রাসূলে পাক ﷺ এর ওফাত

0
মাওলানাঃ মাসউদুর রহমানঃ
بسم الله الرحمن الرحيم. الحمد لله رب العالمين والصلاة والسلام على سيد المرسلين وعلى آله وصحبه أجمعين. أما بعد!
মহানবীর পবিত্র বেলাদত বা জন্মের মতো তার পবিত্র ওফাত শরীফও অপার মহিমায় মহিমান্বিত এবং নবুওয়ত প্রচারকালও এক অনন্য বৈশিষ্ট্যম-িত ও মুজিযাপূর্ণ ঘটনা। কেননা তাঁর নবুওয়তকাল কিয়ামত র্পর্যন্ত বিদ্যমান।
সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, রাহমাতুল্লিল আলামীন, নবীকুল শিরোমণি মৃত্যুকে তার এখতিয়ার পাওয়া সত্ত্বেও “আল্লাহুম্মা রাফিকীল আলা” বলে আল্লাহ পাকের সান্নিধ্যকেই বেছে নিয়েছেন, যাতে তাঁর ওফাত পরবর্তী মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে বিরোধ সৃষ্টি না হয়।

দশম হিজরির বিদায় হজ্বে আরাফাতের ময়দানে প্রদত্ত ভাষণে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ওফাত নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে সর্বশেষ সূরা নসর নাযিল হয়।

সহীহ বুখারীতে বর্ণিত আছে, হযরত ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু তাআলা আনহু হযরত ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুকে “ইযা জা-আ নাসরুল্লাহ” সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তরে বলেন, এটা হচ্ছে রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের ইঙ্গিত যা আল্লাহ্ তাআলা পূর্বেই তাঁকে অবহিত করেছিলেন।
তদুপরি ১১ হিজরীর ৮ রবিউল আউয়াল বৃহস্পতিবার রাসূল সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম জোহরের নামায শেষে সাহাবীদের উদ্দেশ্যে এক অশ্রুতপূর্ব ভাষণ দানের কথা বর্ণিত আছে। উক্ত ভাষণে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহর হামদ ও সানা পাঠ পূর্বক উল্লেখ করেন যে,
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ , أَنَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ جَلَسَ عَلَى الْمِنْبَرِ ، فَقَالَ : ” إِنَّ عَبْدًا خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا مَا شَاءَ , وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ فَاخْتَارَ مَا عِنْدَهُ ” , فَبَكَى أَبُو بَكْرٍ ، وَقَالَ : فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا فَعَجِبْنَا لَهُ ، وَقَالَ النَّاسُ : انْظُرُوا إِلَى هَذَا الشَّيْخِ يُخْبِرُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَنْ عَبْدٍ خَيَّرَهُ اللَّهُ بَيْنَ أَنْ يُؤْتِيَهُ مِنْ زَهْرَةِ الدُّنْيَا وَبَيْنَ مَا عِنْدَهُ وَهُوَ ، يَقُولُ : فَدَيْنَاكَ بِآبَائِنَا وَأُمَّهَاتِنَا ، فَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ الْمُخَيَّرَ وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ هُوَ أَعْلَمَنَا بِهِ ، وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” إِنَّ مِنْ أَمَنِّ النَّاسِ عَلَيَّ فِي صُحْبَتِهِ وَمَالِهِ أَبَا بَكْرٍ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيلًا مِنْ أُمَّتِي لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ إِلَّا خُلَّةَ الْإِسْلَامِ لَا يَبْقَيَنَّ فِي الْمَسْجِدِ خَوْخَةٌ إِلَّا خَوْخَةُ أَبِي بَكْرٍ ” .(صحيح البخاري গ্ধ كِتَاب الْمَنَاقِبِ গ্ধ بَاب هِجْرَةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَرقم الحديث: ৩৬৪০ …)
“আল্লাহ তায়ালা তার আপন এক প্রিয় বান্দাকে দুটি বিষয়ের যে কোনো একটিকে গ্রহণ করার এখতিয়ার ও স্বাধীনতা দান করেছেন। যথা: ১. তিনি যতদিন ইচ্ছা জীবিত থেকে দুনিয়ার সুখশান্তি ও আরাম ভোগ করতে পারেন।
অথবা ২. আল্লাহর সান্নিধ্যে গিয়ে তার জন্য সংরক্ষিত নেয়ামত ভোগ করতে পারেন। আল্লাহর সে প্রিয় বান্দা দুটি অপশানের মধ্যে শেষটি গ্রহণ করে নিয়েছেন।” একথা শুনে হযরত আবু বকর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এর ইঙ্গিতটা বুঝতে পেরে কেঁদে উঠলেন। (বুখারী)

এজন্য হযরত উম্মে সালমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, দীর্ঘ জীবনের এখতিয়ার কেবল নবী করীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামকেই দান করা হয়েছে, অন্য কাউকে নয়।

এ জন্য কাযী আয়ায রাহমাতুল্লাহি আলায়হি শেফা শরীফে বা’বুল কারামত ও নবীজির বৈশিষ্ট্য অধ্যায়ে লিখেছেন: “আমরা মউতের অধীন, কিন্তু মউত নবীজির অধীন। কেননা মউত আল্লাহর সৃষ্ট মাখলুক আর সকল সৃষ্টির মূল হলেন হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর ওফাতের মাধ্যমে একথাই প্রমাণিত হয়েছে যে, সৃষ্টির মৃত্যু আছে কিন্তু স্রষ্টার মৃত্যু নেই।”

আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছা হলো খলীল ও হাবীবকে আপন সান্নিধ্যে নিয়ে যাবেন। কাজেই জীবের রূহ কবযের দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতা হযরত আযরাঈল আলায়হিস সালামকে নবী করীমের অনুমতি সাপেক্ষে তাঁর পবিত্র রূহ কবযের নির্দেশ দেয়া হলো।

আযরাঈল আলায়হিস সালাম উত্তম বেশ ধারণ করে হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহার হুজরার দরজায় দাঁড়ালেন এবং নবী পরিবারকে সালাম দিয়ে ঘরে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলেন।
فَاسْتَأْذَنَ مَلَكُ الْمَوْتِ عَلَى الْبَابِ، فَقَالَ جِبْرِيلُ: يَا مُحَمَّدُ، هَذَا مَلَكُ الْمَوْتِ يَسْتَأْذِنُ عَلَيْكَ، وَمَا اسْتَأْذَنَ عَلَى آدَمِيٍّ قَبِلَكَ، وَلَا يَسْتَأْذِنُ عَلَى آدَمِيٍّ بَعْدَكَ. فَقَالَ: ” ائْذَنْ لَهُ “. فَأَذِنَ لَهُ جِبْرِيلُ، فَأَقْبَلَ حَتَّى وَقَفَ بَيْنَ يَدَيْهِ. فَقَالَ: يَا مُحَمَّدُ، إِنَّ اللَّهَ – عَزَّ وَجَلَّ – أَرْسَلَنِي إِلَيْكَ، وَأَمَرَنِي أَنْ أُطِيعَكَ فِيمَا أَمَرْتَنِي بِهِ، إِنْ تَأْمُرْنِي أَنْ أَقْبِضَ نَفْسَكَ قَبَضْتُهَا، وَإِنْ كَرِهْتَ تَرَكْتُهَا؟ قَالَ: ” وَتَفْعَلُ يَا مَلَكَ الْمَوْتِ؟ “. قَالَ: نَعَمْ. وَبِذَلِكَ أُمِرْتُ أَنْ أُطِيعَكَ فِيمَا أَمَرْتَنِي بِهِ. فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ – عَلَيْهِ السَّلَامُ -: إِنَّ اللَّهَ – عَزَّ وَجَلَّ – قَدِ اشْتَاقَ إِلَى لِقَائِكَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: ” امْضِ لِمَا أُمِرْتَ بِهِ “. فَقَالَ لَهُ جِبْرِيلُ: هَذَا آخِرُ وَطْأَتِي فِي الْأَرْضِ، إِنَّمَا كُنْتَ حَاجَتِي فِي الدُّنْيَا. (وهذه قصة رواها الطبراني في المعجم الكبير (৩/১২৯) وفي كتاب الدعاء (১/৩৬৭) .الهيثمي في مجمع الزوائد (৯/৩৫) الحافظ العراقي في تخريج الإحياء (৪/৫৬০) والحافظ ابن حجر في “أجوبة بعض تلامذته” (১/৮৭) وابن كثير في البداية والنهاية (৫/২৯০) رواه الطبراني في المعجم الكبير (১২/১৪১) .الهيثمي في مجمع الزوائد (৯/৩৬) وقال العراقي في تخريج الإحياء (৪/৫৬০)

উল্লেখ্য, ফেরেশতা হিসেবে আযরাঈল আলায়হিস সালামের প্রধান দায়িত্বই হচ্ছে, জীবের রূহ কবয করা। অন্যান্য মরণশীল জীবের জন্য অপেক্ষা করা কিংবা অনুমতি চাওয়া ইত্যাদি তার কাজ নয়। কিন্তু রাসূলে রহমত একমাত্র ব্যতিক্রম, যাঁর অনুমতির অপেক্ষায় মালাকুল মাউত দীর্ঘক্ষণ দন্ডায়মান ছিলেন।

হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আগন্তুকের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, هَذَا هَادِمُ اللَّذَّاتِ، وَمُفَرِّقُ الْجَمَاعَاتِ، هَذَا مُرَمِّلُ الْأَزْوَاجِ، وَمُوتِمُ الْأَوْلَادِ، وَهَذَا مُخَرِّبُ الدُّورِ، وَعَامِرُ الْقُبُورِ، هَذَا مَلَكُ الْمَوْتِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -.“ইনি মানুষের স্বাদ-আহলাদ হননকারী, মানুষের কণ্ঠস্বর স্তব্ধকারী, মালাকুল মাউত।”
فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ الِاثْنَيْنِ اشْتَدَّ بِهِ الْأَمْرُ، وَأَوْحَى اللَّهُ – عَزَّ وَجَلَّ – إِلَى مَلَكِ الْمَوْتِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – أَنِ اهْبِطْ إِلَى حَبِيبِي وَصَفِيِّي مُحَمَّدٍ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – فِي أَحْسَنِ صُورَةٍ، وَارْفُقْ بِهِ فِي قَبْضِ رُوحِهِ. فَهَبَطَ مَلَكُ الْمَوْتِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – فَوَقَفَ بِالْبَابِ شِبْهَ أَعْرَابِيٍّ، ثُمَّ قَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ بَيْتِ النُّبُوَّةِ، وَمَعْدِنَ الرِّسَالَةِ، وَمُخْتَلِفَ الْمَلَائِكَةِ، أَدْخُلُ؟ “. فَقَالَتْ عَائِشَةُ لِفَاطِمَةَ: أَجِيبِي الرَّجُلَ. فَقَالَتْ فَاطِمَةُ: آجَرَكَ اللَّهُ فِي مَمْشَاكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ مَشْغُولٌ بِنَفْسِهِ. فَنَادَى الثَّانِيَةَ، فَقَالَتْ عَائِشَةُ: يَا فَاطِمَةُ أَجِيبِي الرَّجُلَ. فَقَالَتْ فَاطِمَةُ: آجَرَكَ اللَّهُ فِي مَمْشَاكَ يَا عَبْدَ اللَّهِ، إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – مَشْغُولٌ بِنَفْسِهِ. ثُمَّ نَادَى الثَّالِثَةَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ بَيْتِ النُّبُوَّةِ، وَمَعْدِنَ الرِّسَالَةِ، وَمُخْتَلَفَ الْمَلَائِكَةِ، أَدْخُلُ؟ فَلَا بُدَّ مِنَ الدُّخُولِ. فَسَمِعَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – صَوْتَ مَلَكِ الْمَوْتِ فَقَالَ: ” يَا فَاطِمَةُ مَنْ بِالْبَابِ “. فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ رَجُلًا بِالْبَابِ يَسْتَأْذِنُ فِي الدُّخُولِ، فَأَجَبْنَاهُ مَرَّةً بَعْدَ أُخْرَى، فَنَادَى فِي الثَّالِثَةِ صَوْتًا اقْشَعَرَّ مِنْهُ جِلْدِي، وَارْتَعَدَتْ مِنْهُ فَرَائِصِي. فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: ” يَا فَاطِمَةُ أَتَدْرِينَ مَنْ بِالْبَابِ؟ هَذَا هَادِمُ اللَّذَّاتِ، وَمُفَرِّقُ الْجَمَاعَاتِ، هَذَا مُرَمِّلُ الْأَزْوَاجِ، وَمُوتِمُ الْأَوْلَادِ، وَهَذَا مُخَرِّبُ الدُّورِ، وَعَامِرُ الْقُبُورِ، هَذَا مَلَكُ الْمَوْتِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -. ادْخُلْ يَرْحَمُكَ اللَّهُ يَا مَلَكَ الْمَوْتِ “. فَدَخَلَ مَلَكُ الْمَوْتِ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: ” جِئْتَنِي زَائِرًا أَمْ قَابِضًا؟ “. قَالَ: جِئْتُكَ زَائِرًا وَقَابِضًا، مجمع الزوائد ومنبع الفوائد (৯/২৯ المعجم الكبيرللطبراني(৩/১০৩)

অনুমতি পেয়ে আযরাঈল আলায়হিস সালাম রাসূলের দরবারে গিয়ে সালাম আরযপূর্বক জানালেন,
وَأَمَرَنِي اللَّهُ – عَزَّ وَجَلَّ – أَلَّا أَدْخُلَ عَلَيْكَ إِلَّا بِإِذْنِكَ، وَلَا أَقْبِضَ رُوحَكَ إِلَّا بِإِذْنِكَ، فَإِنْ أَذِنْتَ، وَإِلَّا رَجَعْتُ إِلَى رَبِّي – عَزَّ وَجَلَّ

আল্লাহ্ আপনাকে সালাম দিয়েছেন এবং আপনার অনুমতি সাপেক্ষে গোটা সৃষ্টিকুলের মধ্যে সর্বোত্তম ও এহসানের সাথে আপনার জান মোবারক কবযের নির্দেশ দিয়েছেন।” জীবরাঈল আলায়হিস সালাম বললেন, الوداع يا رسول الله “আল বেদা, ইয়া রাসূলুল্লাহ!” একটি রেওয়ায়েতে আছে, এটি ছিল ১২ রবিউল আউয়াল, সোমবার, চাশতের নামাযের সময়। ওফাতের সময় তিনি মা আয়েশা সিদ্দিকার কোলে মেসওয়াকরত ছিলেন।
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা রাসূলের অন্তিম মুহুর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, তাঁর পবিত্র জবানে উচ্চারিত হচ্ছিল, الصَّلاَةَ الصَّلاَةَ وما مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ“আস সালাত-আস সালাত, ওয়ামা মা-লাকাত আইমানুকুম” অর্থাৎ নামায-নামায এবং তোমাদের দাসদাসী (অর্থাৎ নামায ও দাসদাসীদের প্রতি গুরুত্ব দিও) অতঃপর তাঁর পবিত্র আঙ্গুল মোবারক আকাশের দিকে উঠিয়ে বললেন, اللَّهُمَّ الرَّفِيقَ الأَعْلَى،“আল্লাহুম্মা আর রাফিক আল আ’লা” অর্থাৎ আমার প্রিয়তম বন্ধুর সান্নিধ্য হে আল্লাহ্!- একথা বলেই মহানবীর মহান রূহ মোবারক আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন। (সহীহ আল বুখারী)
কাফন-দাফন:
—————————–
উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার ইন্তেকাল করেন এবং বুধবারের পূর্বে রাত্রে তাঁকে দাফন করা হয়। (বায়হাকী, আহমদ ইবনে হাম্বল) হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা আরো বলেন,
أخْبَرَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ أَنَّ أَبَا عَمْرٍو ذَكْوَانَ مَوْلَى عَائِشَةَ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَائِشَةَ كَانَتْ تَقُولُ : إِنَّ مِنْ نِعَمِ اللَّهِ عَلَيَّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُوُفِّيَ فِي بَيْتِي وَفِي يَوْمِي وَبَيْنَ سَحْرِي وَنَحْرِي وَأَنَّ اللَّهَ جَمَعَ بَيْنَ رِيقِي وَرِيقِهِ عِنْدَ مَوْتِهِ { صحيح البخاري – كِتَاب الْمَغَازِي – رقم الحديث ৪১৮৪ }ع عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَيَتَعَذَّرُ فِي مَرَضِهِ أَيْنَ أَنَا الْيَوْمَ أَيْنَ أَنَا غَدًا اسْتِبْطَاءً لِيَوْمِعَائِشَةَ فَلَمَّا كَانَ يَوْمِي قَبَضَهُ اللَّهُ بَيْنَ سَحْرِي وَنَحْرِي وَدُفِنَ فِي بَيْتِي { صحيح البخاري – كِتَاب الْجَنَائِزِ – صفحة ৪৬৮ – حديث رقم ১৩২৩ }.رواه البخاري (৪৪৩৮).
“আল্লাহর পুরস্কারসমূহের একটি পুরস্কার আমি এই পেলাম যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা’য়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কোলে- আমার ঘরে এবং আমার পালার দিন ওফাত গ্রহণ করেন। (তাবাকাতে ইবনে সা’দ) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তায়ালা আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাত সংঘটিত হবার পর তাঁর দেহ মুবারক হতে এমন সুঘ্রাণ বের হতে লাগলো মা আয়েশা সিদ্দিকা’র মতে
قَالَتْ عائشة رضي الله عنها : فَلَمَّا خَرَجَتْ نَفْسُهُ لَمْ أَجِدْ رِيحًا قَطُّ أَطْيَبَ مِنْهَا وعن عائشة رضي الله عنها قالت : وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: ্রمَاتَ النَّبِيُّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – فَلَمَّا خَرَجَتْ نَفْسُهُ مَا شَمَمْتُ رَائِحَةً قَطُّ أَطْيَبَ مِنْهَا .رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَرِجَالُهُ رِجَالُ الصَّحِيحِ. رقم الحديث ৭২ مجمع الزوائد ومنبع الفوائد গ্ب علامات النبوة  باب). عن أم سلمة قالت : (( وضعت يدي على صدر رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم مات فمرت لي جمع آكل، وأتوضأ، وما يذهب ريح المسك من يدي )) . رواه البيهقي في دلائل النبوةحديث أبي بكر رضي الله عنه حين قبله بعد موته وقَالَ : بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي طِبْتَ حَيًّا وَمَيِّتًا .ويأتي أيضًا قول علي رضي الله عنه حين قال وهو يغسله : طِبْتَ حَيًّا وَطِبْتَ مَيِّتًا .
“আমি ইতিপূর্বে এমন সুগন্ধি আর কোনো কিছুতেই অনুভব করিনি, অনেক দিন পর্যন্ত সে মিষ্টি সুঘ্রাণ আমার হাতে বিদ্যমান ছিলো।“ (মাদারেজুন নবুয়ত: আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলভী)

ওফাতের পর সর্বপ্রথম হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু নবীজির চেহারা মোবারক চাদর উল্টিয়ে দেখেন এবং পরম ভক্তি শ্রদ্ধার সাথে নবীজির কপাল মুবারকে চুমু খেয়ে বললেনঃ আপনি দ্বিতীয়বার ওফাত পাবেন না । (বুখারী)

أَقْبَلَ أَبُو بَكْرٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ حتى دَخَلَ عَلَى عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ، فَتَيَمَّمَ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ مُسَجًّى بِبُرْدِ حِبَرَةٍ ، فَكَشَفَ عَنْ وَجْهِهِ ، ثُمَّ أَكَبَّ عَلَيْهِ ، فَقَبَّلَهُ ، ثُمَّ بَكَى ، فَقَالَ : بِأَبِي أَنْتَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ ، لاَ يَجْمَعُ اللَّهُ عَلَيْكَ مَوْتَتَيْنِ ، أَمَّا المَوْتَةُ الَّتِي كُتِبَتْ عَلَيْكَ فَقَدْ مُتَّهَا
( صحيح البخاري গ্ধ كِتَاب الْمَغَازِي গ্ধ بَاب مَرَضِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ … رقم الحديث: ৪১২২)

সাহাবায়ে কেরাম এ হৃদয় বিদারক ঘটনায় হতবাক ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। মদিনার অলিতে গলিতে কান্নার এমন রোল উঠেছিল মনে হচ্ছিল সবাই সমস্বরে তালবিয়া পড়ছিল। এক সাহাবীর বেদনাবিধুর একটি দোয়ার কথাও বর্ণিত হয়েছে, اللهم خذ بصري حتى لا أرى أحداً بعد رسول الله فأخذ الله بصره
“হে আল্লাহ্! আমার দৃষ্টি শক্তি শেষ করে দাও যাতে নবী করীম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের রূপ সৌন্দর্য দর্শনের পরে আমাকে অন্য কিছু দেখতে না হয়।“

ইসলামের প্রথম মুয়াযযিন হযরত বেলাল রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু রাসূলের শোকে মুহ্যমান হয়েই শেষ পর্যন্ত ইহজগত ত্যাগ করেন। ওমর ফারুক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র মত সাহাবীও বেদানাধিক্যে সাধারণ জ্ঞান হারিয়ে বলেছিলেন,

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : ” لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَامَ عُمَرُ ، فَقَالَ : إِنَّ رِجَالا مِنَ الْمُنَافِقِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُوُفِّيَ ، وَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مَاتَ وَلَكِنَّهُ ذَهَبَ إِلَى رَبِّهِ كَمَا ذَهَبَ مُوسَى بْنُ عِمْرَانَ ، وَغَابَ عَنْ قَوْمِهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ، وَاللَّهِ لَيَرْجِعَنَّ رَسُولُ اللَّهِ فَلَيُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَ رِجَالٍ وَأَرْجُلَهُمْ ،
“রাসূল ওফাত বরণ করেননি, ওফাত বরণ করতে পারেন না। যে বলবে রাসূলের ওফাত হয়েছে, তার গর্দান যাবে।“

ইসলামের ত্রাণকর্তা হিসেবে খ্যাত সাহাবী হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে এক হৃদয়গ্রাহী ভাষণ দেন এবং পবিত্র কুরআনের এ আয়াত স্মরণ করান, مَا مُحَمَّدٌ إِلا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ أَفَإِنْ مَاتَ أَوْ قُتِلَ انْقَلَبْتُمْ عَلَى أَعْقَابِكُمْ “ওয়ামা মুহাম্মদুন ইল্লা রাসূলুন ক্বাদ খালাত মিন ক্বাবলিহীর রুসূল” অর্থাৎ হযরত মুহাম্মদ হলেন আল্লাহর একজন রাসূল। তাঁর পূর্বে বহু রাসূল গত হয়েছেন।“ (সূরা আলে ইমরান: ১৪৪)

এ আয়াত শুনার পর কোনো সাহাবী মন্তব্য করেন যে,
قَالَ : فَوَاللَّهِ لَكَأَنَّ النَّاسَ لَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى تَلاهَا أَبُو بَكْرٍ يَوْمَئِذٍ . قَالَ : وَأَخَذَهَا النَّاسُ عَنْ أَبِي بَكْرٍ فَإِنَّمَا هِيَ فِي أَفْوَاهِهِمْ . قَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ : قَالَ عُمَرُ : وَاللَّهِ مَا هُوَ إِلا أَنْ سَمِعْتُ أَبَا بَكْرٍ يَتْلُوهَا فَعُقِرْتُ حَتَّى وَقَعْتُ إِلَى الأَرْضِ ، مَا تَحْمِلُنِي رِجْلايَ وَعَرَفْتُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ قَدْ مَاتَ ” .
“মনে হচ্ছিল এ আয়াত সমূহ এইমাত্র নাযিল হয়েছে, অথচ তা নাযিল হয়েছিল আরও সাত বছর পূর্বে ওহুদ যুদ্ধের সময়। ”

অতঃপর হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু সবাইকে নবীজির কায়েমকৃত ইসলামের প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে একজন খলিফা নির্বাচনের তাগিদ পেশ করেন।

পরের দিন মঙ্গলবার পবিত্র গোসল, জানাযা, কাফন-দাফনের কাজ আরম্ভ হয়। আর এ পবিত্র বরকতম-িত কাজে আনসার মুহাজির সবাই অংশগ্রহণের দাবি জানালে আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এ ব্যাপারে তাঁর নিকটাত্মীয় ছাড়া কারো অধিকার নেই।
قَالَ: فَقُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَنْ يُغَسِّلُكَ إِذًا؟ قَالَ: ” رِجَالُ أَهْلِ بَيْتِي، الْأَدْنَى فَالْأَدْنَى “. قُلْنَا: فَفِيمَ نُكَفِّنُكَ؟ قَالَ: ” فِي ثِيَابِي هَذِهِ – إِنْ شِئْتُمْ – أَوْ فِي حُلَّةٍ يَمَنِيَّةٍ، أَوْ فِي بَيَاضِ مِصْرَ “.
নবী করীম সাল্লাল্লহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের আগেভাগেই নির্দেশ ছিল-
قَالَ عَلِيٌّ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِذَا أَنْتَ قُبِضْتَ فَمَنْ يُغَسِّلُكَ؟ وَفِيمَ نُكَفِّنُكَ؟ وَمَنْ يُصَلِّي عَلَيْكَ؟ وَمَنْ يُدْخِلُكَ الْقَبْرَ؟ قَالَ النَّبِيُّ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: ” يَا عَلِيُّ، أَمَّا الْغُسْلُ فَاغْسِلْنِي أَنْتَ، وَالْفَضْلُ بْنُ عَبَّاسٍ يَصُبُّ عَلَيْكَ الْمَاءَ، وَجِبْرِيلُ – عَلَيْهِ السَّلَامُ – ثَالِثُكُمَا، فَإِذَا أَنْتُمْ فَرَغْتُمْ مِنْ غُسْلِي فَكَفِّنِي فِي ثَلَاثَةِ أَثْوَابٍ جُدُدٍ، وَجِبْرِيلُ – عَلَيْهِ السَّلَامُ – يَأْتِينِي بِحَنُوطٍ مِنَ الْجَنَّةِ، فَإِذَا أَنْتُمْ وَضَعْتُمُونِي عَلَى السَّرِيرِ فَضَعُونِي فِي الْمَسْجِدِ وَاخْرُجُوا، فَإِنَّ أَوَّلَ مَنْ يُصَلِّي عَلَيَّ الرَّبُّ – عَزَّ وَجَلَّ – مِنْ فَوْقِ عَرْشِهِ، ثُمَّ جِبْرِيلُ – عَلَيْهِ السَّلَامُ – ثُمَّ مِيكَائِيلُ، ثُمَّ إِسْرَافِيلُ – عَلَيْهِمَا السَّلَامُ – ثُمَّ الْمَلَائِكَةُ زُمَرًا زُمَرًا، ثُمَّ ادْخُلُوا فَقُومُوا صُفُوفًا لَا يَتَقَدَّمُ عَلَيَّ أَحَدٌ
“আলী যেন আমাকে গোসল দেয়।”
فَغَسَلَهُ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ، وَأُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ يَصُبُّ عَلَيْهِ الْمَاءَ، فَقَالَ عَلِيٌّ: مَا نَسِيتُ مِنْهُ شَيْئًا لَمْ أَغْسِلْهُ إِلَّا قُلِبَ لِي حَتَّى أَرَى أَحَدًا، فَأَغْسِلُهُ مِنْ غَيْرِ أَنْ أَرَى أَحَدًا حَتَّى فَرَغْتُ مِنْهُ، ثُمَّ كَفَّنُوهُ بِبُرْدٍ يَمَانِيٍّ أَحْمَرَ وَرَيْطَتَيْنِ قَدْ نِيلَ مِنْهُمَا، ثُمَّ غُسِّلَ، ثُمَّ أُضْجِعَ عَلَى السَّرِيرِ، ثُمَّ أَذِنُوا لِلنَّاسِ ; فَدَخَلُوا عَلَيْهِ فَوْجًا فَوْجًا يُصَلُّونَ عَلَيْهِ بِغَيْرِ إِمَامٍ، حَتَّى لَمْ يَبْقَ أَحَدٌ بِالْمَدِينَةِ – حُرٌّ وَلَا عَبْدٌ – إِلَّا صَلَّى عَلَيْهِ.
সে অনুসারে হযরত আলী রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু একা গোসলের কাজ করেন। পরিধানের কাপড় মুবারক যথাস্থানে রেখে উত্তমরূপে গোসল দেয়া হয়। হযরত আব্বাস, ফযল ও কুসাম রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের নিকট কাপড় মোবারক বদলানোর কাজে সহয়তা করেন।
পানি ঢালার কাজে সহায়তা করেন উসামা ও সালেহ। গোসল দেয়ার পর নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওসাল্লামকে দু’খানা ইয়ামেনী সাহূলী সাদা কাপড় এবং নিজের গায়ের জামা মোবারক দিয়ে কাফন পরানো হয়।
রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে কোথায় দাফন করা হবে এ নিয়ে সাহাবায়ে কেরামের মাঝে শলা-পরামর্শ শুরু হলে হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে,
لَقَدِ اخْتَلَفَ الْمُسْلِمُونَ فِي الْمَكَانِ الَّذِي يُحْفَرُ لَهُ ، فَقَالَ قَائِلُونَ : يُدْفَنُ فِي مَسْجِدِهِ ، وَقَالَ قَائِلُونَ : يُدْفَنُ مَعَ أَصْحَابِهِ ، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ : إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، يَقُولُ : ” مَا قُبِضَ نَبِيٌّ إِلَّا دُفِنَ حَيْثُ يُقْبَضُ ” ، قَالَ : فَرَفَعُوا فِرَاشَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الَّذِي تُوُفِّيَ عَلَيْهِ ، فَحَفَرُوا لَهُ ، ثُمَّ دُفِنَ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَسَطَ اللَّيْلِ مِنْ لَيْلَةِ الْأَرْبِعَاءِ ،
হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, مَا قُبِضَ نَبِيٌّ إِلَّا دُفِنَ حَيْثُ يُقْبَضُ “নবীগণ যে স্থানে ইন্তেকাল করেন সে স্থানে তাঁদের দাফন করতে হয়।”
অতএব, সে অনুযায়ী হযরত আয়েশা সিদ্দিকার ঘরের যে অংশ শয্যা ছিল সে অংশেই বিছানা সরিয়ে একটি লাহদী (বগলী) কবর শরীফ খনন করা হয়। কবর খনন কার্যে পারদর্শী মদীনার আনসার সাহাবী হযরত আবু তালহা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু উক্ত কবর শরীফ খনন করেন। কবরের মেঝেতে নবীজীর সচরাচর ব্যবহৃত একখানা লাল ইয়ামেনী চাদর মুবারক, যা তিনি হুনায়নের যুদ্ধে গণিমতের মাল হিসেবে পেয়েছিলেন তা বিছিয়ে দেওয়া হয়। চাদর বিছানোর এ ব্যবস্থা কেবল তাঁর জন্য খাস।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ، قَالَ : لَمَّا أَرَادُوا أَنْ يَحْفِرُوا لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعَثُوا إِلَى أَبِي عُبَيْدَةَ بْنِ الْجَرَّاحِ وَكَانَ يَضْرَحُ كَضَرِيحِ أَهْلِ مَكَّةَ ، وَبَعَثُوا إِلَى أَبِي طَلْحَةَ وَكَانَ هُوَ الَّذِي يَحْفِرُ لِأَهْلِ الْمَدِينَةِ وَكَانَ يَلْحَدُ ، فَبَعَثُوا إِلَيْهِمَا رَسُولَيْنِ ، وَقَالُوا : اللَّهُمَّ خِرْ لِرَسُولِكَ ، فَوَجَدُوا أَبَا طَلْحَةَ ، فَجِيءَ بِهِ وَلَمْ يُوجَدْ أَبُو عُبَيْدَةَ فَلَحَدَ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ،
মৃত ব্যক্তির জন্য জানাযার নামাজ একটি প্রচলিত বিধান। কিন্তু সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদুর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের জন্য প্রথা প্রযোজ্য নয়। কাজেই তাঁর জন্য কোন জানাযার নামায হয়নি। দরূদ, সালাম আর মোনাজাতের মাধ্যমেই জানাযার কাজ সমাধা করা হয়েছে। আনসার-মুহাজির, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই দলে দলে এসে দরূদ আর সালামের হাদিয়া পেশ করে গেছেন।
قَالَ : فَلَمَّا فَرَغُوا مِنْ جِهَازِهِ يَوْمَ الثُّلَاثَاءِ وُضِعَ عَلَى سَرِيرِهِ فِي بَيْتِهِ ، ثُمَّ دَخَلَ النَّاسُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَرْسَالًا يُصَلُّونَ عَلَيْهِ ، حَتَّى إِذَا فَرَغُوا أَدْخَلُوا النِّسَاءَ ، حَتَّى إِذَا فَرَغُوا أَدْخَلُوا الصِّبْيَانَ ، وَلَمْ يَؤُمَّ النَّاسَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَحَدٌ
স্বয়ং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায় বলেছিলেন-

“গোসল করানো ও কাফন পরানোর পর আমার কফিন কবরের কিনারায় রেখে দেবে এবং কিছুক্ষণের জন্য বাইরে চলে যাবে। কেননা ফেরেশতারা আমার উপর সালাত ও সালাম পেশের জন্য আসবে। এরপর তোমরা এক এক করে আমার প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করবে। প্রথমে আবু বকর ও ওমর রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে শুরু করে আমার নিকটাত্মীয় পুরুষগণ অতঃপর মহিলাগণ এরপর শিশুরা ক্রমান্বয়ে প্রবেশ করে সালাম ও দরূদ পেশ করবে।”

মঙ্গলবার দিনে গোসল ও কাফনের পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এভাবে পালা করে দরূদ ও সালামের অনুষ্ঠান চলতে থাকে। এতে এ কথাই প্রমাণিত হয় যে, তাঁর পবিত্র রূহ মোবারকের প্রতি সালাম ও দরূদ প্রেরণ করা যে কোন মুসলমানের জন্য একটি আবশ্যকীয় কাজ, যা আল্লাহ পাকের কাছেও অত্যন্ত পছন্দনীয়।

মঙ্গলবার দিনগত রাত্রে (যা বুধবার বলে গণ্য) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামের দাফন কাজ সম্পন্ন হয়। ইবনে সা’দের রেওয়ায়েত থেকে জানা যায়, খোদ রাসূলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম একথা বলেছিলেন- “আমার নিকটাত্মীয়রা আমাকে গোসল করাবে এবং তারাই আমাকে কবরে নামাবে।”

হযরত আলী, হযরত আব্বাস, হযরত ফজল ইবনে আব্বাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম এবং নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের আশ্রিত খাদেম হযরত সালেহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু এ চারজন নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লামকে কবর মোবারক রাখেন।
وَنَزَلَ فِي حُفْرَتِهِ عَلِيُّ بْنُ أَبِي طَالِبٍ ، وَالْفَضْلُ بْنُ الْعَبَّاسِ ، وَقُثَمُ أَخُوهُ ، وَشُقْرَانُ مَوْلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، وَقَالَ أَوْسُ بْنُ خَوْلِيٍّ وَهُوَ أَبُو لَيْلَى لِعَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ : أَنْشُدُكَ اللَّهَ ، وَحَظَّنَا مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ لَهُ عَلِيٌّ : انْزِلْ وَكَانَ شُقْرَانُ مَوْلَاهُ أَخَذَ قَطِيفَةً كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَلْبَسُهَا فَدَفَنَهَا فِي الْقَبْرِ ، وَقَالَ : وَاللَّهِ لَا يَلْبَسُهَا أَحَدٌ بَعْدَكَ أَبَدًا ، فَدُفِنَتْ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ” .
হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা বলেন, “রাসূল করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোমবার দিন ইন্তেকার করেন এবং বুধবার পূর্বরাতে তাঁকে দাফন করা হয়। বিশিষ্ট তা’বেয়ী হযরত সায়িদ ইবনে মুসাইয়্যিব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা স্বপ্নে দেখেন-
وَعَنْ عَائِشَةَ أَنَّهَا قَالَتْ: رَأَيْتُ كَأَنَّ ثَلَاثَةَ أَقْمَارٍ سَقَطْنَ فِي حِجْرِي، فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ: إِنْ صَدَقَتْ رُؤْيَاكِ دُفِنَ فِي بَيْتِكِ خَيْرُ أَهْلِ الْأَرْضِ ثَلَاثَةٌ. فَلَمَّا مَاتَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – قَالَ لَهَا أَبُو بَكْرٍ: خَيْرُ أَقْمَارِكِ يَا عَائِشَةُ. وَدُفِنَ فِي بَيْتِهَا أَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ. رَوَاهُ الطَّبَرَانِيُّ فِي الْكَبِيرِ وَاللَّفْظُ لَهُ، وَالْأَوْسَطِ، وَرِجَالُ الْكَبِيرِ رِجَالُ الصَّحِيحِ.
তিনটি চাঁদ তার কোলে পতিত হয়। স্বপ্নের বিবরণ শুনে আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু মন্তব্য করেন যে, তুমি যদি সত্যিই এটি স্বপ্নে দেখে থাকো তবে তার অর্থ হচ্ছে- তোমার গৃহে পৃথিবীর তিন শ্রেষ্ঠ মানবের দাফন হবে।
নবী করীম সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফন হলে আবু বকর সিদ্দিক রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হযরত আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহাকে লক্ষ্য করে বলেন- ইয়া আয়েশা! হা-যা খাইরূ আক্বমারিক অর্থাৎ হে আয়েশা! তোমার তিন চাঁদের মধ্যে ইনিই হচ্ছে সর্বোত্তম চাঁদ।

দাফন শেষে সবাই শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েন। উম্মাহাতুল মু’মিনীন ও হযরত ফাতেমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুমা আয়েশা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা’র হুজরার অপর অংশে কান্নারত ছিলেন। উম্মে সালমা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা সে বেদনাবিধুর মুহূর্তের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, আমরা সে রাতে কান্নারত ছিলাম। ভোরের দিকে মসজিদে নববীতে মুসল্লীদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম।

নবী-রাসূল আলাইহিমুস সালামদের ‘বিলাদাত শরীফ’ এবং ‘বিসাল শরীফ’ উভয়ই কল্যাণময়: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিলাদাত শরীফ এবং বিসাল শরীফ উভয়ই সৃষ্টিকুলের জন্য কল্যাণকর। তাঁর পবিত্র ওফাত এক দিকে স্রষ্টা এবং সৃষ্টির মাঝে ব্যবধান তৈরি করেছে, অপর দিকে বন্ধুর সাথে বন্ধুর মিলনের সেতু বন্ধন রচিত হয়েছে। হযরত আবু দারদা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর বাচনিক দৃষ্টিভঙ্গিতে মুমিন তথা উম্মাতের জন্য এ ওফাত উত্তম ও নেয়ামত।

এ জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, وَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” حَيَاتِي خَيْرٌ لَكَمْ تُحْدِثُونَ وَيُحَدَثُ لَكَمْ، وَوَفَاتِي خَيْرٌ لَكَمْ تُعْرَضُ عَلَيَّ أَعْمَالُكُمْ، فَمَا رَأَيْتُ مِنْ خَيْرٍ حَمَدَتُ اللَّهَ عَلَيْهِ، وَمَا رَأَيْتُ مِنْ شَرٍّ اسْتَغْفَرْتُ اللَّهَ لَكَمْগ্ধ “.“হায়াতী খাইরুল লাকুম ওয়া মামাতী খাইরুল লাকুম” অর্থাৎ আমার হায়াতও তোমাদের জন্য উত্তম ও নেয়ামত এবং আমার ওফাতও তোমাদের জন্য উত্তম ও নেয়ামত।”[কানযুল উম্মাল শরীফ; শিফা শরীফ ২য় খন্ড ১৯ পৃষ্ঠা]

এ জন্য কুরআনে বিশেষভাবে তার ওফাত শরীফকে স্মরণ করিয়ে এরশাদ হয়েছে, إِنَّكَ مَيِّتٌ وَإِنَّهُم مَّيِّتُونَ“ইন্নাকা মায়্যিতুন ওয়া ইন্নাহুম মায়্যিতুন। الزمر-৩০ “ অর্থাৎ আপনার ওফাত হবে তাদেরও মৃত্যু হবে।

এ জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু তাআলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
عن النبي صلى الله عليه وسلم قال : ( إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الْجُمُعَةِ ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ عَلَيْهِ السَّلَام ، وَفِيهِ قُبِضَ ، وَفِيهِ النَّفْخَةُ ، وَفِيهِ الصَّعْقَةُ ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنْ الصَّلَاةِ فَإِنَّ صَلَاتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ ، قَالُوا : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، وَكَيْفَ تُعْرَضُ صَلاتُنَا عَلَيْكَ وَقَدْ أَرَمْتَ -أَيْ يَقُولُونَ قَدْ بَلِيتَ- قَالَ : إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ حَرَّمَ عَلَى الأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الأَنْبِيَاءِ عَلَيْهِمْ السَّلام ) . رواه أبو داود (১০৪৭) وصححه ابن القيم في تعليقه على سنن أبي داود (৪/২৭৩) . وصححه الألباني في صحيح أبي داود (৯২৫) .

“তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে উত্তম দিন হচ্ছে, জুমুয়ার দিন। এদিনে আদম আলাইহিস সালাম পয়দা হয়েছেন এবং এদিনেই তিনি বিসাল বা ইন্তেকাল লাভ করেন!”[সহীহ নাসায়ী শরীফ -জুমুয়ার অধ্যায়]
উক্ত হাদীস শরীফ থেকে প্রমানিত হলো জুমুয়ার দিন আল্লাহর নবী এবং রসূল হযরত আদম আলাইহিস সালামের ওফাত শরীফের দিন হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ পাক স্বয়ং নিজেই সে দিনটিকে উত্তম দিন হিসাবে নিদৃষ্ট করে দিয়েছেন! এবং স্বয়ং হুজুর পাক সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জুমুয়ার দিনকে ঈদের দিন বলে ঘোষনা দিয়েছেন!

আল্লাহ পাক পবিত্র কুর’আন-এ হযরত ঈসা আলাইহিস সালামের ব্যাপারে ইরশাদ করেন, وَسَلَامٌ عَلَيْهِ يَوْمَ وُلِدَ وَيَوْمَ يَمُوتُ وَيَوْمَ يُبْعَثُ حَيًّا “উনার প্রতি সালাম (শান্তি), যেদিন তিনি বিলাদত শরীফ লাভ করেছেন এবং যেদিন তিনি বিসাল শরীফ লাভ করবেন এবং যেদিন তিনি পুনরুত্থিত হবেন!” [সূরা মারইয়ম ১৫]

অনুরুপ হযরত ইয়াহইয়া আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বলা হয়েছে, যেটা তিনি নিজেই বলেন- وَالسَّلَامُ عَلَيَّ يَوْمَ وُلِدتُّ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا”আমার প্রতি সালাম বা শান্তি যেদিন আমি বিলাদত লাভ করি, যেদিন আমি বিসাল লাভ করব এবং যেদিন পুনুরুত্থিত হবো!” [সূরা মারইয়াম ৩৩]

সুতরাং উপরোক্ত কুর’আন ও সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হল নবী-রাসূলগণের ‘বিলাদাত শরীফ’ এবং ‘বিসাল শরীফ’ উভয়ই উম্মতের জন্ম কল্যাণময়।

তিনি হায়াতুন নবী:
******************
রাসূল পাক সাল্লাল্লাহু তাআলা আলাইহি ওয়াসাল্লামের মর্যদার একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো- তিনি হায়াতুন নবী। রওযা মোবারকে দাফন করার পর পরই আল্লাহ পাক তার পবিত্র রুহকে ফিরিয়ে দেন। এ রূহ মোবারক পবিত্র দেহে ক্বিয়ামত পর্যন্ত অবস্থান করবে, তিনি উম্মতের সালামের জওয়াব দেন এবং উম্মতের জন্য সর্বদা দোয়া করেন।

নবী আলাইহিস সালাম আমাদের থেকে পর্দা করছেন মাত্র। তাঁরা তাঁদের রওযা মোবারকে বিশ্রাম করছেন এবং আল্লাহর রিয্ক প্রাপ্ত হচ্ছেন। তাঁরা রওযায় আল্লাহর যিকির এবং নামায দ্বারা ইবাদাতে মসগুল থাকেন। হযরত আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
” الأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ ”
أخرجه البيهقي في حياة الأنبياء في قبورهم [ص /২৩ طبعة مكتبة الإيمان]، من طريق أبي يعلى به…. قال الهيثمي في المجمع [৮/ ৩৮৬ ] : ্র رواه أبو يعلى والبزار ورجال أبو يعلى ثقات গ্ধ . وقبله نقل ابن الملقن في البدر المنير [৫/ ২৮৫] عن البيهقي أنه قال بعد أن ساق هذا الطريق : ্র هَذَا إِسْنَاد صَحِيح গ্ধ ثم قال ابن الملقن : ্রوَهُوَ كَمَا قَالَ ؛ لِأَن رِجَاله كلهم ثِقَات গ্ধ . قلتُ : وإسناده قوي مستقيم ، رجاله كلهم ثقات معروفون :

“নবীগন তাঁদের কবরে জীবিত। আর তাঁরা সেখানে নামায পড়েন।” [মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৬৮৮৮, মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস নং-৩৪২৫, সহীহ কুনুযুস সুন্নাতির নববিয়্যাহ, হাদীস নং-২২]

আনাস রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত । তিনি বলেনঃ
عَنْ أَنَسٍ ، قَالَ : ” لَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الَّذِي دَخَلَ فِيهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ أَضَاءَ مِنْهَا كُلُّ شَيْءٍ ، فَلَمَّا كَانَ الْيَوْمُ الَّذِي مَاتَ فِيهِ أَظْلَمَ مِنْهَا كُلُّ شَيْءٍ ، وَمَا نَفَضْنَا أَيْدِيَنَا مِنَ التُّرَابِ ، وَإِنَّا لَفِي دَفْنِهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , حَتَّى أَنْكَرْنَا قُلُوبَنَا ” .( الشمائل المحمدية للترمذي গ্ধ بَابُ : مَا جَاءَ فِي وَفَاةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى …)
যে দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় আগমন করেন, তখণ মদীনার প্রতিটি বস্তু উজ্জ্বল হয়ে উঠে। আর যেদিন তিনি ইনতিকাল করেন, সেদিন মদীনার প্রতিটি বস্তু আধারে আচ্ছন্ন হয়ে যায় । নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দাফন কাজ সম্পন্ন করার পর আমাদের অন্তর ব্যথায় ভারাক্রান্ত হয়ে উঠে।

ইসহাক ইবন মানসুর উবায়্যা ইবন কাব রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেনঃ আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে এমন ভাবে ছিলাম যে, আমাদের দৃষ্টি ছিল এক দিকেই । যখন তাঁর ইনতিকাল হয়, তখন আমরা এদিক সেদিক দৃষ্টি দিতে লাগলাম ।
وصلى الله على سيدنا محمد وعلى آله وصحبه أجمعين. والحمد لله رب العالمين.

%d bloggers like this: