ঢাকা ৩১°সে ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

যেসব লক্ষণে বুঝবেন শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি রয়েছে

স্বাস্থ্য ডেস্ক :

শরীরে প্রোটিনের যথেষ্ট অভাব রয়েছে কিন্তু টের পাচ্ছেন না। প্রোটিনের অভাবে স্বাস্থ্য ভেঙে যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে পারেন আপনি। আমাদের শরীরে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কোষের জন্ম হচ্ছে। এই কোষ তৈরিতে প্রোটিন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আর তাই আমাদের শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি যাতে না হয়, তার জন্য বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

আমাদের শরীরে যে প্রোটিনের অভাব রয়েছে, তা কতগুলো লক্ষণ দেখলেই বোঝা যায়। চলুন সেগুলো সম্পর্কে জেনে নিই-

শরীর দুর্বল ও ক্লান্ত লাগা প্রোটিন শরীরে শক্তি জোগায়। তাতে কাজ করতে ইচ্ছে করে। যদি শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি থাকে তাহলে ক্লান্তি লাগতে পারে। ঘুম-ঘুম ভাব থাকতে পারে। সাধারণত যেমন ক্লান্ত লাগে, তার থেকে বেশিই ক্লান্তি আসতে পারে। কাজের মাঝে ক্লান্ত বোধ করা স্বাভাবিক। কিন্তু ক্লান্তিভাব যদি অতিরিক্ত মাত্রায় বোধ হয় তাহলে তা প্রোটিনের ঘাটতির লক্ষণ।

ঘন ঘন অসুস্থ হয়ে পড়া, বা সুস্থ হতে সময় লাগা ইত্যাদিও শরীরে প্রোটিনের অভাবের দরুণ দেখা দেয়। প্রোটিন শরীরে কোষ গঠনে সাহায্য করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। তাই শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিলে শরীর সুস্থ হয়ে উঠতে সময় লাগে।

পেশিতে জোর না পাওয়া পেশি গঠনে ও মজবুত করতে সাহায্য করে প্রোটিন। তাই বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, যারা বডি বিল্ডিং করেন বা মাসল বিল্ডিং করেন, তারা প্রোটিন জুস বা শেক খেয়ে থাকেন। যদি শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি থাকে, তাহলে পেশিতে জোর থাকবে না। কোনো ভারী জিনিস তুলতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। প্রোটিন আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অ্যান্টিবডি নির্মাণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্কমতা বাড়ানোর সাথে গভীরভাবে সম্পর্কিত। সুতরাং যখন প্রোটিনের ঘাটতি হয় তখন ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ঠান্ডা লেগে যাওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

খিদে বেড়ে যাওয়া প্রোটিন শরীরের অন্যতম প্রয়োজনীয় মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টস। যদি শরীরে এর ঘাটতি থাকে তাহলে শরীর ক্ষুধার পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়ে তা মেটানোর চেষ্টা করে। এই ক্ষুধা যদি কোনো প্রসেসড ফুড বা জাঙ্ক ফুড দিয়ে মেটানো হয়, তাহলে ওজন বেড়ে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। হজমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। ওজন হ্রাস করতে চাইলে হাই প্রোটিন খাদ্য তালিকার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু শরীরে প্রোটিনের অভাব হলে খিদে বেড়ে যায়।

অল্প বয়সে বার্ধক্য এসে যাওয়া ২০১৯ সালে ইন্ডিয়ান ডারমেটোলজি অনলাইন জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রোটিনের ঘাটতি ত্বক, চুল ও নখের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যার ফলে ত্বকের বলিরেখা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বার্ধক্যজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে। হাড় এবং পেশী দুই’ই প্রোটিনের অভাবে দুর্বল হয়ে যায়। শক্তিশালী হাড়ের জন্য প্রোটিন অত্যন্ত অপরিহার্য। প্রোটিন ক্যালসিয়ামের শোষণ বৃদ্ধি করে যা হাড়কে শক্ত করে রাখে।

চোখ এবং হাত ফুলে যাওয়া প্রোটিনের অভাবে দেহে ফোলাভাব তৈরি হতে পারে। আর এই সমস্যা থেকেই লিভার নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও থাকে। প্রোটিন শরীরে নতুন কোষ তৈরি করতে সাহায্য করে। আর তাই প্রোটিনের অভাবে শরীরে পানি জমতে শুরু করে, যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যেতে শুরু করে। বিশেষত চোখ এবং হাতে ফোলাভাব বেশি নজরে পড়ে।

এছাড়া অ্যানিমিয়াও হতে পারে। অ্যানিমিয়া এমন একটি রোগ যেখানে শরীর পর্যাপ্ত পরিমাণে লাল রক্ত কণিকা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়। প্রোটিন কম খাওয়া হলে শরীরের নানা জায়গা ফুলে যায়। একে ইডিমাও বলা হয় থাকে। যে অঙ্গগুলো বেশি ফোলে সেগুলো হলো- হাত, পা, পায়ের পাতা, পেট। এর একটা সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হল, রক্তের মধ্যে সংবহন হওয়া প্রোটিন, বিশেষত অ্যালবুমিন আমাদের টিস্যুতে তরল জমতে দেয় না। ফলে প্রোটিনের ঘাটতি হলেই পানি জমার প্রবণতা বেড়ে যায়।

নখ সাদা হয়ে যাওয়া প্রোটিন নখের স্বাস্থ্য রক্ষা করে থাকে। নখ সাধারণত হালকা গোলাপি রঙয়ের হয়ে থাকে। যদি মনে হয় নখের রঙ অনেকটা সাদা অথবা ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে শরীরে প্রোটিনের অভাব দেখা দিয়েছে। প্রোটিন আপনার শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি অ্যান্টিবডি নির্মাণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। নখের সমস্যাও প্রোটিন শরীরে কম ঢোকার আর একটি লক্ষণ। নখ একটু বিবর্ণ হয়, লম্বা লম্বা দাগের মতো হয় নখের উপরে। বিশেষ করে হাতের নখে। সুতরাং যখন প্রোটিনের ঘাটতি হয় তখন ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে।

ত্বক রুক্ষ ও শুষ্ক হয়ে যাওয়া প্রোটিনের অভাবে ত্বক অনেক বেশি রুক্ষ আর শুষ্ক হয়ে যায়। ত্বকের মসৃণতা নষ্ট হয়ে যায়। এমন ধরনের সমস্যাতেও বুঝতে হবে শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি রয়েছে। প্রোটিনের ঘাটতি থেকে চুলের সমস্যা দেখা দেয়। চুল উঠতে থাকে ক্রমাগত। পাতলা হয়ে গিয়ে টাক পড়ার অবস্থা হয়।এর পাশাপাশি প্রোটিনের ঘাটতি আমাদের চামড়ার সমস্যা তৈরি করে। ত্বক শুকনো, খসখসে হয়ে যায়। র‌্যাশ বেরোয়। অনেক সময়ে চামড়া ফেটে যায়। এ ছাড়া নখের সমস্যাও প্রোটিন শরীরে কম ঢোকার আর একটি লক্ষণ। নখ একটু বিবর্ণ হয়, লম্বা লম্বা দাগের মতো হয় নখের উপরে। বিশেষ করে হাতের নখে।

চুল পাতলা হয়ে যাওয়া নখ ও চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন একটি সাহায্যকারী উপাদান। চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকসময়ে বংশগত কারণেও হতে পারে। কিন্তু তা যদি বেশি পরিমাণে হতে থাকে তাহলে বুঝতে হবে শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। প্রোটিন চুলের একটি অপরিহার্য উপাদান। লম্বা এবং শক্তিশালী চুলের বৃদ্ধির জন্য প্রোটিন খুবই আবশ্যক। সুতরাং যখন এই অপরিহার্য ম্যাক্রোনিউট্রিয়েন্টের অভাব ঘটে আপনার চুল দুর্বল হয়ে যায়, ভঙ্গুর হয়ে যায় এবং চুল পড়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।




আপনার মতামত লিখুন :