ঢাকা ৩০.৯৯°সে ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রেসক্লাব ছাড়াও বিকল্প সাংবাদিক সংগঠন প্রয়োজন কেন ?

সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে সাংবাদিক নির্যাতন উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কখনো ক্ষমতাশীন রাজনৈতিক দলের নেতা, কখনো আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা এ নির্যাতন হচ্ছে। দেশে অনিয়ম দূর্নীতির সাথে সাংবাদিক নির্যাতন সমান্তরাল ভাবে চলে। এর কারণ কি? দেশে সুস্থ রাজনৈতিক চর্চা না থাকায় লুটেরা ও অনিয়মকারীরা সাংবাদিকদের একমাত্র প্রতিপক্ষ ভাবে। বিশেষকরে মফস্বলে সাংবাদিক নির্যাতনের নগ্ন রূপ দেখা যায়।

আমরা অনেকেই ভাবতে পারি না, মফস্বলের সাংবাদিকদের কতটা বৈরী পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয়। অপ্রিয় সত্য না লিখলে কোনো সমস্যা নেই। এ ধরনের অনুগত সাংবাদিকদের ক্ষমতাশালীরা খুবই পছন্দ করে। ইনাম বকশিস দেন। কিন্তু সত্য কথা লিখলেই নেমে আসে চাপ, হুমকি, মামলা, জেল ও শারীরিক নির্যাতন। সম্প্রতি এরূপ মামলায় জেল খেটেছেন অনেক সাংবাদিক। এখানে স্থানীয় প্রেসক্লাব পেশাজীবি সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ায় সারা দেশে সাংবাদিক সমাজের মাঝে বিস্ময়ের উদ্রেক হয়েছে। এজন্যই সাংবাদিক সমাজে দ্বিধা বিভক্তি দেখা যায়। দেখা দেয় বিকল্প সাংবাদিক সংগঠন গঠনের।

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। আমাদের দেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে সাংবাদিকতা পেশাটি মহান হলেও মারাত্মক চ্যালেঞ্জিং। বিভিন্ন দেশের গনমাধ্যমগুলো তাদের নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। সাংবাদিকতার সংজ্ঞা দিতে গেলে তা ব্যাপক।

উইকিপিডিয়ার মতে, সাংবাদিকতা হল বিভিন্ন ঘটনাবলী, বিষয়, ধারণা ও মানুষ সম্পর্কিত প্রতিবেদন তৈরি ও পরিবেশন, যা উক্ত দিনের প্রধান সংবাদ এবং তা সমাজে প্রভাব বিস্তার করে। এই পেশায় শব্দটি দিয়ে তথ্য সংগ্রহের কৌশল ও সাহিত্যিক উপায় অবলম্বনকে বোঝায়। মুদ্রিত, টেলিভিশন, বেতার, ইন্টারনেট এবং পূর্বে ব্যবহৃত নিউজরিল সংবাদ মাধ্যমের অন্তর্গত। সাংবাদিকতার যথোপযুক্ত নিয়মের ধারণা ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কিছু দেশে সংবাদ মাধ্যমে সরকারি হস্তক্ষেপে নিয়ন্ত্রিত হয় এবং পুরোপুরি স্বাধীন সত্তা নয়।

অন্যান্য দেশে, সংবাদ মাধ্যম সরকার থেকে স্বাধীন কিন্তু লাভ-লোকসান সাংবিধানিক নিরাপত্তার আওতায় থাকে। স্বাধীন ও প্রতিযোগিতামূলক সাংবাদিকতার মাধ্যমে সংগ্রহ করার মুক্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যে প্রবেশাধিকার জনগণকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যোগ দিতে সাহায্য করে।

সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। আমাদের দেশের মতো উন্নয়শীল দেশে সাংবাদিকতা পেশাটি মহান হলেও মারাত্মক চ্যালেঞ্জিং। সাংবাদিকরা জাতির বিবেক, সমাজের দর্পণ। জনমত সৃষ্টিতে সাংবাদিকরা কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের দেশের সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকগণ আজ দ্বিধাবিভক্ত। প্রতিনিয়তই দেশের সাংবাদিক সমাজ হামলা, মামলা ও দলাদলির শিকার হচ্ছে। আজ এক সাংবাদিক নির্যাতিত হচ্ছে, কাল আরেক সাংবাদিক নির্যাতিত হচ্ছে। সাংবাদিক সমাজকে আজ দলে দলে ঐক্যবদ্ধ হতে দেখা যাচ্ছে। তা স্বত্ত্বেও থেমে নেই সাংবাদিক নির্যাতন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি বা শক্তির কাছে নির্যাতিত হচ্ছে।

 

এসব নির্যাতন থেকে রেহায় পাবার জন্যই সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ হচ্ছে এবং গড়ে তোলেছেন বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন। আমাদের দেশের প্রত্যেক জেলা উপজেলায় প্রেসক্লাব রয়েছে। এটি সাংবাদিকদের সামাজিক মিলনকেন্দ্র। যা সাংবাদিক সমাজের জন্য একটি অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি সংগঠন। কিন্তু বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের দেশের কিছু কিছু জেলায় প্রেসক্লাবের বিকল্প “জেলা প্রেসক্লাব, উপজেলা প্রেসক্লাব , সাংবাদিক ফোরাম, ঐক্য ফোরাম, রিপোর্টার্স ক্লাব ইত্যাদি তৈরি হচ্ছে।

 

অনেক জেলায় একটি প্রেসক্লাব থাকা স্বত্ত্বেও আরেকটি প্রেসক্লাব গঠন হচ্ছে। এর নাম দেয়া হচ্ছে, ………. জেলা প্রেসক্লাব, …….. উপজেলা প্রেসক্লাব। এর কারণই বা কি? কেনই আজ সাংবাদিক সমাজ দ্বিধাবিভক্ত? সাংবাদিক সমাজ একই পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ না হয়ে কেনই তাদের আলাদা ভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হচ্ছে? এর কারণ অনুসন্ধান ও বাস্তব অভিজ্ঞতা নিতে গিয়ে জানা যায় চাঞ্চল্যকর তথ্য।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ভুক্তভোগী সাংবাদিক জানান তাদের অভিজ্ঞতার কথা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল যে, প্রেসক্লাবের বিভিন্ন নীতিগত কর্মকান্ডের কথা। বেশির ভাগ প্রেসক্লাব গুলোই বর্তমানে সিন্ডিকেট ও তৈলমর্দনে জর্জরিত। সিন্ডিকেটের বাহিরের ও তৈলমর্দন না জানা অথবা প্রেসক্লাবের সদস্যদের চেয়ে ভালো সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবে অন্তর্ভূক্ত করা হয় না। প্রেসক্লাবে অন্তর্ভূক্ত হতে হলে যে শর্তগুলো দেয়া হয় সেসব শর্ত পূরণ করলেও সদস্য হতে পারেনি সিন্ডিকেটের বাহিরের ও তৈলমর্দন না জানা অনেকে।

শর্তের বাহিরেও আরেকটি নিয়ম আছে সেটা হলো আগে থেকে যারা প্রেসক্লাবে আছে তাদেরকে সবসময় জ্বি হুজুর জি হুজুর করছে কিনা তা যাচাই করার জন্য প্রেসক্লাবের বোর্ড মিটিং এ উপস্থাপন করা হয়। তখন যদি কোন একজন সদস্য উক্ত সাংবাদিককে প্রেসক্লাবে অন্তর্ভূক্ত করতে বাধা প্রদান করে তাহলেই তাকে সদস্যপদ দেয়া হয় না, ভালো মানের পত্রিকায় কাজ করার পরও কেনো বাধা দেওয়া হচ্ছে সেটা যাচাই করা হয় না এবং বাধা প্রদানকারী সদস্যের নাম ও প্রকাশ করা হয় না এবং কেন সদস্য হতে পারেনি তাও জানানো হয় না।

ফলে আবেদনকারী সাংবাদিকদের মনে বিরাজ করে তীব্র ক্ষোভ। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকগণ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে প্রেসক্লাবে ফোন দেয়া হয়। প্রেসক্লাবে ফোন দেয়া হলে প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ উক্ত সাংবাদিককে চেনার পরও চেনেন না বলে জানিয়ে দেন। তখন উক্ত সাংবাদিকের অবস্থা কি হতে পারে আপনারা কল্পনা করেছেন? এখানে বলে রাখা প্রয়োজন যে, প্রেসক্লাব কর্তৃপক্ষ যদি বলতেন যে, উক্ত সাংবাদিককে উনারা চিনেন, তিনি একটি মিডিয়ায় কাজ করেন, কিন্তু তিনি প্রেসক্লাবের সদস্য নন, তাহলে হয় তো ভাল হতো। চেনেও না চেনার ভান করার মানে কি দাঁড়ায়? এই কর্মকান্ডটাকে তো ঈর্ষান্বিত মনোভাব বুঝায়!

আমাদের সবাইকে এমন মনোভাব পরিত্যাগ করা প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি। আমি প্রত্যেক সাংবাদিককে অনুরোধ করবো সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করুন। একজন সাংবাদিক আরেকজন সাংবাদিককে সহকর্মী বা ভাই ভাবুন। সবার সাথে সু সম্পর্ক বজায় রাখুন। তাহলেই আমাদের সাংবাদিক সমাজকে হেয় করার সাহস কারো হবে না। প্রত্যেক প্রেসক্লাবের সাথে জড়িতদের আমি অনুরোধ করবো যে, আপনারা সকল সাংবাদিকদেরকে সম্মান করুন।

তারা আপনাদেরকে যথাযথ সম্মান করবে। আপনাকে কোথাও হেয় প্রতিপন্ন হতে দেখলে তার অন্তর কাঁদবে। প্রয়োজনে প্রতিবাদ করবে। দেশের কোথাও কোন বিকল্প প্রেসক্লাব গঠনের প্রয়োজন পরবে না। আমরা চাই দেশের সকল সাংবাদিক একই প্লাটফরমে থেকে কাজ করবে। প্রয়োজনে সকল সাংবাদিক সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর