ঢাকা ৩৫°সে ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর কপালে ‘দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ’ দেখছেন রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ‘অনিশ্চয়তা’ বিরাজ করছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কপালে দুঃশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। নিজেদের নির্দয় দুঃশাসন ও কুৎসিত মাফিয়া শাসনের ঘটনা দেশে-বিদেশে প্রচারকে আড়াল করতেই আজ তড়িঘড়ি করে হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সাতক্ষীরার স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দকে সাজা দেয়া হলো। বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, গুম-খুন, শেয়ারবাজার লুট, ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ, পর্দা-বালিশ থেকে শুরু করে প্রতিটি সরকারি কেনাকাটায় সাগরচুরি, নির্মাণকাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহার, জিপিএ-ফাইভ উল্লম্ফণ, পরিবেশ দূষণ, মাদকের বিস্তার, ক্যাসিনো বাণিজ্য, বিদ্যুৎখাতের হরিলুটকে ইন্ডেমনিটি দেয়া, বিরোধী দল দমনে মিথ্যা মামলা ও গ্রেপ্তারসহ কত ক্ষেত্রে যে তারা অপরিসীম ‘কৃতিত্বের’ বিশ্বরেকর্ড একের পর এক গড়ে চলেছে। ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব উৎপাদন ও বিতরণে বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রীদের মতো পারঙ্গম আর কেউ আছেন কিনা তা আমাদের জানা নেই। শেখ হাসিনার সরকার অত্যন্ত ষড়যন্ত্র অভিলাষী সরকার। তারা যখন খুব বিচলিত হয়ে পড়ে তখন ষড়যন্ত্র-তত্ত্বের কথা বলে। অকথ্য, অশ্লীল, অসত্য ও অসভ্য প্রপাগান্ডা আওয়ামী লীগের একমাত্র হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। কারণ তারা জনগণের কাছ থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে সরে গেছে।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, আওয়ামী লীগ আরও একটি বিষয়ে বিশ্বরেকর্ড করেছে। সেটি হচ্ছে আদালতকে ব্যবহার করে নির্দোষ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সাজা দেয়া। এর শিকার হয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, দেশনায়ক তারেক রহমান ও বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ দেশের লাখ লাখ নেতাকর্মী। সাজানো ঘটনায় মিথ্যা মামলা দিয়ে দেশব্যাপী একের পর এক বিএনপির নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়ে কারাগারে ভরে রাখা হচ্ছে। তার সর্বশেষ শিকার হলেন বিএনপির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ বিএনপির ৫০ জন নেতাকর্মী। ২০০২ সালে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলার মিথ্যা অভিযোগে হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সাতক্ষীরার স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নামে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দেয়া হয়। অথচ সেদিন হাবিবুল ইসলাম হাবিব ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। আওয়ামী সরকার বিএনপিকে ধারাবাহিকভাবে ধ্বংস করার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন পর এই মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করে।

রিজভী বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা এড়াতেই সাজানো আদালতকে দিয়ে ইন্সট্যান্ট প্রতিহিংসা পূরণ করতে পারদর্শী শেখ হাসিনা হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সাজা দিলেন। এই মিথ্যা মামলাটিকে যে আওয়ামী লীগ প্রতিশোধ গ্রহণের খেলায় মেতেছে তার প্রমাণ ঢাকা থেকে একজন অ্যাডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেল ও তিনজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে সাতক্ষীরায় পাঠানো এবং মামলাটিকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে আসা। যা নজীরবিহীন ঘটনা। জেলা পর্যায়ে সরকারের পক্ষে পিপি এপিপিরাই মামলা পরিচালনা করেন, সেখানে একজন অ্যাডিশনাল অ্যাটর্নি জেনারেলসহ তিনজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে, উক্ত মামলায় শেখ হাসিনার ইচ্ছাই পূরণ হবে। হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সাতক্ষীরা বিএনপির নেতৃবৃন্দের নামে সাজা সুপরিকল্পিত এবং ব্যক্তিগত প্রতিশোধ গ্রহণ। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে অবিলম্বে হাবিবুল ইসলাম হাবিবসহ সকল নেতৃবৃন্দের মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে মুক্তির জোর দাবি করছি।

বিএনপির এই শীর্ষনেতা অভিযোগ করে বলেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব লায়ন আসলাম চৌধুরী দীর্ঘ ষড়যন্ত্রমূলক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দীর্ঘ পাঁচ বছর কারাগারে বন্দি আছেন। প্রায় শতাধিক মামলায় জামিন হয়ে জেলখানা থেকে বের হওয়ার সময় শাহবাগ থানা মিথ্যা মামলায় জামিন হওয়ার পরেও গতকাল কোতোয়ালি থানার মামলায় শ্যোন এরেস্ট দেখায়। আমি অবিলম্বে লায়ন আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহারসহ কারামুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, মাদারীপুর জেলাধীন শিবচর পৌরসভা নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থী ছিলেন রফিকুল ইসলাম। যেদিন বিএনপির কার্যালয় থেকে তিনি ধানের শীষের মনোনয়ন নিয়ে এলাকায় ফেরার পথে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা তাকে তুলে নিয়ে যায়। গতকাল বুধবার রাত ১২টায় রাজধানীর মিরপুর এলাকায় একটি মাইক্রোবাস তাকে ফেলে রেখে যায়। গতকাল ছিল শিবচর পৌর নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। তিনি যাতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারেন সেজন্যই আওয়ামী দুষ্কৃতিকারীরা তাকে অপহরণ করে।




আপনার মতামত লিখুন :