শুভ্র হত্যাকান্ডের আলোচিত আসামী মেয়রের জামিনে এলাকাবাসির প্রতিক্রিয়া

0

স্টাফ রিপোর্টার:

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান শুভ্র হত্যা মামলার অন্যতম আলোচিত আসামী পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেছেন। এ খবরে মেয়র সমর্থকদের মাঝে স্বস্থি ফিরে এলেও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মাঝে।

জামিনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন গৌরীপুর থানার ওসি মো: বোরহান উদ্দিন। তিনি জানান, গত ৫ নভেম্বর বিজ্ঞ হাইকোর্ট সৈয়দ রফিকুল ইসলামের ৬ সপ্তাহের জামিন মজ্ঞুর করেছেন। এ সংক্রান্ত কাগজ আমি হাতে পেয়েছি।
মামলার তদন্তের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেলা ডিবি ওসি শাহ কামাল আকন্দ জানান, আলোচিত এ হত্যা মামলার আসামীদের মধ্যে ইতিমধ্যে বিএনপি নেতা রিয়াদ চেয়ারম্যানসহ ৬জন গ্রেফতার হয়েছে। এর মধ্যে খাইরুল নামের এক আসামী বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।

সূত্রমতে, শুভ্র হত্য মামলার ১১ নং আসামী সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বর্তমান গৌরীপুর পৌরসভার মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সভাপতি। তবে দলীয় সূত্রের দাবি শুভ্র হত্যাকান্ডের ঘটনায় গৌরীপুর উপজেলা আওয়ামীলীগ সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করে কেন্দ্রীয় দপ্তরে চূড়ান্ত বহিস্কারের জন্য সুপারিশ পাঠিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগ থেকে সৈয়দ রফিকের বহিস্কারের বিষয়ে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক অ্যাড.মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল। তিনি জানান, বহিস্কারের সুপারিশ কপি কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুভ্র হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর ১৪ জনের নাম উল্লেখ মোট ২২জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের ছোট ভাই আবিদুর রহমান প্রান্ত। এ মামলার আসামীরা হলেন- উপজেলা বিএনপির একাংশের যুগ্ম আহবায়ক রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ, তাঁর ছোট ভাই ছাত্রদল কর্মী কার্জন, স্থানীয় সাকিব আহমেদ রেজা, মোজাম্মেল, খাইরুল, রিফাত, হানিফ, জাহাঙ্গীর আলম, মজিবুর রহমান, সুমন, পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদল নেতা সৈয়দ তৌফিকুল ইসলাম, সৈয়দ মাজাহারুল ইসলাম জুয়েল ও রাসেল মিয়া।

মামলার এজাহারে বাদি দাবি করেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান মেয়র সৈয়দ রফিকুল ইসলামের পরিকল্পনায় এবং হুকুমমতে আসামীরা এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। এর আগে ২০১৭ সালের ৫এপ্রিল সৈয়দ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে থানায় সাধারন ডায়েরী করেছিল নিহত মাসুদুর রহমান শুভ্র।

%d bloggers like this: