সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্র

0

জামালপুর প্রতিনিধি :

জামালপুরের ঢেংগারগড়ে প্রতিপক্ষ আকরাম বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলায় একটি পা ভেঙে গেছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু হাসান সিয়ামের। এই ঘটনায় রবিবার সিয়ামের বাবা আমিনুল ইসলাম জামালপুর সদর থানায় আকরাম হোসেনসহ আটজনের নামে একটি মামলা করেছেন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিএটি’র মেকানিক্যাল বিভাগের ১১তম পর্বের ছাত্র আবু হাসান সিয়ামের বাড়ি জামালপুর শহরের মুকুন্দবাড়ি এলাকায়। তিনি ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের ড. কাজী মোতাহার হোসেন হল শাখার সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। ১৫ জানুয়ারি শুক্রবার বিকালে জামালপুর সদর উপজেলার শরিফপুর ইউনিয়নে ঢেংগারগড় গ্রামে তার উপর হামলা চালানো হয়।

সিয়ামের বাবা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঢেংগারগড়ের স্থানীয় একটি মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছি আমি এবং একই গ্রামের আকরাম হোসেন সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির একটি বিষয় নিয়ে আকরামের স্বজনদের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয় আমাদের। সেই দিন বিকালে আমার ছেলে সিয়াম মোটরসাইকেল দিয়ে শহরের বাড়িতে ফিরছিল। পথে ঢেংগারগড়ে আকরাম হোসেনের নির্দেশে তার সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্য জনি ও রনিসহ আরো ৫ থেকে ৭ জন সিয়ামের উপর হামলা করে।

এসময় সিয়ামকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং তার মোটরসাইকেলটি ভাঙচুর করা হয়। এমন সময় স্থানীয় খুদেজা বেগম তাদের বাধা দিতে গেলে তার মাথায়ও আঘাত করে আকরাম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা। পরে স্থানীয়রা আহত দুইজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে খুদেজা বেগমের অবস্থার অবনতি হলে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সিয়াম জামালপুর জেনারেল হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আমিনুল ইসলাম আরো বলেন, ‘আকরাম সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ছেলের পা ভেঙে গুড়ো করে দিয়েছে। সিয়ামের জীবনটা শেষ করে দিয়েছে ওরা। সিয়াম চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা করতে একটু দেরী হয়েছে। এই আকরামের সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে পুরো ঢেংগারগড়বাসী। আমি এই হামলার সুষ্ঠু বিচার চাই। আর কেউ যাতে এমন হামলার শিকার না হয়।’

আহত আবু হাসান সিয়াম বলেন,‘আমার জীবনটা শেষ করে দিয়েছে ওরা। আমার বা পা ভেঙে ফেলেছে। আমি এই জীবনে হাটতে পারব কিনা জানি না। অবৈধ ব্যবসা করে হাটের ডিম ব্যবসায়ী থেকে কোটিপতি এই আকরামের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে ঢেংগারগড়বাসীরা। আমরা এই আকরাম থেকে মুক্তি চাই।’

এ বিষয়ে জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম খান জানান, ঘটনাস্থলে তদন্তের জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্তের পরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন জানান, আকরাম হোসেন পেশায় একজন ছোট ডিম ব্যবসায়ী ছিলেন। ২০ থেকে ২৫ বছর আগে জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রাম চলে যায় আকরাম হোসেন। চট্টগ্রামে দিনমজুর থাকাকালে রহস্যজনকভাবে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে যান আকরাম হোসেন। চট্টগ্রাম থেকে মাঝে মধ্যেই নিজ গ্রামে এসে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেন তিনি।

তখন থেকেই গ্রামের নিরীহ জনগণের জমি দখল, মারধর ও অত্যাচার শুরু করেন আকরাম হোসেন। তার এমন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে কয়েকবার মানবন্ধন ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করে এলাকাবাসী। লিখিত অভিযোগের পর আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে আকরাম হোসেন। তার বিরুদ্ধে এখনো কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা যায়। এলাকায় প্রতিবছর কয়েকবার মারামারির ঘটনা ঘটান তিনি। আকরাম হোসেনের এমন কর্মকাণ্ড এখনো অব্যাহত রয়েছে বলে জানায় এলাকাবাসী।

সিয়ামের উপর হামলার ঘটনায় আকরাম হোসেনসহ দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এলাকাবাসী।

এদিকে এ বিষয়ে আকরাম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি উচ্চকণ্ঠে বলেন, ‘আমি এখন চট্টগ্রাম আছি। শুক্রবার দিন এলাকায় কি ঘটেছে আমি জানি না। আর আমি কিভাবে এতো টাকার মালিক হলাম সেটি আপনি খবর নিয়ে দেখেন। আমি বলতে পারব না। আমি আপনাকে তো চিনি না। আপনাকে আমি এতো কথা কেনো বলব? আপনি চট্টগ্রাম আসেন বা লোক পাঠায় দিয়ে দেখে যান যে আমি কি করি।’

%d bloggers like this: