সরকারী জায়গা থেকে উচ্ছেদের দাবীতে ইউএনও অফিস ঘেড়াও

0

স্টাফ রিপোর্টার:

নাটোরের সিংড়া উপজেলার বড়চৌগ্রাম পুকুরপাড় এলাকার একই পরিবারের ৪দাঙ্গাবাজের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী ও তাদেরকে সরকারী খাস জায়গা থেকে উচ্ছেদের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ঘেড়াও করেছে এলাকাবাসী। সোমবার দুপুরে বড় চৌগ্রাম এলাকার প্রায় ৪শ নারী-পুরুষ ঘন্টাব্যাপী ইউএনও অফিস ঘেড়াও করে রাখে। এসময় তারা তাদের দাবী সম্বলিত একটি কপি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে হস্তান্তর করে। স¤প্রতি পুকুরপাড় এলাকায় নির্মিয়মান একটি মসজিদের মাটি ভরাটকে কেন্দ্র করে ওই চারজন মসজিদ কমিটির বর্তমান সহ সভাপতির ছোট ভাই ও ভাস্তেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক হেলাল হোসেন ও সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ শেখ জানান, ২০১০ সালে ১৪ শতক সরকারী খাস জায়গা পত্তন নিয়ে তাতে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এলাকাবাসী ওই মসজিদের নিয়মিত মুসল্লি। প্রায় একই সময়ে পার্শ্ববর্তি গ্রামের মকবুল হোসেন তার সন্তান রনি, গোলাম ও স্ত্রী রমিছা বেগমসহ মসজিদের জায়গার পার্শ্ববর্তি প্রায় ২৫ শতক খাস জায়গার দখল নিয়ে বাড়ি-ঘর নির্মান করে বসবাস করতে থাকে। মুসল্লিদের মতামত ও সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মসজিদটির পাকাঘর নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে মসজিদ কমিটি। সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের অংশ ইউনিয়ন ভূমি সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মসজিদের জায়গার সীমানা নির্ধারণ করা হলেও মকবুল ও তার পরিবারের সদস্যরা তা প্রকাশ্যে তুলে ফেলে দেয়। এছাড়া গত ৭ এপ্রিল মসজিদের জায়গায় মাটি ফেলতে গেলে গাড়ির ড্রাইভারকে মারতে উদ্যত হয় মকবুলরা। এসময় বাধা দিতে গেলে মকবুল ও তার পরিবারের অপর তিন সদস্য আব্দুল হামিদের ছোট ভাই হালিম ও ভাস্তে শামিমকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। এসময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে হালিমের মেরুদন্ডের পাশে জখম হয়ে যায়। তাদের দুইজনকেই বর্তমানে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এঘটনায় ৮ এপ্রিল আব্দুল হামিদ শেখ বাদি হয়ে উল্লেখিত চারজনের বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ রমিছা বেগম ছাড়া তিনজনকে গ্রেফতার করে। সকল আসামীদের গ্রেফতার,দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও মুসল্লিদের ইবাদত এবং সাধারণ গ্রামবাসীদের শান্তিপূর্ণ বসবাসের স্বার্থে সরকারী খাস জায়গা থেকে তাদেরকে উচ্ছেদের দাবীতে রবিবার দুপুরে ইউএনও অফিস ঘেড়াও করে গ্রামবাসীরা।
বিষয়টি সম্পর্কে যোগাযোগ করা হলে সিংড়া থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং মামলার আইও এসআই শাহআলম জানান, রবিবার বিকেলে তিন আসামীকে কোর্টে চালান দেয়া হয়েছে।
এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ইউএনও(ভারপ্রাপ্ত) মুশফিকুর রহমান গ্রামবাসীদের বিক্ষোভ ও দাবী সম্বলিত কাগজ প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আসামীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

%d bloggers like this: