শয্যাদৃশ্য বিতর্কে গ্রেপ্তার হন শাহরুখ, ছাড়িয়ে আনেন চাঙ্কি পাণ্ডে

0
বিনোদন ডেস্ক

বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খানের মেয়ে সুহানা খোন এবং চাঙ্কি পাণ্ডের মেয়ে অনন্যা পাণ্ডে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। মাঝে মাঝেই দুজনেকে একসঙ্গে ঘুরতে দেখা যায়। অবশ্য তাদের এই বন্ধুত্ব আগের প্রজন্মেও ছিল। কারণ শাহরুখ খান আর চাঙ্কি পাণ্ডেও অনেকদিনের ভালো বন্ধু। একবার শাহরুখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সে সময় তার জামিনের ব্যবস্থা করেছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু চাঙ্কিই।

১৯৯২ সালে কেরিয়ারের শুরুর দিকে শাহরুখ ‘মায়া মেমসাব’ নামে একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। কেতন মেহতার পরিচালনায় ওই ছবিতে শাহরুখের বিপরীতে ছিলেন দীপা শাহি। ‘গুস্তাভ ফ্ল্যবার’-এর লেখা ‘মাদাম বোভারি’ অনুসরণে তৈরি ছবিটিতে শাহরুখ-দীপার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি শয্যাদৃশ্য ছিল। সেই দৃশ্য নিয়ে সে সময় যথেষ্ট বিতর্ক ও আলোচনা হয়েছিল। পরে সেই দৃশ্যে সেন্সর বোর্ডের কাঁচিও পড়েছিল।

একটি ফিল্ম পত্রিকায় এই মর্মে লেখা হয় যে, বিতর্কিত সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার আগে কেতনের মনে হয়েছিল দুজনের মধ্যে আড়ষ্টতা কেটে যাওয়া প্রয়োজন। তাই তিনি একটি হোটেলে একই ঘরে শাহরুখ খান ও দীপা শাহির রাত্রিবাসের ব্যবস্থা করেন। পরদিন নাকি শুধু পরিচালক কেতন ও তার ইউনিটের প্রধান ক্যামেরাম্যানের উপস্থিতিতে শুটিং করা হয়।

পত্রিকায় এই খবর পড়ে শাহরুখ অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। তিনি ঠিক করেন, ওই পত্রিকার কোনও প্রতিনিধিকে সামনে পেলে ছেড়ে দেবেন না। একদিন সেই সুযোগ আসে। একটি ফিল্মি পার্টিতে ওই পত্রিকার এক সাংবাদিককে সামনে পান শাহরুখ। সবার সামনে প্রকাশ্যেই তার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

যদিও ওই খবর কোন সাংবাদিকের সূত্রে পাও‌য়াগে গেছে, তা প্রকাশ করেনি পত্রিকাটি। কিন্তু শাহরুখের ধারণা ছিল, পার্টিতে থাকা ওই সাংবাদিকেরই কাজ সেটা। অভিযোগ, এরপর নাকি ওই সাংবাদিককে ফোনে কয়েকবার হুমকি দেন। এখানেই শেষ নয়, একবার ওই সাংবাদিকের বাড়িতে গিয়ে তার বাবা-মায়ের সামনেই তাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন শাহরুখ।

এই ঘটনার জেরে শাহরুখের নামে পুলিশে অভিযোগ জানান ওই সাংবাদিক। থানায় ডেকে শাহরুখের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ। কিন্তু তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিষয়টি তবুও থামেনি। তার পরও শাহরুখ ওই সাংবাদিককে ফোনে কটূক্তি করেন। আতঙ্কিত সাংবাদিক পুলিশের কাছে আবার অভিযোগ জানান।

এরপর শাহরুখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু সামাজিক পরিচয়ের কথা ভেবে কিং খানকে জেলখানায় রাখা হয়নি। এমনকি, থানায় অনেক অফিসার তার অটোগ্রাফও নেন। শেষ পর্যন্ত গভীর রাতে থানায় যান শাহরুখের বন্ধু চাঙ্কি পাণ্ডে। তিনি গিয়ে সুপারস্টারের জামিনের ব্যবস্থা করেন।

এই ঘটনার দুই বছর পরে শাহরুখ খান জানতে পারেন, ওই সাংবাদিক আদৌ ওই ভুয়া খবরটি প্রকাশ করেননি। এরপর অনুতপ্ত শাহরুখ ওই সাংবাদিকের কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়ে নেন। পরবর্তীতে পত্রিকাটির জন্য ফটোশুটও করেছিলেন বলিউডের কিং অব রোমান্স।

%d bloggers like this: