যেসব খাবারে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে

0

করোনাকালে আমরা যারা বাচ্চাদের মা তাদের চিন্তা একটু বেশিই। বাচ্চাকে কী খাওয়াব? কী খেলে বাচ্চা সুস্থ থাকবে? এমনই নানাবিধ প্রশ্ন আমাদের মনে আসে। আজ আলোচনা করব করোনাকালে শিশুর যত্ন নিয়ে।

প্রথমেই বলি, করোনা প্রতিরোধে কোন স্পেশাল খাবার নেই। তবে আমরা যেটা করতে পারি তা হলো, ইমিউনিটি সিস্টেমকে বুস্ট করতে পারি, যাতে সহজে আমরা রোগ প্রতিরোধ করতে পারি। বাচ্চারা যেহেতু সব খাবার খেতে চায় না এবং খুবই সামান্য খাবার গ্রহণ করে তাই তাদের ইমিউনিটিকে স্ট্রং করাটা বেশ কঠিন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক বাচ্চাদের ইমিউনিটি বুস্টিং কিছু খাবার সম্পর্কে।

দই

দই খুবই পুষ্টিকর খাবার এবং প্রোবায়েটিকের উৎস। প্রোবায়েটিকের হলো সেইসব ভালো ব্যাকটেরিয়া যা ডাইজেস্টিভ সিস্টেমের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে প্রতিহত করে ইমিউনিটি সিস্টেমকে প্রশমিত করে।

প্রতিদিন বাচ্চার খাদ্য তালিকায় ১ কাপ দই রাখুন। সরাসরি দই, দইয়ের সরবত, ফলের পিউরির সাথে দই, ওটস দিয়ে দই বা বাচ্চা যেভাবে খেতে পছন্দ করে সেভাবেই তাকে দই খাওয়ান।

লাল চালের ভাত

লাল চালে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এবং মিনারেল। রিবোফ্লাভিনের সঙ্গে সঙ্গে এতে রয়েছে সেলেনিয়াম। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক। লাল চালের সুজি, লাল চালের ভাত বাচ্চাকে খাওয়ান।

ছোলা

বিকালের নাস্তায় অথবা খাবারে বৈচিত্র্য আনার জন্যে মাঝে মাঝে বাচ্চাকে ছোলা দিতে পারেন। ছোলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে বি ভিটামিন এবং সেলেনিয়াম। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

মিষ্টি কুমড়া

মিষ্টি কুমড়াতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা একই সঙ্গে বাচ্চার চোখ এবং স্কিন সুন্দর করে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

গাজর

গাজর খুবই উপকারী একটি খাবার। বাচ্চাদেরকে গাজর কখনোই কাচা খেতে দেওয়া উচিৎ নয়। গাজর সিদ্ধ করলে এটি বাচ্চাদের জন্যে সহজপাচ্য হয়। এতে বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বুস্ট করে। বাচ্চাদের খাদ্য তালিকায় দৈনিক রঙিন সবজি রাখুন।

ভিটাভিন সি সমৃদ্ধ খাবার

বাচ্চাদের ঠান্ডা জনিত সমস্যায় ভিটামিন সি খুব উপকারী। প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় লেবুর শরবত রাখতে পারেন।

এছাড়া ও ফ্রেশ এবং রঙিন শাকসবজি ও ফলমূল রাখতে হবে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায়।

বাচ্চাদের ইমিউনিটিকে বুস্ট করার জন্যে নিচে ৬ মাস বয়সী শিশুর পিউরির একটি নমুনা রেসিপি দেওয়া হলোঃ

গাজর+আপেল+ফ্রেশ অরেঞ্জ জুস+হলুদ+আদার পিউরি

গাজর এবং আপেল একসঙ্গে বড় করে টুকরা করে কেটে নিতে হবে। একটি পাত্রে অল্প পানি নিয়ে তার মাঝে টুকরো করা গাজর এবং আপেল দিতে হবে, সঙ্গে আদার ১ ইঞ্চি টুকরা এবং এক চিমটি হলুদ গুড়া দিয়ে অল্প আচে রান্না করতে হবে পানিটা শুকিয়ে আসা পর্যন্ত। সব শেষে আদার টুকরাটি তুলে নিয়ে ব্লেন্ড করেই হালকা গরম থাকা অবস্থায় বাচ্চাকে পিউরিটি সার্ভ করুন।

বাচ্চাদের সঠিক খাদ্যাভ্যাস এর সাথে সাথে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন এবং সুস্থ থাকুন।

লেখক:

পুষ্টিবিদ

বিএসসি, এমএসসি নিউট্রিশান অ্যান্ড ফুড টেকনোলজি

সি.এন.ডি বারডেম জেনারেল হাসপাতাল

%d bloggers like this: