সুযোগ পেলে মানুষ অনেক আগেই জিয়ার খেতাব বাতিল করত’

0

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সুযোগ পেলে দেশের মানুষ অনেক আগেই সেক্টর কমান্ডার ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বীর উত্তম খেতাব বাতিল করত বলে মন্তব্য করেছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের খেতাব বাতিলের প্রস্তাবটি যথার্থ। বাংলার মানুষ সুযোগ পেলে অনেক আগেই সেটি বাতিল করত।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে গণ আজাদী লীগ আয়োজিত ‘মুজিব শতবর্ষে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডটি কোনো ব্যক্তির হত্যাকাণ্ড নয়; এটি বাংলাদেশকে হত্যা করার পরিকল্পনা। ১৫ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান বেনিফিশিয়ারি। পঁচাত্তর পরবর্তীতে তিনি জাতির পিতার খুনিদের লালন পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার যাতে না হয়; সে ইনডেমনিটি অধ্যদেশটি আইনে পরিণত করেছিলেন জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু খুনিদের সংসদে এনেছেন জিয়া। এরশাদ, খালেদা জিয়াও সে পথে চলেছেন।’

জিয়াউর রহমানের শাসনামলকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাইকোর্ট-সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করেছে। পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ হওয়ায় জিয়ার শাসনামল অবৈধ। তার সকল কার্যক্রম অবৈধ। তার সকল কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রবিরোধী। তিনি অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন। মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের লালন করেছেন। তার মুক্তিযুদ্ধেও খেতাব রাখতে দেয়া যায় না।’

বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধাদের বাদ দিয়ে যারা দেশ চালাতে চেয়েছিলেন তারা ব্যর্থ হয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছি। উন্নত দেশের স্বপ্ন দেখছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

খালিদ মাহমুদ বলেন, আমরা রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধুর সান্নিধ্য পাইনি। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ছিলাম না। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি। আমরা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম। বঙ্গবন্ধুর জীবন থেকে যা পেয়েছি; মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ গড়তে চাই। আমরা রাজনীতি করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

গণ আজাদী লীগের সভাপতি অ্যাড. এস কে সিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তথ্য প্রতিমন্ত্রী মো: মুরাদ হাসান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু আহমেদ মন্নাফী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মহাসচিব ড. নাসির উদ্দিন খান।

%d bloggers like this: