সরকারী আইন তোয়াক্কা না করেই চলছে গৌরীপুরের ডেলটা স্পিনিং মিল

0

খাইরুল ইসলাম আল আমিন:

সরকারি নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গলি দেখিয়ে চলছে ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া এলাকায় ডেলটা স্পিনিং টেক্সটাইল লিঃ নামে বৃহৎ এ মিলটি। অভিযোগ ওঠেছে মিলটিতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ছুটি দেয়া হয়না শ্রমিকদের। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সর্তক করা হলেও বিষয়টি আমলে নিচ্ছেন না সংশ্লিষ্ট মিল কর্তৃপক্ষ। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মিলের শ্রমীকরা কাজে যাচ্ছে বরাবরের মতই। গোটা কয়েকজনের মুখে মাস্ক থাকলেও বেশিরভাগ শ্রমীকের মাস্ক নেই। নোভেল করোনা ভাইরাসের কারনে যেখানে সারা বিশ্ব থমথমে সেখানে মিলের কর্মকর্তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

নিজেরাও মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করছেন না। নাম মাত্র হাত ধুয়ার ব্যবস্থা করলেও শ্রমীকরা হাত ধুয়ে প্রবেশ করছে কিনা তার তদারকি করা হচ্ছে না। ওয়াসরুমে নেই সাবানের ব্যবস্থা, চিকিৎসা সেবা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় চিকিৎসকের নেই মাস্ক, গ্লাভস। এক্ষেত্রে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মন্তব্য মহান দিবসগুলোতে সরকারি ছুটির নির্দেশনা না মেনে মিল খোলা রাখার বিষয়টি এদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করার সামিল। স্থানীয় লোকজন জানান, প্রতি বছরের মত এবারও মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ছুটি মেলেনি এ মিলে কর্তব্যরত শ্রমিকদের। শুধু স্বাধীনতা দিবস নয় বিজয় দিবস, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও কাজ করতে হয় এ মিলের শ্রমিকদের। তারা জানান, মিল প্রতিষ্ঠার পর থেকে সরকারি ছুটির নির্দেশনাকে অমান্য করে চললেও অজ্ঞাত কারনে এ মিল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না স্থানীয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে এ মিলে শ্রমিকদের কাজে যোগদান করতে দেখা যায়। এসময় নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শ্রমিক সাংবাদিকদের জানান, মহান দিবসসহ অন্যান্য সরকারি ছুটির দিনেও তাদেরকে কাজ করতে হয়। এ নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে মিল কর্তৃপক্ষ তাদের চাকুরী থেকে ছাঁটাইয়ের হুমকী দিয়ে থাকেন। তাই নিরবে এসব বৈষম্য সহ্য করে পেটের দায়ে তারা চাকুরী করে আসছেন। গৌরীপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুর রহিম জানান, এ মিলের মালিকরা তো এ দেশেরই নাগরিক। তাই এদেশের নাগরিক হয়ে মহান দিবসগুলোতে সরকারি ছুটির নির্দেশনা না মানার বিষয়টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অস্বীকার করার সামিল। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে এ মিলসহ অন্যান্য মিল কর্তৃপক্ষকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে একাধিকবার লিখিতভাবে সতর্ক করা হলেও বিষয়টি তারা আমলে নিচ্ছেন না।

এদিকে নোভেল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে  সারাদেশে যেখানে সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান ছুটি ঘোষনা করা হয়েছে, জন সমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ডেলটা স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মাহমুদুল হাসান বলেন জনসমাগমেও আমাদের সমস্য নেই। আমাদের মিলের ভিতরে যে পরিমান তাপ বিরাজ করে তাতে করোনা ভাইরাস নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। আমাদের শ্রমিকদের কোন সমস্যা হবেনা। আর  শ্রমিকদের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে সরকারি ছুটির দিনে মিল খোলা রেখেছি। এই ছুটিটা আমরা ঈদের মধ্যে বাড়িয়ে দেবো। এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সেঁজুতি ধরকে অবগত করা হলে তিনি জানান, তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছে পরবর্তিতে যেন আর এমন না করে।

%d bloggers like this: