ঢাকা ২৯.৯৯°সে ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

সিলেটে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত নগরীর মানুষ

ঈদ উল ফিতর উপলক্ষে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সিলেট নগরীর মানুষ। সকাল থেকে শুরু করে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনার ধুম। ক্রেতাদের ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা। চলমান লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই চলছে ঈদের বাজার। করোনার ব্যাপক সংক্রমণের মধ্যে এমন জনস্রোতে উদ্বিগ্ন সচেতন মহল। অন্য দিকে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে শপিংমলগুলোয় সরকারি নির্দেশনার কোনো প্রতিফলনও তেমন পরিলক্ষিত হয়নি। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত বিপণিবিতানেও মানুষের ভিড়। কোলের শিশুটিও ঈদের কেনাকাটার ভিড়ে যুক্ত হয়েছে। তারাও মানুষের ভিড় ঠেলে বাড়ি ফিরছে। সরেজমিন নগরীর শপিংমল গুলোয় স্বাস্থ্যবিধির কোনো বালাই চোখে পড়েনি। বেশির ভাগের মুখে মাস্ক ছিল না। সচেতনতা ছিল না বিক্রেতাদের মধ্যেও। বেশির ভাগ শপিংমলগুলোতে ছিল না জীবাণুনাশক টানেল। কোথাও মানা হচ্ছে না যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি। স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার শর্তে বিপণিবিতান খোলা রাখা হলেও বিষয়টি সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থাকছে।

জিন্দাবাজার, নয়াসড়ক ও বন্দরবাজারের বেশ কয়েকটি অভিজাত দোকানগুলোয় উপচে পড়া ভিড়। অনেকটা ঠেলাঠেলি করে কেনাকাটায় ব্যস্ত ক্রেতারা। করোনা মহামারির এই সংকটে শিশুদের নিয়ে নিশ্চিন্ত মনে দোকানে দোকানে ঘুরছেন অভিভাবকরা। দোকানে দোকানে ভিড় করা এসব মানুষের অনেকে মাস্ক পর্যন্ত ছিল না। শারীরিক দূরত্বের বালাই নেই বললেই চলে। এই দৃশ্যগুলো ভাবিয়ে তুলেছে সচেতন মানুষকে।

এদিকে, করোনা পরিস্থিতির কারণে চলমান লকডাইন ও বর্ডার দিয়ে পণ্য সরবরাহ বন্ধ থাকায় সিলেটের মার্কেটগুলো পোশাক সংকটে পড়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ভারতীয় পোশাক আমদানি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন তারা। সেই সাথে পছন্দসই পোশাক না পেয়ে হতাশ ক্রেতারা। কারণ সিলেটে ক্রেতাদের পছন্দের অগ্রভাগে থাকে ভারতীয় পোশাক। এবার ভারতীয় পোষাক নেই। কিন্তু সিলেটের পোশাক বাজারে ভারতীয় ও বিদেশী কাপড়ের ‘কপি’ পোশাকে সয়লাব। কিন্তু এগুলো মানহীন।

এদিকে, পোশাকের দাম বেড়েছে দ্বিগুণ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সুতাসহ অন্যান্য কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কাপড়ের দাম বেশি। ঈদের বাজারে শতকরা ৭৫ ভাগ কাপড়ই থাকতো ভারতের। সেই জায়গায় গত দুই বছর ভারত থেকে কোনো পণ্যই আসছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে দেশীয় পোশাকের বাজারে এটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। এবছর দেশীয় গার্মেন্টেসে তৈরি ভারতীয় ও পাকিন্তানী কাপড়ের কপি পোশাকই চলছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। রেডি আনরেডি ত্রি-পিস ও শাড়ির চাহিদাই বেশি। পাশাপশি দেশীয় সুতির কাপড়েরও চাহিদা রয়েছে। ভারতীয় জর্জেট, কাতান এবং পাকিস্তানী বারিস কাপড়ের চাহিদা বেশি। দাম বেশি নিলেও কপি পোশাকের কোয়ালিটি নিয়ে সন্তুষ্ট নন ক্রেতারা।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর