ময়মনসিংহ টু হালুয়াঘাট মহাসড়কের বেহাল অবস্থায় ঘটছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা

0

মাসুদ রানা, ময়মনসিংহঃ
বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকা ঘেরা দেশের অন্যতম স্থলবন্দর গোবরাকুড়া ও কড়ইতলী। এটি রয়েছে দেশের অষ্টম বিভাগ ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলায় অবস্থিত। এই স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন আমাদানি-রফতানি পণ্যবাহী শত শত ট্রাক চলাচল করে। এছাড়াও ময়মমনসিংহ টু হালুয়াঘাট মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত চলাচল করে আসছে যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যন ছোট বড় যানবাহন। ফলে দেশের সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

এদিকে কয়লা ব্যবসার অন্যতম স্থান হিসেবে পরিচিত দেশের সীমান্তবর্তী এলাকা হালুয়াঘাটের স্থল বন্দরটি। অথচ এই ব্যস্ততম মহাসড়কটি আজ খানা খন্দে ভরপুর হয়ে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অল্প সামান্য বৃষ্টি হলেই পানি জমে তলিয়ে যায় সড়কটি। ফলে এই সড়কে কাঁদা-কর্দমায় ছোট বড় শত শত গর্ত মরণ ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। আর চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই মহাসড়কের পরিবহন চালক ও যাত্রী সহ সাধারন পথচারীদের। দৈনন্দিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পৌরবাসী সহ উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনসাধারণের। তাছাড়া প্রায়ই ঘটছে ছোট বড় সড়ক দুর্ঘটনা। এদিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহের দুরত্ব প্রায় ৫১ কিলোমিটার। তার মধ্যে হালুয়াঘাট থেকে পাশ্ববর্তী উপজেলা ফুলপুরের দুরত্ব ১৯ কিলোমিটার। প্রায় ৪ কিলোমিটার রাস্তায় খানা-খন্দে ভরপুর রয়েছে।

এই সড়কে রয়েছে ছোট বড় অসংখ্য গর্ত। এই মহাসড়কে চলাচল করতে গিয়ে যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক প্রায় সময় বিকল হচ্ছে প্রতিনিয়ত এবং ঘটছে বড় দুর্ঘটনা। ফলে পঙ্গত্ব বরণসহ মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে এলাকার পথচারীসহ সাধারণ যাত্রীরা। এছাড়া বৃষ্টি এলে রাস্তার ছোট-বড় গর্তগুলো পানিতে ভরে যায়। ফলে পানি নিষ্কশনের জন্য নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এই মহাসড়কের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা ও প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে উপজেলার পৌর শহরের পুরাতন বাসট্যান্ড আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয়ের সম্মখে, মিলগেইট, ধারা বাজার, বীরগুছিনা ও নাগলা বাজার সহ বিভিন্নস্থানে।

অন্যদিকে এলাকাবাসী এসব দুর্ঘটনার জন্য মহাসড়কের বেহালদশা কেই দায়ী করছে। তারা বলছেন, মহাসড়ক সংস্কারের অভাবে তা মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সম্প্রতি এইসব গর্তে ইটের খোয়া ও বালু ফেলা হলেও তা উঠে যাচ্ছে। এখন বৃষ্টি হলে পানিতে তলিয়ে যায় গর্তগুলো। ফলে গর্ত দেখা না যাওয়ায় প্রায় প্রতিদিনেই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা । এ বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী আল-আমিন প্রতিবেদকে জানান, ইতিমধ্যে মহাসড়কটির কিছু অংশে কাজ করা হয়েছে। বেশি খারাপ স্থানগুলি বর্ষা মৌসুম হওয়ায় ইটের খোয়া ও বালি দিয়ে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করা হয়েছিল। আমরা নিয়মিতভাবে গর্ত বন্ধের কাজ করছি। তবে ভারি যানবহন চলাচলের কারণে গর্তগুলো বড় হচ্ছে। যে পরিমাণ বরাদ্দ ছিল তার সম্পপুর্ন কাজ করা হয়েছে। আরো বরাদ্দের জন্যচাহিদাপত্র প্রেরণ করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে সংস্কার কাজ করা হবে বলে তিনি জানান।

%d bloggers like this: