সবার রিজিকদাতা আল্লাহ

0

খাইরুল ইসলাম আল আমিন:

মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগতে বিচিত্র সব সৃষ্টজীব তাঁরই দয়া ও করুণায় বেঁচে আছে। একেকজনকে আল্লাহ একেকভাবে বাঁচিয়ে রাখেন। জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করেন। দয়াবান আল্লাহ সবল-দুর্বল, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, নারী-পুরুষ, বুদ্ধিমান-বোকা সবাইকে রিজিক দান করেন। কাউকে না খাইয়ে রাখেন না।

যে আল্লাহকে মানে এবং তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখে তাকে যেমন রিজিক দান করেন, তেমনি যে বিশ্বাস করে না তাকেও তিনি রিজিক দান করেন। মুসলমান-কাফির সবাই মহান সৃষ্টিকর্তার দয়ার চাদরে বেষ্টিত। রিজিক যদি শুধু ইমানদারদের দিতেন তাহলে সব অমুসলিম না খেয়ে মারা যেত। যদি শুধু মানুষকে দিতেন তাহলে অন্যসব প্রাণী না খেয়ে মারা যেত। আর মানুষের মধ্যে রিজিক যদি কেবল শিক্ষিতদের জন্য নির্ধারিত হতো তাহলে অশিক্ষিতরা বেঁচে থাকতে পারত না। বোঝা গেল, মহান আল্লাহ সৃষ্টজীবের জন্য সব নির্ধারণ করে রেখেছেন এবং একজনের অসিলায় আরেকজনকে তিনি রিজিক দান করেন।

হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রসুলুল্লাহর জমানায় দুই ভাই ছিল। একজন তাঁর কাছে আসা-যাওয়া করত এবং অন্যজন রোজগার করত। একবার শেষোক্ত ভাই রসুলুল্লাহর কাছে অন্য ভাই সম্পর্কে অভিযোগ করল, সে কোনো কাজকর্ম করে না; বরং জীবিকার ব্যাপারে আমার ওপরই নির্ভরশীল। তখন রসুলুল্লাহ বললেন, এমনও হতে পারে যে, তোমার সেই ভাইয়ের অসিলায় তোমাকে রিজিক প্রদান করা হচ্ছে।’ তিরমিজি। বান্দা যখন আল্লাহর আনুগত্য করে এবং তাঁর ওপর ভরসা রাখে ও দোয়া করে, তখন আল্লাহ সেই বান্দার রিজিকের দায়িত্ব নিয়ে নেন।

এ বিষয়ে হজরত আবু হোরায়রা (রা.) বলেছেন, ‘একবার এক ব্যক্তি তার পরিবারের কাছে এসে দেখল তারা ক্ষুধায় ও উপবাসে কাতর। সে এ দৃশ্য সহ্য করতে না পেরে মাঠের দিকে বের হয়ে গেল। এরপর তার স্ত্রী যখন দেখল, তার স্বামী পরিবারের দুরবস্থা দেখে লজ্জিতভাবে রুজির তালাশে বের হয়ে গেছে, তখন সে আটা পেষার চাক্কির কাছে গিয়ে এক চাক্কি আরেক চাক্কির ওপর রাখল। তারপর চুলার কাছে গিয়ে তাতে আগুন জ্বালাল। এরপর দোয়া করতে লাগল, হে আল্লাহ! আমাদের রিজিক দান কর। অতঃপর সে নিচের চাক্কিটির প্রতি লক্ষ্য করে দেখল যে, তা ভর্তি হয়ে রয়েছে।’

%d bloggers like this: