শরীরচর্চা করলে দূরে থাকে করোনা

0

স্বাস্থ্য ডেস্ক :

করোনা আবহে গত এক বছরে শারীরিক কসরত প্রায় শূন্যে এসে ঠেকেছে। অর্থাৎ ঘরে আরও বলা ভাল চেয়ারে বন্দি করে। তা ওয়ার্ক ফ্রম হোম হোক বা অনলাইন ক্লাস, তার ফাঁকে টিভি দেখা হোক বা মুঠোফোনে সিনেমা কিংবা সিরিজ। এর ফলে হৃদযন্ত্রের সমস্যা যেমন বাড়তে পারে তেমনই বাড়তে পারে টাইপ টু ডায়াবেটিস কিংবা ক্যানসার। এবং এর সবকটিই বাড়িয়ে দিতে পারে করোনা ভাইরাসের শঙ্কা।

শরীরচর্চার মাধ্যমে অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে সচল রাখার জন্য চিকিৎসকই বারবার বলছেন। মেডিসিন বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার সঙ্গে শারীরিক ব্যায়াম করা খুবই জরুরি।

তবে সকালে যেমন অনেকেই গ্রুপ করে মর্নিং ওয়াকে যান এই অবস্থায় তা যাওয়া যাবে না বলাই বাহুল্য। তার বদলে ছাদে বা বাগানে হাঁটতে পারেন। অথবা ঘরের মধ্যে ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ করতে পারেন। কিন্তু হাঁটতে গিয়ে যাতে কোনওভাবেই ঠান্ডা না লেগে যায় সেটাও খেয়াল রাখতে হবে। আর মাস্ক ভুলবেন না। যারা করোনাভাইরাস থেকে সেরে উঠছেন তারা যেন ব্যয়াম বা শারীরিক কসরতের ক্ষেত্রে কোনও তাড়াহুড়ো না করেন। অন্তত দুই থেকে চার সপ্তাহ পুরোপুরি বিশ্রামে থেকে তারপরই ব্যয়াম শুরু করুন।

তবে শারীরিক ব্যয়ামের বিষয়টি অন্তঃসত্ত্বা বা সদ্য মা হওয়া মহিলাদের জন্য একেবারেই প্রযোজ্য হবে না সে কথা স্পষ্ট ভাষায় জানালেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের মতে, করোনা মোকাবিলায় শারীরিকভাবে ফিট থাকা ভীষণ জরুরি। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বাদের জন্য তো তা সম্ভব হবে না। একটা পর্যায় পর্যন্ত তারা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিয়ন্ত্রিত কিছু হালকা এক্সারসাইজ করতে পারেন। তবে নতুন মায়েদের জন্য অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে তাঁরা ডেলিভারির একটা নির্দিষ্ট সময় পরে ঘরের ভিতর বা ছাদে হাঁটার মতো হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। এছাড়া ভিটামিন ও মিনারেলস খাবারের মাধ্যমে নিয়ে ইমিউনিটি বাড়াতে পারেন তারা।

ঘরের মধ্যে বাড়ির সকলে মিলে যোগব্যায়াম করলে একই সঙ্গে শরীর ও মন দুইই সুস্থ থাকবে। যোগব্যায়াম যেমন শারীরিকভাবে সুস্থ রাখবে তেমনই মানসিক অবসাদও দূর করতে সাহায্য করবে। ফুসফুসকে সতেজ ও চাঙ্গা রাখতে ব্যায়াম ও প্রাণায়ামের কোনও তুলনা নেই। আর ফুসফুস ভাল থাকলে করোনা মোকাবিলা করাও অনেক সহজ হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শারীরিক কসরত না হলে তা একদিকে যেমন রোগ বাড়িয়ে তোলে অন্যদিকে তেমনই তা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়। এর থেকে ক্যানসার কিংবা অ্যালঝাইমার্স সবকিছুই হতে পারে। আর শারীরিক কসরতে যেমন মানসিক উদ্বেগ কমে তেমনই স্মৃতিশক্তিও বাড়ে।

%d bloggers like this: