ঢাকা ২৭.৯৯°সে ১২ই জুন, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

করোনাকালে বিশ্ব ব্রেইন টিউমার দিবস

ব্রেইন টিউমারের মত একটি মারাত্মক রোগ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার লক্ষ্যে ২০০০ সাল থেকে ৮ জুন দিবসটি পালন করা হচ্ছে। ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত রোগীদের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে দিনটি আন্তর্জাতিকভাবে পালন করা হয়ে থাকে।
আজকের বিষয় নিয়ে কলাম লিখেছেন বাংলাদেশের বিশিষ্ট হোমিও গবেষক ডা. এম এম মাজেদ তাঁর কলামে লিখেন…
টিউমার যখন মাথার ভিতরে অবস্থান করে তখন তাকে ব্রেন টিউমার বলা হয়। যখন মাথায় এই টিউমার বৃদ্ধি পায় তখন মস্তিষ্কের ভিতরে চাপ বেড়ে যায় যা মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্থ করে। সঠিক সময়ে ব্রেন টিউমার চিকিৎসা প্রয়োজন। তবে আগে জানা উচিত ব্রেন টিউমার কি, এটি কেন হয় এবং এর লক্ষণগুলি কি কি।
★ব্রেইন টিউমার কি?
মস্তিস্কের টিউমারে আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যাও কম নয়। জানা যায়, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ মস্তিস্কের টিউমারে আক্রান্ত হন। বাংলাদেশে ব্রেইন টিউমারের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু এ বিষয়ে সচেতনমূলক কোনো কর্মসূচি পালন করা হয় না, মস্তিস্কের কোষের টিউমার হলো ব্রেইন টিউমার। মস্তিস্কের কোনো বিশেষ অঞ্চলের কোষ যখন অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যায়, তখন তাকে ব্রেইন টিউমার বলে। ব্রেইন টিউমার দুই রকমের। একটি হলো নির্দোষ বা বিনাইন টিউমার। এটি শরীরে থাকলে তেমন কোনো সমস্যা হয়না। কেননা, এটি দেহের এক জায়গায় স্বাভাবিক কোষের মতো বিভাজিত হয়। চারদিকে ছড়ায় না এবং এদের বৃদ্ধিও ধীরে। দ্বিতীয় রকমের টিউমারটি হলো দোষী বা ম্যালিগন্যান্ট, যাকে ক্যান্সার বলা হয়।এটি স্বাভাবিক কোষের চেয়ে খুব দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং দেহের সর্বত্র কাল সাপের থাবার ন্যায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মস্তিষ্কের কোষ থেকে প্রাথমিক মস্তিস্কের ক্যান্সার উৎপন্ন হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশের কোষ থেকে মেটাস্ট্যাটিক মস্তিষ্কের ক্যান্সারের উৎপত্তি হয়।যেকোন বয়সের যেকোন ব্যক্তি ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হতে পারে। পয়তাল্লিশের বেশি বয়সী ব্যক্তিদের ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বেশি এবং শিশুদের মধ্যে ছয় থেকে নয় বছর বয়সীদের মধ্যে এই মৃত্যুর হার আশঙ্কাজনক।
★যে কারণে ব্রেন টিউমার হয়ঃ-
টিউমার বিভিন্ন কারণের জন্য হতে পারে। ব্রেন টিউমার তখনি হয় যখন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কোষগুলির ডিএনএ-তে কোন ত্রুটি থাকে। শরীরের কোষগুলি ক্রমাগত বিভক্ত হয়ে যায় এবং মরে যায়। যার পরিবর্তে অন্য কোষ সৃষ্টি হয়। অনেক ক্ষেত্রে নতুন কোষ সৃষ্টি হয়ে যায় তবে দেখা যায় পুরনো কোষগুলি সম্পূর্ণভাবে বিনষ্ট হয় না। যার ফলে এই কোষগুলি জমাট বেঁধে টিউমারের হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবার অনেক সময় বংশগত কারণে ব্রেন টিউমার হয়ে থাকে। অর্থাৎ বাবা, মা বা আত্মীয় কারো ব্রেন টিউমার থাকলে।
★ব্রেন টিউমারের লক্ষণঃ-
* দীর্ঘ মেয়াদে মাথাব্যথা
* খিঁচুনি হওয়া, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
* বমির ভাব বা বমি হওয়া
* দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া
* কথা জড়িয়ে যাওয়া, কথা বলতে অসুবিধা
* আচরণগত পরিবর্তন ইত্যাদি
লক্ষণগুলো নির্ভর করে মস্তিষ্কের কোন অংশ আক্রান্ত হয়েছে তার উপর অভিজ্ঞ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের রোগীর রোগ নির্ণয়ে নিচের পরীক্ষাগুলো সহায়কঃ-* ব্রেনের সিটিস্ক্যান ও এমআরআই
*  স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা দেখার জন্য ইলেকট্রো এনকেফালোগ্রাফি  বা ইইজি।
* স্নায়ুতন্ত্রের পরিবহন ক্ষমতা বা নার্ভ কন্ডাকশন টেস্ট বা ইলেকট্রোমায়োগ্রাফি।
*  সিটি গাইডেড এফএনএসি।
*ব্রেইন টিউমার  সারানো সম্ভব কি না ?ব্রেন টিউমার মানেই ক্যান্সার এটা ভুল ধারণা। কিছু কিছু টিউমার আছে যা খারাপ টিউমার বা ক্যান্সার টিউমার। কিন্তু অনেক টিউমারই আছে যেগুলো সম্পূর্ণভাবে আরোগ্যযোগ্য। কিছু কিছু ব্রেইন টিউমার চিকিৎসা করালে সম্পুর্ণ ভালো হয়ে যায়।
★হোমিও প্রতিকারঃ-
বাংলাদেশে অনেক আগে থেকেই ব্রেন টিউমারের চিকিৎসা হচ্ছে এবং অধিকাংশ টিউমারের চিকিৎসা বাংলাদেশে করা সম্ভব। হোমিওপ্যাথিক ট্রিটমেন্ট-এ ব্রেইন টিউমারের ক্ষেত্রে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছে। হোমিওপ্যাথি লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। রোগ ও পারিবারিক ইতিহাস এবং বর্তমান সমস্যা জেনে হোমিও ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হলে ব্রেইন টিউমার আল্লাহর রহমতে আরোগ্য সম্ভব।
লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশক,দৈনিক স্বাস্থ্য তথ্য 
কো-চেয়ারম্যান, হোমিওবিজ্ঞান গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। 




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর