজন প্রধান অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ইউপি চেয়ারম্যানের শহরের উত্তর বাজারের বাসভবনে হামলা চালিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন।একপর্যায়ে লোকজন পৌর মেয়রের বাসাতেও হামলা চালিয়ে ক্ষতি সাধন করে।গৌরীপুর উপজেলা

স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সোহেল রানা জানান, গত বছর জিয়াউর রহমানের শাহাদত বার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে শুভ্র’র সাথে চেয়ারম্যান রিয়াদের হাতাহাতি হয়। তখন এ ঘটনাটি তাৎক্ষনিক বেশী দূর এগোয় নি। এর পর থেকেই রিয়াদ ও শুভ্রর বিরোধের সৃষ্টি হয়। তিনি বলেন, অনেকেই মনে করেন লাঞ্চিত হওয়ার জেদ মেটাতেই রিয়াদ তার দলবল নিয়ে শুভ্রর ওপর হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে। স্থানীয় কয়েকজন আওয়ামীলীগ নেতার ধারনা, অন্যদল থেকে দলের ভেতর অনুপ্রবেশকারী কতিপয় নেতাদের মদদে এ পরিকল্পিত হত্যাকান্ডটি সংগঠিত হয়েছে।তারা শুভ্র হত্যাকারীদের ক্রসফায়ারে মৃত্যুর দাবি জানান। গৌরীপুর থানার ওসি বোরহান উদ্দিন খান সাংবাদিকদের জানান, আটকের পর এ হামলার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ। তিনি বলেন, কি কারনে এ হত্যাকান্ড ঘটেছে তা এই মূহুর্তে বলা যাবে না। মামলার প্রক্রিয়া চলছে। অধিকতর তদন্ত শেষে হত্যাকান্ডের আসল কারন জানা যাবে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ,র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। রবিবার বাদ আছর গৌরীপুর কেন্দ্রিয় ঈদগাহ মাঠে নিহত শুভ্রের জানাযার নামাজ শেষে তার মরদেহ পৌর করবস্থানে দাফন করা হয়।
জানাজার নামাজে আওয়ামী লীগ ও তার সকল সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী, সমর্থকসহ স্থানীয় কয়েক হাজার মুসল্লী অংশগ্রহন করেন।এর আগে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শুভ্রের মরদেহ শহরে কালিপুর এলাকায় নিজ বাসায় আনার পর তার পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ। শুভ্র’র এমন মৃত্যু কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন তার পরিবার ও স্থানীয় লোকজন। জানাযা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

%d bloggers like this: