ঢাকা ২৬°সে ১৭ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকার জিরো টলারেন্স: হানিফ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন সেক্টরে কমবেশি দুর্নীতি হচ্ছে সেটা স্বীকার করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন, তবে শেখ হাসিনার সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে কাউকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না সরকার।

শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান-প্রজন্ম ঐক্যজোট নামের একটি সংগঠন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বিএনপির সমালোচনা করে হানিফ বলেন, ‘আপনারা কথায় কথায় দুর্নীতির কথা বলেন। দুর্নীতি সারা পৃথিবীতে কমবেশি রয়েছে। আমাদের এখানে যে নেই, সেটা বলবো না। কিন্তু দুর্নীতির বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার সরকার জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছেন। যার বিরুদ্ধে যখন কোনো অভিযোগ উপস্থাপিত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দুর্নীতিকে আমরা প্রশ্রয় দেয় না। কঠোরভাবে দুর্নীতিকে দমন করার জন্য সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।’

হানিফ বলেন, ‘আপনারা দুর্নীতির কথা বলেন। আপনারাতো দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিলেন। হাওয়া ভবন বানিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সারা দেশে অপকর্ম করেছিলেন। পার্থক্য এটাই আমরা দুর্নীতিকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছি। আমরা সমর্থন করি না বলেই সেটা প্রকাশ পাচ্ছে। আর আপনারা কথা বলছেন। আপনারা ক্ষমতায় থাকতে সেটা রাষ্ট্রীয়ভাবে গ্রহণ করেছিলেন। সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেননি বলেই গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়নি। দেশবাসী জানার সুযোগ পায়নি।’

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর। সেই দুর্নীতি সরকারি কর্মকর্তা, দলীয় নেতকর্মী বা যে কেউ হোক না কেন অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।’

হানিফ বলেন, ‘বিএনপি নিজেদের সীমাহীন ব্যর্থতার কারণে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে সরকারের উন্নয়নের সমালোচনা করছে। তারা আজ উন্নয়ন দেখে না। অথচ অর্থনীতির প্রতিটি সূচকে অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। অথচ ক্ষমতায় থাকতে বিএনপি অর্থনীতিকে পঙ্গু করে গেছে।’

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাকস্বাধীনতার দোহাই দিয়ে সরকারের অযৌক্তিক সমালোচনা করে যাচ্ছে বিএনপি। বিএনপি নেতা মেজর আখতার কয়েকদিন আগেই বলেছেন, বিএনপির বর্তমানে যে নেতৃত্ব বিদ্যমান রয়েছে, তারা সরকারে যাওয়ার চেয়েও শেখ হাসিনার সরকার হাজার গুণ ভালো। এটা আমাদের কথা নয়, ওনাদের দলের নেতার কথা।’

বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবি উপদেষ্টা মঞ্জুরুল আহসান খানকে দায়িত্ব থেকে ছয় মাসের অব্যাহতির সমালোচনা করেছেন হানিফ। তিনি বলেন, ‘সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সত্যটা তুলে ধরার জন্য সিপিবি নেতা মঞ্জুরুল আহসান খানকে ছয় মাসের জন্য অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। আমি অবাক হই, আপনারা গণতন্ত্রের কথা বলেন, এটা কি গণতন্ত্র? এখানে স্বাধীনভাবে কথা বলার কি সুযোগ নেই? ’

হানিফ বলেন, ‘তিনিতো (মঞ্জুরুল আহসান খান) সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের যে কথা বলেছেন, উনিতো অসত্য বা বিভ্রান্তিমূলক কোনো তথ্য দেননি। উনি যেটা সঠিক, চোখে দেখছেন, যেটা দৃশ্যমান সেই উন্নয়নের কথা বলেছেন। এতে সিপিবির নেতারা নাখোশ হয়ে থাকে ছয় মাসের জন্য দায়িত্ব থেকে অব্যাহিত দিয়েছেন। এটা হলো আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলের চরিত্র। তারা সরকারের উন্নয়ন চোখে দেখে না। তারা সরকারের বিরুদ্ধাচার করে যাচ্ছে।’

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংসদ সদস্য নুরুল আমিন রুহুল, পঙ্কজ দেবনাথ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব শাবান মাহমুদ, আওয়ামী লীগ নেতা মনিরুজ্জামান মনির প্রমুখ।




আপনার মতামত লিখুন :