সবজি বিক্রেতা সেজে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার আসামী ধরলেন সিআইডি অফিসার প্রীতেশ তালুকদার

0
নেত্রকোনা সংবাদদাতাঃ
গত ১ ৬ ই জুন শনিবার রাতে নেত্রকোণা থানার মৌগাতী ইউনিয়নের বাদেবহর থেকে চুচুয়া বাজার যাওয়ার পথে অজ্ঞাত নামা দূর্বৃত্তরা যুবলীগকর্মী হারেছ মিয়াকে হত্যা করে লাশ পাশের ফুডা বিলের পানিতে ফেলে রেখে চলে যায়। পরে মৃত হারেছের ভাই বাদী হয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় অজ্ঞাত নামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়।মামলাটি তদন্তের দায়িত্বপান এস আই প্রীতেশ তালুকদার।
তদন্তের এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সহিত রাজধানীর ধানমন্ডী এলাকার একটি বাসা (রোড নং এ/২ ঝিগাতলা, ধানমন্ডি এলাকার জনৈক কামরুজ্জামনের ভাড়াটিয়া বাসা  ) থেকে ছদ্মবেশে সবজি বিক্রেতা সেজে  আসামি শিরিন আক্তারকে গত ৩০শে জুলাই গ্রেফতার করেন। পরে আসামি শিরিন আক্তারের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দিতে সাম্প্রতিককালে নেত্রকোণা জেলার নেত্রকোণা মডেল থানাধীন বাদে বহর গ্রামের চাঞ্চল্যকর হারেছ মিয়া হত্যার প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হয়।
সিআইডির তদন্তে বের হয়ে আসে অত্র মামলার ঘটনায় মৃত. হারেছ মিয়ার (৩৫) সাথে গ্রেফতারকৃত আসামী শিরিন আক্তারের (২৬) পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। অপর দিকে হারেছ মিয়ার সাথে বাদেবহর গ্রামের কামরুজ্জামান কমল (৪৫), পিতা মৃত- সায়েদ আলী, আব্দুস ছালাম (৪৮), পিতা মৃত- মকবুল হোসেন, আব্দুল কাদির (৪৮), পিতা মৃত- রুস্তুম আলী, সাজু মিয়া (৩৮), পিতা মৃত- কিতাব আলী, কাঞ্চন মিয়া (২৮), পিতা মৃত- এয়ার হোসেন, লাল মিয়া (৩৮), পিতা মৃত- মকবুল হোসেন এর সাথে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ ছিল। আসামীরা একপর্যায়ে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায়। হারেছ মিয়াকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে কুপোকাত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ খুঁজছিল। একপর্যায়ে  হারেছ-শিরিনের পরকীয়া প্রেম কাহিনী নিয়ে সালিশ দরবারও হয়। কিন্তু সেই দরবারে শিরিন হারেছকে নিয়ে আপত্তিকর কথাবার্তা বলতে অনিহা প্রকাশ করায়  আসামীরা সকলেই শিরিনের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে। এক পর্যায়ে শিরিনের স্বামী আলমগীর মিয়া আলম (৩৫)  শিরিন-হারেছের পরকীয়া প্রেমের বিষয়টি জেনে যায় এবং শিরিনকে ঘটনার মাসতিনেক আগে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এদিকে পরিকল্পনা চলতে থাকে ছালামের। তিনি আলমগীর ও শিরিনের ফোনালাপ করিয়ে দেন। দুজনকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার এবং আবার ঘর-সংসার করার প্রলোভন দেখান।
এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জুন শিরিনকে দিয়ে ফোন করিয়ে কৌশলে হারেছকে শিরিনের বাবার বাড়িতে আসতে বলা হয়। হারেছ রাত ১০টার দিকে তাঁর স্ত্রীকে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখে আসার কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান।
পরে হারেছ শিরিনের বাবার বাড়ির কাছাকাছি এলে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা ছালাম, কমল, কাদির, সাজু, কাঞ্চন, লাল মিয়া ও আলমগীর তাঁকে ধরে ফুডা বিলের পাড়ে নিয়ে যান। সেখানে হারেছের গলায় কাপড় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর পেট ছিদ্র করে বলে আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয় শিরীন।

%d bloggers like this: