ময়মনসিংহে র‌্যাবের অভিযানে উগ্রবাদী বই ও লিফলেটসহ জেএমবি’র ৫ সদস্য আটক

0

প্রদীপ বিশ্বাস, ব্যুরো চিফ, ময়মনসিংহঃ

ময়মনসিংহে র‌্যাবের অভিযানে (জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) জেএমবির ৫ সক্রিয় সদস্যতে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান উগ্রবাদী বইও লিফলেট উদ্ধার করে র‌্যাব। রবিবার মধ্যরাতে মুক্তাগাছার কুড়িপাড়া এলাকা থেকে র‌্যাব-১৪ এর সদর ব্যাটালিয়নের একটি চৌকুস দল তাদেরকে আটক করে।
র‌্যাব-১৪ এর মিডিয়া অফিসার সিনিয়র এএসপি মোঃ তফিকুল আলম জানান, বাংলা ভাই ও শায়খ আব্দুর রহমান এর ঘাটি হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ জেএমবির বিভিন্ন সক্রিয় সদস্য তাদের উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান সময়েও জেএমবির সদস্যরা অত্র এলাকায় উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনায় তাদের দাওয়াতি ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের পরিকল্পনা করে আসছিল। সম্প্রতি অত্র এলাকা থেকে জেএমবি’র কিছু সক্রিয় সদস্যকে র‌্যাব আটক করে। এর পর থেকে র‌্যাব এই এলাকায় বাড়তি নজরদারি করে আসছিল। র‌্যাব-১৪ এর ব্যাটালিয়ন সদরের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, মুক্তাগাছার কুড়িপাড়ায় কতিপয় নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবি’র সদস্য একত্রিত হয়ে নাশকতার উদ্দেশ্যে গোপন বৈঠক করছে। এ খবরে র‌্যাব-১৪, ব্যাটালিয়ন সদরের আভিযানিক দল রবিবার মধ্যরাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জেমএমবির সদস্যরা দৌড়ে পালানোর চেষ্ঠা করে। এ সময় আসাদ আলী, মোঃ মিস্টার, মোঃ রাশেদ, মোঃ বাছেদ আলী ও মোখলেছুর রহমানকে (মুক্তার) আটক করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে বিপুল পরিমান উগ্রবাদী বই ও লিফলেট উদ্ধার করা হয়।
র‌্যাব আরো জানায়, জেএমবির আটককৃতদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বই ও লিফলেট এ উগ্রবাদ কায়েমে বিভিন্ন আহবান ও কৌশল বর্ণনা করা রয়েছে। বিশেষ করে যুবকদের প্রতি উগ্রবাদের আহবান করে এসব বইপত্র গোপনে বিতরণ করা হতো।
আটককৃতদের বরাত দিয়ে র‌্যাব আরো জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন ইসলামি উগ্রবাদী বক্তার বয়ান শুনত এবং এইসব শুনে তারা উগ্রবাদের প্রতি উদ্ভুদ্ধ হয়ে জেএমবির সমর্থক এবং সক্রিয় সদস্য হয়ে উঠে। তারা একই চিন্তা-চেতনার অধিকারী হওয়ায় তাদের মধ্যে একে অপরের সাথে অল্প সময়ের মধ্যে সখ্যতা গড়ে উঠে এবং উগ্রবাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নাশকতার প্রতি উদ্ভুদ্ধ হয়। তারা নিজেদেরকে জেএমবির সক্রিয় সদস্য হিসাবে পরিচয় দেয়। তারা বিভিন্ন সময় অত্র এলাকায় জেএমবির নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তির সহায়তায় নাশকতামূলক কর্মকান্ড বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে। তারা নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠনের জন্য বিভিন্ন কৌশলে কাজ করত, মুক্তাগাছা ইছাখালি বাজার জামে মসজিদসহ বিভিন্ন জায়গায় গোপনে বৈঠক করে উগ্রবাদী ও নাশকতামূলক তালিম প্রদান করত এবং সংগঠনের জন্য নিয়মিত চাঁদা (ইয়ানত) উত্তোলন করে সংগঠনের তহবিল সংগ্রহে ভূমিকা রাখত। বর্তমানে যেসব জেএমবি সদস্য জেলে বন্দী রয়েছে তাদেরকে হাজত থেকে বের করে এনে নতুনভাবে নাশকতা কার্যক্রম শুরু করাসহ সংগঠনের অন্যান্য খরচ বহন করার কাজে ব্যবহার করা হতো বলে তারা র‌্যাবে প্রাতমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বিকার করেন।

%d bloggers like this: