ঢাকা ৩২°সে ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ওবায়দুল কাদের নিজেকে হাস্যকর চরিত্রে পরিণত করেছেন’

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ইদানীং লক্ষ্য করছি আওয়ামী লীগের কিছু নেতা বিশেষ করে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে মনগড়া বক্তব্য দেয়াকেই নিজেদের একমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কারণে-অকারণে প্রতিদিন বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার জনগণের কাছে ওবায়দুল কাদেরকে একটি হাস্যকর চরিত্রে পরিণত করেছে।

সোমবার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রিজভী এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরুর পর গণভবনের চার দেয়ালে আটকে পড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা র‌্যাব-পুলিশের পাহারায় টিকে থাকা ওবায়দুল কাদের সাহেবরা বুঝতেই পারছেন না যে, তারা এখন গণদুশমনে পরিণত হয়েছেন। তাই অযথা বিএনপির বিরুদ্ধে বালখিল্যসুলভ বক্তব্য-মন্তব্য করা ছাড়া তাদের হাতে আর কোনো কাজ নেই।

সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ওবায়দুল কাদেরের আপন ছোটভাই নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভা মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, গত বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভার বটতলা চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল কাদের মির্জা বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের এমপিরা নির্বাচিত হওয়া দূরে থাক, পালানোর দরজাও খুঁজে পাবে না।

রিজভী বলেন, আব্দুল কাদের মির্জার বক্তব্য বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র। আমরা আশা করি, আব্দুল কাদের মির্জার সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা না খুঁজে ওবায়দুল কাদের সাহেব নিজের আপন ছোট ভাইয়ের বক্তব্যটির গুরুত্ব অনুধাবন করবেন। আব্দুল কাদের মির্জার বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হলো-নির্বাচন কমিশনকে কোলের মধ্যে বসিয়ে আওয়ামী সরকার নির্বাচনের নামে দেশবাসীর সঙ্গে প্রতারণা করেছে দীর্ঘ ১২ বছর ধরে।

বিএনপির সিনিয়র এ নেতা বলেন, জনগণের ভালোবাসায় ধন্য রাজনৈতিক দল জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গিয়ে রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনা করবে এটাই হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের চরিত্র। কিন্তু নিশিরাতের ভোট ডাকাত সরকারটি এখন সম্পূর্ণ র‌্যাব-পুলিশ ও প্রশাসন নির্ভর হয়ে পড়েছে। নিশিরাতের সরকারের পাহারাদার পুলিশের হুংকার শুনলে প্রতীয়মান হয়-বাংলাদেশ সম্পূর্ণরুপে অবৈধ ক্ষমতা দখলদারদের দ্বারা বন্দী। পুলিশের হুংকার শুনে শেখ হাসিনা-ওবায়দুল কাদেররা লজ্জা পান কিনা জানি না, তবে জনগণ লজ্জিত হয়।

সম্প্রতি নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে গিয়ে কুষ্টিয়া পুলিশের এসপি যেভাবে জনগণের প্রতি হুঙ্কার দিয়েছেন তাতে গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে এটা পরিস্কার হয়েছে, এই সরকারটি শুধুমাত্র গণতন্ত্র ও আইনের শাসনেরই কবর রচনা করতে গিয়ে তারা পুলিশকে বেআইনি কাজে উৎসাহ দিচ্ছে। স্রেফ কোনোভাবে ক্ষমতায় টিকে থেকে দুর্নীতি লুটপাট চালানোর সুযোগ নিতে নিজেদের আত্মমর্যাদাও বলি দিয়েছে। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে প্রজাতন্ত্রের বেতনভোগী একজন কর্মচারী-এসপি দেশের নাগরিকদের প্রতি যে ধরনের শব্দ ব্যবহার করে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে সরকারের উস্কানি রয়েছে। প্রশাসনের এই ধরনের রাজনৈতিক বক্তব্য নজীরবিহীন।

এদিকে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের কলংকিত অধ্যায়কে ঘৃণার সঙ্গে স্মরণ করার জন্য মঙ্গলবার ৫ জানুয়ারি সারাদেশে বিএনপি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন ও দলের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাজ ধারণ করবে।

সরকার দ্রব্য মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হওয়ায় আগমী ৭ জানুয়ারি সারাদেশে থানা পর্যায়ে বিএনপিসহ সকল অঙ্গ-সংগঠন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এবং বাণিজ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।

এছাড়া বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে আগামী ১০ জানুয়ারি বিএনপির উদ্যোগে সারাদেশে পৌরসভা ও মহানগরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির উদ্যোগে উক্ত কর্মসূচি ঐদিন জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টায় পালিত হবে।




আপনার মতামত লিখুন :