ঢাকা ৩৩.৯৯°সে ১৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

আবরারের ‘খুনি’ বিটুর ক্লাসে ফেরার প্রতিবাদ নিয়ে কাল মানববন্ধন

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদকে কেবল একটি কারণে হত্যা করা হয়নি, বরং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক কারণ ছিল বলে জানিয়েছিলেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের মামলার এজাহারে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাসহ প্রথমে ১৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, তবে তদন্তের পরে আসামীর সংখ্যা এখন ২৫ জন।

প্রসঙ্গত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় আজীবন বহিষ্কৃত ছাত্রলীগ নেতা আশিকুল ইসলাম বিটুর ক্লাসে ফেরার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বুয়েট ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করবেন। বুধবার সকালে বুয়েট শিক্ষার্থীদের ফেসবুক পেজে (বুয়েটিয়ান) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ২২ মে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অনলাইন ক্লাসে যোগদান করেন আশিকুল ইসলাম বিটু। কিন্তু শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের মুখে তিনি আর ক্লাসে জয়েন করতে পারেননি।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আদালতের স্টে অর্ডার নিয়ে বিটু চলমান টার্মের চারটি কোর্সে রেজিস্ট্রেশন করেছেন।

বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় বিটুকে পুনরায় স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ২৯ মে পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন শিক্ষার্থীরা। তা না হলে ৩০ মে থেকে ক্লাস বর্জনের আলটিমেটাম দেন তারা। বুয়েটের শিক্ষার্থীরা জানান, আবরার হত্যা মামলার আসামি আশিকুল ইসলাম বিটুর চলমান টার্মের কোর্স রেজিস্ট্রেশন বাতিল এবং সে যেন কখনও ক্যাম্পাসে ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করতে চান তারা। এরই অংশ হিসেবে আগামীকাল বেলা ১১টায় বুয়েট ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্যবিধি মেনে মানববন্ধন কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

ভারতের সঙ্গে চুক্তির বিরোধিতা করে ২০১৯ সালের ৫ অক্টোবর বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার। এর জেরে পর দিন রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী। পরে তার লাশ সিঁড়িতে ফেলে রাখা হয়।

নৃশংস এ হত্যা মামলায় ২৫ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। এর পর চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামিসহ মোট ২৬ ছাত্রকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে একজন হলেন আশিকুল ইসলাম বিটু, যিনি বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ছিলেন।

উল্লেখ্য, সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।




আপনার মতামত লিখুন :

এক ক্লিকে বিভাগের খবর


x