ঢাকা ৩৬°সে ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ক্যানসার প্রতিরোধ করে ফুলকপি

স্বাস্থ্য ডেস্ক :

শীতকালের ফুলকপি স্বাদে উৎকৃষ্ট। আমাদের দেশে, ফুলকপি সাদা এবং হালকা হলুদ বা বাদামী বর্ণের পাওয়া গেলেও, বাইরের দেশে সাদা,হলুদ বা পার্পল বর্ণেরও পাওয়া যায়। ফুলকপি শুধু স্বাদের জন্যই নয়, এতে থাকা সালফার সুস্বাস্থ্য ধরে রাখার জন্য উপকারী। যকৃৎ থেকে ক্ষতিকর বিষাক্ত উপাদান দূর করে এটি সুস্থ রাখতে পারে ফুলকপি। ফুলকপির বিশেষ কিছু গুণ আছে, যা সবার জেনে রাখা ভালো।

ফুলকপিতে রয়েছে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’, ‘কে’, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ও জিংক।[২] একটি মাঝারি আকারের ফুলকপিতে রয়েছে শক্তি-২৫ কিলোক্যালরি, কার্বোহাইড্রেট-৪.৯৭ গ্রাম , প্রোটিন-১.৯২ গ্রাম , ফ্যাট-০.২৮ , আঁশ-২ গ্রাম, ফোলেট-০.৫৭ মাইক্রোগ্রাম, নিয়াসিন-০.৫০ মাইক্রোগ্রাম, থায়ামিন-০.০৫ , প্যানথানিক এসিড-০.৬৬৭ মাইকোগ্রাম। ফুলকপি পুষ্টিসমৃদ্ধ সবজি। এর পাতার উপরিভাগে ক্যানসার নিরোধক উপাদান পেয়েছেন বলে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন।

ভিটামিন, মিনারেল, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোকেমিকেলসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদানে ভরপুর এই সবজি। চিকিৎসকদের মতে ক্যানসার প্রতিরোধক ফুলকপি। ফুলকপির সালফোরাফেন ক্যানসারের স্টেম সেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে এবং বিভিন্ন ধরনের টিউমারের বৃদ্ধি প্রতিহত করে। আর এই সালফোরাফেন উপাদান রক্ত চাপ কমায়। যার ফলে হৃদযন্ত্র ভালো রাখে।

ফুলকপিতে রয়েছ অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি। যা ‘অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি নিউট্রিয়েন্টস’, যা শরীরের দহন প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে ফুলকপিতে। শরীরে কর্মক্ষম বজায় রাখার জন্য সঠিক পরিমাণে পুষ্টির জোগায় ফুলকপি। নিয়মিত ফুলকপি খেলে দেহের প্রয়োজনীয় পুষ্টি চাহিদা পূরণ হয়। শীতে ডায়েটের চার্টে ফুলকপি রাখা অত্যন্ত জরুরি।

গবেষণায় দেখা গেছে, ফুলকপি মস্তিষ্ক ভালো রাখে। সর্দি-কাশিসহ নানা রোগ প্রতিরোধ করে। ফুলকপিতে আছে ভিটামিন বি যা মস্তিষ্কের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুদের ফুলকপি খাওয়া উচিত।

ফুলকপিতে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রয়েছে যা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং কার্ডিয়াক কমপ্লিকেশনস প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।

সুস্বাদু এই সবজিতে খুব ভাল পরিমাণে ফাইবার রয়েছে যা কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেটের নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।পাশাপাশি,যারা ওজন কমাতে চান তাদের জন্য সঠিক পরিমাণে ফাইবারের চাহিদা পূরনের জন্য খাদ্য তালিকায় এই সবজিটি রাখতে পারেন।

ফুলকপিতে আছে ভিটামিন ‘বি’, ‘সি’ ও ‘কে’থাকার ফলে রোগ প্রতিরোধ করে। বিশেষ করে শীতকালে সর্দি, ঠান্ডা, কাশি জ্বর ভাব, নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, গা-ব্যথা দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ফুলকপির আরও সব প্রয়োজনীয় উপাদান রোগ প্রতিরোধেও অংশ নেয়।

হজমে সহায়ক ফুলকপি। এই সবজি ফাইবার খাবার হজম হতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।

ফুলকপিতে আছে প্রচুর আয়রন। রক্ত তৈরিতে আয়রন রাখে গুরুত্বপূর্ণ অবদান। গর্ভবতী মা ও অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করা মানুষের জন্য ফুলকপি অত্যন্ত জরুরি।

দৃষ্টিশক্তি বাড়ায় ফুলকপি। চোখের যত্নে ফুলকপির কোনো তুলনা হয় না। ফুলকপিতে থাকা ভিটামিন ‘এ’ চোখের দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। চোখ সুস্থ রাখতে বেশি করে ফুলকপি খাওয়া উচিত।

এছাড়া ফুলকপি চুল ও ত্বকের জন্য উপকারী। কম ক্যালরিযুক্ত ও উচ্চমাত্রার আঁশসমৃদ্ধ ফুলকপি চুল ভালো রাখে। ত্বকের সংক্রমণও প্রতিরোধ করে।

যাদের থাইরয়েডের সমস্যা রয়েছে তাদের উচিত যতদিন পর্যন্ত থাইরয়েড নিয়ন্ত্রণে না আসে ততদিন পর্যন্ত ফুলকপি খাদ্য তালিকা থেকে বাদ দেয়া। যদি খুব বেশি খেতে ইচ্ছা করে সেক্ষেত্রে সীমিত পরিমাণে খুব ভালভাবে সিদ্ধ করে খাওয়া।

যারা সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন তাদেরও অতিরিক্ত পরিমাণে ফুলকপি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ, বেশি পরিমাণে খেলে গ্যাস্ট্রিক হবার সম্ভাবনা রয়েছে। একজন মানুষকে সুস্থ থাকার জন্য সারাদিনে ৪০০-৪৫০ গ্রাম ফল এবং শাকসবজি অর্থাৎ ফাইবার গ্রহণ করা উচিত।




আপনার মতামত লিখুন :