ঢাকা ৩৬°সে ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

কুবি শিক্ষক সমিতি: একই দিনে দুই গ্রুপের ভোটের ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

নিজেদের কার্যনির্বাহী পরিষদ-২০২১ গঠনের লক্ষ্যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষে বিভক্ত হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শিক্ষক সমিতি। দুই পক্ষই ঘোষণা করেছে পাল্টাপাল্টি নির্বাচন কমিশন। ঘোষণা দিয়েছে একই দিনে নির্বাচন করার। দুই পক্ষের একদিকে আছেন বর্তমান কমিটির সভাপতি মো: রশিদুল ইসলাম শেখসহ কার্যনির্বাহী কমিটির আট সদস্য। অন্যদিকে আছেন সাধারণ সম্পাদক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদারসহ সাত সদস্য। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুটি পক্ষই একে-অপরকে দোষারোপ করছে।

গত ২৯ নভেম্বর শিক্ষক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির এক সভায় ১৩ ডিসেম্বর নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেই সভায় কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫ জন সদস্যের মাঝে ৭ জন অনুপস্থিত ছিলেন। ছিলেন না সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি-১ ও কোষাধ্যক্ষ।

গত বৃহস্পতিবার শিক্ষক সমিতির ওই ৭ সদস্যের অংশটির ডাকা এক জরুরি সভায় আগের কার্যনির্বাহী সভা এবং তাদের গঠিত নির্বাচন কমিশনকে অবৈধ বলে ঘোষণা করা হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এই সভা ডাকা হয়নি। গঠিত নির্বাচন কমিশনেও সম্মতি বা স্বাক্ষর নেই শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বা যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের।

শিক্ষকদের এই অংশটি আরও একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করে আগামী ১৩ ডিসেম্বর একই দিনে শিক্ষক সমিতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়। নির্বাচন কমিশন গঠনের এই বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন সহ-সভাপতি এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র মজুমদার।

নির্বাচনকে ঘিরে এভাবে দুই পক্ষে বিভক্ত হওয়া ও পাল্টাপাল্টি নির্বাচন কমিশন ঘোষণা প্রসঙ্গে সমিতির সভাপতি রশিদুল ইসলাম শেখ বলেন, ‘আমরা গঠনতন্ত্র মেনেই নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করেছি। কেউ যদি গায়ের জোরে অগণতান্ত্রিকভাবে, অগঠনতান্ত্রিকভাবে নতুন নির্বাচন কমিশন ঘোষণা করে একই দিনে নির্বাচন করতে চায় তবে সেই দায়-দায়িত্ব তাদের। আমরা গঠনতন্ত্রের বাইরে কিছু করিনি। তারপরও আমরা আলোচনার সুযোগ রেখেছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের ভায়োলেট করে নিজেরা অবৈধ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে।’

এদিকে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে সাধারণ সম্পাদক স্বপন চন্দ্র মজুমদার বলেন, ‘সংগঠনের মুখপাত্র হিসেবে সভাপতির অনুমতিক্রমে আমার সভা আহ্বান করার কথা। কিন্তু আমাকে সেই সুযোগ না দিয়ে সভাপতি নিজেই সভা ডেকে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। সেখানে নির্বাচন কমিশনারদের কাছে শুধুমাত্র সভাপতির স্বাক্ষরে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এটা তিনি করতে পারেন না। চিঠিতে আমার বা সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর থাকতে হবে। নতুবা বিধি লঙ্ঘন হবে। আমরা গঠনতন্ত্র মেনেই নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছি।’

উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী বলেন, এটা শিক্ষকদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা নিজেদের জেনারেল মিটিংয়ে যেভাবে সিদ্ধান্ত নেয় সেভাবেই নির্বাচন হওয়ার কথা। প্রশাসনের এখানে কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে কোনো বিভক্তি কাম্য নয়।




আপনার মতামত লিখুন :