শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে ইউপি চেয়ারম্যান আইয়ূব আলী ফর্সাকে অনাস্থার প্রস্তাব!

0

মুহাম্মদ আবু হেলাল: শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার ৩নং নলকুড়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আইয়ুব আলী ফর্সার ভিজিডি’র চাল আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ-দুর্নীতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে তার অধীনস্ত ১০জন ওয়ার্ড সদস্য আজ ১১জুলাই শনিবার লিখিত ভাবে অনাস্থা জামা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) রুবেল মাহমুদের কাছে।

ইউএনও রুবেল মাহমুদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবে যাহারা স্বাক্ষর করেছেন, তারা হচ্ছেন- আব্দুর রাজ্জাক, জিয়াউর রহমান, হামিদুল্লা, আলমগীর হোসেন রুপন, আকবর আলী, শাহ জাহান, আ. বারিক, মজনু মিয়া, সংরক্ষিত আসনের (মহিলা) সদস্য শেফালী বেগম, রৌশন সিদ্দিকী। অনাস্থা প্রস্তাবে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেছেন যে, মো. আইয়ুব আলী ফর্সা ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে সরকারি বিধি না মেনে সরকার দলিয় চেয়ারম্যান হওয়ায় তিনি নানান কাজে অনিয়মের মাধ্যমে পরিষদ পরিচালনা করে আসছেন।

যার ফলে ভিজিডিসহ নানান কাজে ঘুষ সহ দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। দলীয় প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা, ঘুষ কেলেঙ্কারী, ত্রাণ আত্মসাত, এলাকার দুস্থ-অসহায় বিধবা, বয়স্ক, প্রতিবন্ধী ও পুষ্টি ভাতা, কৃষি প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম করেন । এ ছাড়াও ২০১৯-২০অর্থ বছরের নলকুড়া ইউনিয়নে বরাদ্দ প্রাপ্ত ৩৫৩টি দুঃস্থ মহিলাদের ভিজিডি’র কার্ড পেয়ে অনিয়মের মাধ্যমে নামে-বেনামে ১২৪টি কার্ডের অনুক‚লে বরাদ্দকৃত চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করে আসছেন। গত ১৮ মাসে আত্মসাৎকৃত ভিজিডি চালের সরকারি মূল্য আসে প্রায় ২,৪১,১০,৫৬০/- টাকা।

পাশাপাশি করোনা দুর্যোগকালে দরিদ্রদের জন্য বরাদ্দের ত্রাণসামগ্রী, নগদ অর্থ ও বিভিন্ন ভাতা বিতরণে ব্যাপক নয়-ছয়, স্বজনপ্রীতি আর স্বেচ্ছাচারিতা করেছেন।শুধু তাই নয়, ট্যাক্স আদায়ের অর্থ দিয়ে উন্নয়নমূলক কাজ না করে সব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন । তাই অনাস্থা প্রস্তাবটি গ্রহণ করে তার অপসারণসহ দ্রত অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়গুলো খতিয়ে দেখে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ইউপি ওয়ার্ড মেম্বার গন। চেয়ারম্যান আইয়ুব অলী ফর্সা তার বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি ইউপি চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই অদ্যবধি পর্যন্ত প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে গুজব রটাতে উঠেপড়ে লেগে আছে।

ওই মহলের প্ররোচনায় ইউপি সদস্যরা এমন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন। আমার ইউনিয়নে কোনো অর্থই আত্মসাতের ঘটনা ঘটেনি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুবেল মাহমুদ বলেন, “ইউপি সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাবের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অনাস্থাপত্রটি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আগামীকাল পাঠানো হবে।

তিনি আরও বলেন, দুঃস্থ মহিলাদের ভিজিডি’র কার্ড পেয়ে অনিয়মের মাধ্যমে নাম-বেনামে ১২৪ জনের কার্ডের অনুক‚লে বরাদ্দকৃত চাল আত্মসাতের অভিযোগটি তদন্তে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে”। স্থানীয় সরকার বিভাগ শেরপুরের উপ-পরিচালক এটিএম জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘পরিষদের সদস্যদের অনাস্থা প্রস্তাবপত্রটি তিনি এখনো পাননি। পেলে সরকারি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

%d bloggers like this: