যারা কিনতে পারবেন দেশে উৎপাদিত করোনার টিকা

0

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন আবিষ্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ছেন হাজারো মানুষ। এমন পরিস্থিতিতে অদৃশ্য এই ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্বের অনেক দেশের বিজ্ঞানীরাই ভ্যাকসিন আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের টিকা আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস গ্রুপ অব কোম্পানিজ লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড। টিকা আবিষ্কারের বিস্তারিত বিষয় নিয়ে দেশের প্রথম সারির একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে সাক্ষাৎকার দেন গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি অপারেশন্সের ম্যানেজার ও ইনচার্জ এবং টিকা আবিষ্কারের গবেষক দলের সদস্য মোহাম্মদ মহিউদ্দিন।

এই টিকা কি গরিব মানুষ কিনতে পারবেন-জানতে চাইলে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভ্যাক্সিনেশনে পুরস্কার পেয়েছেন। কারণ আমাদের দেশে বেশিরভাগ টিকাই বিনামূল্যে দেয়া হয়। টিকাটি যখন আমরা বাণিজ্যিকীকরণ করব, তখন এমনও হতে পারে সরকার জনগণকে ফ্রি করে দিয়েছে কিংবা স্বল্প দামে দিচ্ছে। আমরা যেহেতু উৎপাদক প্রতিষ্ঠান, আমাদের তো খরচ আছে, আমরা তো আর ফ্রি দিতে পারব না। এখন সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয়, আমরা এ টিকা জনগণকে ফ্রি দেব, সেক্ষেত্রে আমরা হয়তো লাভ করলাম না।

আমাদের যে উৎপাদন খরচ, সেটা হয়তো আমরা সরকারের কাছ থেকে নিলাম। এই টিকা গরিব মানুষের কেনার সক্ষমতা থাকবে। সংবাদ সম্মেলনে আমাদের চেয়ারম্যান তো বলেছেন, সব জায়গায় আমরা প্রোফিট (লাভ) করব না। আমাদের আরও অন্যান্য ওষুধ আছে, সেগুলো দিয়ে লাভ করলাম। এটা উৎপাদনে আমাদের যে খরচ, সেটা দিয়েই আমরা দিয়ে দিলাম। সবার নাগালের মধ্যে আমরা দাম নির্ধারণ করব। এতে অতিদরিদ্র মানুষও এই টিকা কিনতে পারবে।’ টিকা বাজারে আসতে কতদিন লাগতে পারে- এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আমরা যদি কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতার শিকার না হই, তাহলে ডিসেম্বরের মধ্যে বাজারে আনতে পারব। মানে ছয় মাস লাগতে পারে।’

এদিকে বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনানুষ্ঠানিক পর্যায়ে থাকা তাদের আবিষ্কারের টিকা এরই মধ্যে তিনটি খরগোশের দেহে প্রয়োগ করে ইতিবাচক অগ্রগতি পাওয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলনে গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. হারুনুর রশিদ বলেন, করোনার টিকা তৈরি হয়েছে বলেই তা প্রাণীর দেহে প্রয়োগ করা গেছে। প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা দলের প্রধান আসিফ মাহমুদ বলেন, টিকাটি খরগোশের ওপর প্রাথমিকভাবে পরীক্ষামূলক প্রয়োগ করা হয়েছে। এতে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা গেছে। এখন পরবর্তী প্রটোকল তৈরির কাজ চলছে।

এ কাজ শেষ করেই আনুষ্ঠানিক ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য আমরা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগে জমা দেব। গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বলা হয়, বর্তমানে বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাসের প্রকোপে সারা বিশ্বের মানুষ বিপর্যস্ত। তাই জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রয়োজনে আমাদের নিয়মিত গবেষণার পাশাপাশি ‘কোভিড-১৯ শনাক্তকরণ কিট, টিকা এবং ওষুধ’ আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণা কর্মকাণ্ড শুরু হয়। এ প্রতিষ্ঠানের সিইও ড. কাকন নাগ এবং সিওও ড. নাজনীন সুলতানার সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে কোভিড-১৯ প্রতিরোধে টিকা (ভ্যাকসিন) আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি।

%d bloggers like this: