সাবেক সংসদ সদস্য ও ভাষাসৈনিক শহীদুল্লাহ্ এর মৃত্যুতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর শোক

0

মোঃ সাদেকুল ইসলাম,মুক্তাগাছা ময়মনসিংহ :

মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, ভাষাসৈনিক, সাবেক সংসদ সদস্য এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর খোন্দকার আব্দুল মালেক শহিদুল্লাহ (৮৫) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) ভাষাসৈনিক ও সাংবাদিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক খন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহর মৃত্যুতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী কে এম খালেদ এম পি গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

বহুগুণের অধিকারী মহান এই ব্যক্তির মৃত্যুতে মুক্তাগাছা বাসি সহ দেশবাসী একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক নেতা ও সংগঠককে হারালো। মঙ্গলবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২১) বিকেল ৩টায় মুক্তাগাছার নন্দীবাড়িতে নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন এই ভাষাসৈনিক। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই ছেলেসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় মুক্তাগাছার নন্দীবাড়িতে স্টেডিয়াম মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। খোন্দকার আব্দুল মালেক শহীদুল্লাহ বাংলদেশের ময়মনসিংহ জেলার রাজনীতিবিদ, ভাষাসৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাংবাদিক, পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য ও মুক্তাগাছা পৌরসভার সাবেক চেয়ারম্যান। খন্দকার আবদুল মালেক শহীদুল্লাহ ১৯৩৬ সালে ময়মনসিংহ জেলার মুক্তাগাছার খন্দকার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা খন্দকার মরহুম আবদুল মান্নান। পিতা মরহুম আব্দুল মান্নান পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন।

খোন্দকার আব্দুল মালেক ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় তৎকালীন মহকুমা জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ কো-অপারেটিভ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ছাত্রদের সঙ্গে ভাষা আন্দোলনের মিছিলে যোগ দেন নবম শ্রেণির কিশোর। তার বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় হলেও বাবার সরকারি চাকরির কারণে ওই স্কুলে পড়তেন তিনি। আন্দোলনে যোগ দেওয়ায় স্কুল থেকে হয়েছিলেন বরখাস্ত। ভাষা আন্দোলনে যুক্ত থাকায় সে সময় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে ফেরারি আসামি হিসেবে তাকে বহিষ্কার করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ছাত্রত্ব বাতিল হওয়ার পর আর কোনো প্রতিষ্ঠানে পড়ার সুযোগ মেলেনি আব্দুল মালেকের। ছাত্রত্ব বাতিলের পর আন্দোলন-সংগ্রামকেই জীবনের ব্রত করে নিয়েছিলেন খন্দকার আব্দুল মালেক। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মুক্তাগাছা আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হন। বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন তিনি। স্বাধীনতার পর মুক্তাগাছা পৌরসভার নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৫৩ সালে মুক্তাগাছায় শাসনতন্ত্র প্রতিরোধ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।

১৯৫৬ সালে মুক্তাগাছা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি একাধারে একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, সংগঠক, ও রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক সংবাদসহ কয়েকটি পত্রিকার মুক্তাগাছা প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৬৪ সালে মুক্তাগাছা পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও আসামের গৌহাটি থেকে ‘মুক্তি’নামক সাপ্তাহিক পত্রিকা ইবনে আদম ছদ্মনামে বের করতেন। তিনি ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ সালে পর্যন্ত মুক্তাগাছা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। খোন্দকার আব্দুল মালেক শহিদুল্লাহ ছাত্রাবস্থায় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।

পরে বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও রফিক উদ্দিন ভূঁইয়ার কমিটিতে তিনি বৃহত্তর ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। সম্প্রতি তিনি বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার পাশাপাশি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর স্বাদ আস্বাদন করেন।

%d bloggers like this: