ঢাকা ২৭.৯৯°সে ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

জরায়ু টিউমার সমস্যার হোমিও প্রতিবিধান

সাধারণত মহিলাদের গর্ভধারণের জায়গাটির নাম জরায়ু। জরায়ুর বিভিন্ন  লেয়ার রয়েছে। তার মধ্যে একটি হচ্ছে মায়োমেট্রিয়াম। মায়োমেট্রিয়াম থেকে উৎপন্ন এক প্রকার বেনাইন টিউমারকে ফাইব্রয়েড বা জরায়ুর টিউমার বলে। বিভিন্ন কারণে জরায়ুর টিউমার হতে পারে। তবে আসলে সঠিক কোন কারণে জরায়ুর টিউমারের জন্য দায়ি তা অজানা। তবে কিছু কারণকে জরায়ুর টিউমারের জন্য দায়ী করা হয়। যেমন-ইস্ট্রোজেন হরমোনের আধিক্যের কারণে হতে পারে। জরায়ুর আঘাত জনিত কারণে হতে পারে।
 মহিলাদের প্রজননক্ষম বয়সে জরায়ুতে সবচেয়ে বেশি যে টিউমারটি হতে দেখা যায় তা হলো ফাইব্রয়েড বা মায়োমা।আর
জরায়ুর মাংসপিণ্ড থেকে যে টিউমার হয় সেগুলোই জরায়ুর টিউমার হিসেবে পরিচিত। তবে মাংসপিণ্ড ছাড়াও জরায়ুর ভেতরে এবং বাইরের অংশ থেকেও টিউমার হতে পারে। অনেকে মনে করে, জরায়ুতে টিউমার বেশি বয়সে এবং বিবাহিতদের হয়। কিন্তু অবিবাহিত ও অল্প বয়সীদেরও এটি হতে পারে।
 ★ অবিবাহিত মেয়েদের হওয়ার কারণঃ-এখনো সুস্পষ্টভাবে জরায়ু টিউমারের কারণ জানা যায়নি। তবে কিছু ক্ষেত্রে বংশগত, আবার কিছু গ্রোথ ফ্যাক্টর ও জিনগত কারণকে দায়ী মনে করা হয়। অবিবাহিত বা বিবাহিত মেয়েদের জরায়ুতে টিউমার হওয়ার জন্য আলাদা কোনো কারণ নেই।
★পরীক্ষা-নিরীক্ষাঃ-
জরায়ুর টিউমারের জন্য প্রথমত, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং শুধু একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি করলেই বোঝা যায়। জরায়ুর পেশির অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে এই টিউমারের সৃষ্টি হয়। ৩০ বছরের ঊর্ধ্বে নারীদের মধ্যে ২০ শতাংশই এই সমস্যায় আক্রান্ত। ফাইব্রয়েড এক ধরনের নিরীহ টিউমার, এটি ক্যানসার বা বিপজ্জনক কিছু নয়।
তবে দুটো সমস্যার কারণে সুচিকিৎসা দরকার। এক. এর ফলে অতিরিক্ত মাসিক হওয়া এবং তার জন্য রক্তশূন্যতা হতে পারে। দুই, এটিকে বন্ধ্যাত্বের একটি অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।এ ধারণা সব সময় সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না-ও হতে পারে। কেননা ২৫ শতাংশ ফাইব্রয়েড টিউমার আজীবন কোনো সমস্যাই করে না। মোটামুটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কমবেশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বা অনিয়মিত মাসিক বা তলপেট ভারী বোধ হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ হয়।২৭ থেকে ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রেই কেবল এটি বন্ধ্যাত্বের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
জরায়ু টিউমার এর কারণ ও লক্ষণ সমূহ:
অনেক সময় গাত্রে বা জরায়ু গহ্বরে নানা ধরনের টিউমার সৃষ্টি হতে পারে। এর আকার মটরকলই থেকে আধা কেজি পর্যন্ত এবং এক সাথে ৮-১০টি পর্যন্ত হতে পারে। কোনো কোনো টিউমার থেকে পুঁজ রক্ত বের হতে পারে কারণ : সঠিক কারণ জানা যায়নি তবে নিম্নের কারণগুলো অনেক ক্ষেত্রেই এর সৃষ্টির জন্য দায়ী।যেমন-১. যে কোনো বয়সেই হতে পারে, তবে ৩০-৪৫ এর মধ্যে বেশি হয়। ২. বন্ধ্যা, এক সন্তানবিশিষ্টদের বেশি হয়।
৩. জরায়ু পেশির ওপর অনবরত চাপ পড়া, জোর পড়া।
৪. বংশগত কারণ।
৫. হাইপার আসট্রিনিজম।
লক্ষণ : ১. বহুদিন স্থায়ী ঋতু, পেট কেটে ফেলার ন্যায় বেদনা, কাটা বর্ণের প্রদর স্রাব। অতি দুর্গন্ধযুক্ত প্রদর হয়।
২. শীর্ণতা, তৎসহ যথেষ্ট ক্ষুধা ও পিপাসা।
৩. জরায়ুতে জারাকর বেদনা, পেট ফাঁপা, মূত্ররোধ।
৪. প্রচুর পরিমাণে বহু দিন স্থায়ী ঋতু স্রাব
৫. ফুসকুড়ির মতো টিউমার, সঙ্গমকালে বেদনা।
৬. অত্যধিক শিরা স্ফীত, ঋতুস্রাবের পর প্রচুর ঘাম।
৭. ঋতুর আগে ও পরে প্রচুর কালো দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব।
৮. জরায়ুর মধ্যস্থ সৌত্রিক টিউমার হতে রক্ত স্রাব তৎসহ পিটে বেদনা। প্রাথমিক অবস্থা থেকেই লক্ষণ দেখে চিকিৎসা নিলে এ সমস্যা থেকে আরোগ্য লাভ করা যায়।অবস্থান গত কারণে কিছু কিছু অসুখকে মা বোনেরা  সর্বদা গোপন রাখেন! যা একেবারেই উচিত নয়। সামাজিক কারণেই আমাদের দেশের নারীরা নিজের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে সচেতন নন। আজও বহু নারী নিজের লজ্জাস্থানে কোন অসুখ হলে সেটিকে লুকিয়ে রাখেন এবং তিল তিল করে নিজেকে ঠেলে দেন বড় একটি অসুখ কিংবা মৃত্যুর দিকে!ঠিক তেমনই একটি অসুখ হচ্ছে গোপন অঙ্গে ইনফেকশন, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারী বুঝতেও পারেন না যে তিনি এই রোগটির শিকার। লজ্জা নয়, সচেতনতা জরুরী। চলুন, বিস্তারিত জেনে নিই নারীর সেই অসুখটির কথা যেটা আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও চিকিৎসা করানো খুবই জরুরী!আপনার যোনির চারপাশে কি চুলকায় প্রায়ই? অস্বস্তি হয়, আশেপাশের চামড়া লাল হয়ে যায়? গোপন স্থানটি থেকে দুর্গন্ধ আসে, অস্বস্তিকর সাদা স্রাব হয় বা প্রস্রাবে জ্বালা পোড়া করে? এই সবই হতে পারে যোনি প্রদাহ
 এর লক্ষণ।ভয় পাবেন না, এই রোগটি পৃথিবীতে মিলিয়ন মিলিয়ন নারীর হয়ে থাকে প্রতিবছর। তবে হ্যাঁ, এর উপযুক্ত চিকিৎসা করানো অত্যন্ত জরুরী।যোনি প্রদাহ এর লক্ষণ
অনেক নারীর ক্ষেত্রেই তেমন কোন লক্ষণ দেখা যায় না বা অনেকের আবার মৃদু লক্ষণ থাকে। নিয়মিত গাইনির ডাক্তার দিয়ে চেকাপ করালে এই অসুখটি থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। সাধারণত যে লক্ষণগুলো দেখা দেয় সেগুলো হচ্ছে- গোপন অঙ্গে দুর্গন্ধ হওয়া বা দুর্গন্ধ যুক্ত সাদা স্রাব হওয়া
-প্রস্রাবের জন্য জ্বালা পোড়া করা ও ব্যথা হওয়া যোনির চারপাশে চুলকানি ও অস্বস্তি অনাকাঙ্ক্ষিত রক্তপাত
যৌন মিলনের সময় অস্বস্তি
-যোনির চারপাশের ত্বকে লাল র‍্যাশ হওয়া বা চামড়া লাল হয়ে যাওয়াএই লক্ষণগুলোর যে কোনটি দেখা গেলেই অবিলম্বে ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। অন্যান্য লক্ষণ দেখা না গেলেও দুর্গন্ধ চুলকানি খুবই সাদারন সমস্যা। তাই এই সমস্যা গুলো নিজের মাঝে দেখলে লজ্জা না করে অবিলম্বে ডাক্তারের কাছে যান।
★যেই সব কারণের জন্য
বন্ধ্যাত্বঃ-* যদি ফাইব্রয়েডের কারণে জরায়ু অতিরিক্ত বড় হয়ে যায়, * জরায়ুর ভেতরের দেয়ালে রক্তনালির সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ভ্রূণ ঠিকমতো বেড়ে উঠতে পারে না, *  জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের সংযোগস্থলে বা এমন কোনো জায়গায় টিউমারটির অবস্থান হয়, যা ভ্রূণকে সুস্থিত হতে বাধা দেয়।যাঁদের বন্ধ্যাত্বের মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে বা বারবার গর্ভপাত হচ্ছে, তাঁদের ফাইব্রয়েড থাকলেও বন্ধ্যাত্বের অন্য কারণগুলোকে শনাক্ত করা উচিত।
★হোমিও প্রতিবিধান: রোগ নয় রোগীকে চিকিৎসা করা হয়। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় আধুনিক ও অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে কোনো ধরনের অস্ত্রোপচার ও কষ্টকর থেরাপি ছাড়াই সুস্থতা লাভ করা সম্ভব এবং রোগীর লক্ষণগুলো সংগ্রহ করে সঠিক ওষুধ নির্বাচন করতে পারলে তাহলে ব্রেস্ট টিউমার ও জরায়ু টিউমার চিকিৎসা হোমিওতে চিকিৎসা দেয়া আল্লাহর রহমতে সম্ভব।
লেখক
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, হিউম্যান রাইটস রিভিউ সোসাইটি কেন্দ্রীয় কমিটি
কো-চেয়ারম্যান, হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর