ময়মনসিংহে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে টাকার কয়েন

0

মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহ জেলার সর্বত্রই এখন এক টাকা মূল্য মানের কয়েন বা ধাতব মুদ্রা গুলো লেনদেন করতে গিয়ে চরম বিভ্রাটের শিকার হচ্ছেন সাধারণ দিনমজুর মানুষ গুলো। জানা গেছে, সরকারীভাবে এই কয়েন অচল না হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত¡ কিংবা বেসরকারী কোনো ব্যাংকই তা নিচ্ছে না। মনগড়া ও ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যাংকগুলোতে নিষিদ্ধ হয়ে পড়ায় লাখ লাখ টাকার মুদ্রা অলস পড়ে থাকছে ছোট-বড় ব্যবসায়ী এবং আম জনতার কাছে।

কোন কোন ব্যাংকের কর্মকর্তা- কর্মচারীরা বলছেন, আমরা শুধু টাকা জমা নিই- কয়েন নেয়ার নিয়ম নেই। জেলা উপজেলা সদর এবং গ্রামাঞ্চলে লাখ-লাখ কয়েন নিয়ে এখন হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যাংক থেকে বাজার পর্যন্ত। যা এখন ময়মনসিংহ জেলার সর্বত্রই এমন হাল দাঁড়িয়েছে। যেমন, চা-বিস্কুট খেয়ে কয়েন দিতে গেলেও দোকানি তেড়ে উঠছেন। ইতি মধ্যেও দুই-একটা মারপিটও হয়ে গেছে। এমন কি ভিক্ষুকরাও নিচ্ছেন না এই টাকা। কিন্তু শুধু এক টাকার কয়েন অচল এমন নয়, অন্য কয়েন নিয়েও গোলমাল খাচ্ছেন সাধারন মানুষ। জানা যায়, দুইদিন আগে মুক্তাগাছার উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল কাঠবওলা বাজারে এই কয়েন নিয়ে ঝামেলা লেগেছে চায়ের দোকানের এক ব্যাবসায়ীর সাথে। চেনা খদ্দের টেবিলে গ্লাস নামিয়ে কয়েন বাড়াতেই দোকানদার তা টান মেরে ছুঁড়ে ফেলেদেন ফুটপাথে। অন্যদিকে ত্রিশাল বাজারে চাল কিনে কিছু কয়েন দিতে গিয়েছিলেন ফজলুল হক নামে এক ব্যাক্তি।

পরে দোকানদার তার হাত থেকে চাল কেড়ে নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। অবশেষে এই নিয়ে মারপিটও হয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে ময়মনসিংহ সদরের সোহরাব উদ্দিনের আক্ষেপ করে বলেন, বাবারে এক বছরে আমার ঘরেই কয়েক হাজার এক টাকার কয়েন জমে গেছে। ব্যাংক তা জমা নিতে চাইছে না। কয়েন নিয়ে কেন এই অবস্থা? জানতে চাইলে, ময়মনসিংহ সোনালী ব্যাকের কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, এত কয়েন গুনে নেবে কে? আর ব্যাকের ভল্টে এত কয়েন রাখারও জায়গা হবে না। তাই নেয়া হচ্ছে না। রূপালী, অগ্রণী, ন্যাশনাল, জনতা, ইসলামী ব্যাংকের শাখার ম্যানেজাররা বলছেন, লেনদেনের সময়ে এত কয়েন গোনার মতো কর্মী ব্যাকে নেই। তবে কয়েকটা কয়েন দিলে তারা জমা নিতে পারে। এবিষয়ে ময়মনসিংহ পূবালী ব্যাংকের এক কর্মকর্তার বলেন, আমার কাছে ্ধরনের কোন অভিযোগ আসে নাই।

তবে কাউন্টারে বসে খুচরা কয়েন গুনে নেয়া বেশ সমস্যার ব্যাপার। অন্যদিকে ওইসব ব্যাংকের কর্মকর্তারা দায় স্বীকার করে বলেন, ব্যাংক কখনোই কয়েন জমা নিতে অস্বীকার করতে পারে না। এক সঙ্গে প্রচুর কয়েন জমা দিতে গেলে ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাওয়াই ভাল।

%d bloggers like this: