ময়মনসিংহে (বাকৃবি)তে অটো চালক খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ৪। আদালতে স্বীকারোক্তি

0

গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আম বাগান এলাকায় গত ২৫ নভেম্বর রোজঃ বুধবার রক্তাক্ত অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দেয়। পরে অজ্ঞাত ব্যক্তিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করে।

জানা গেছে, অজ্ঞাত ব্যক্তি আর কেও নয়, সে একজন অটো চালক। তার নাম দুলাল মিয়া। সে মিশুক অটো রিক্সা চালক ছিলেন। সে তারাকান্দা উপজেলার বাসিন্দা। মিশুক অটো রিক্সা চালক দুলাল মিয়া অন্যান্যদিনের ২৫ নভেম্বরে ময়মনসিংহ নগরীর শম্ভুগঞ্জ থেকে একটি মিশুক অটো রিক্সা ভাড়ায় নিয়ে চালাতে গেলে। আনুমানিক রাত ৮ ঘটিকার সময় নগরীর মাসকান্দা থেকে যাত্রীবেশে কয়েকজন দুলাল মিয়াকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আম বাগান এলাকায় ভাড়া করে নিয়ে যায়।

পরে তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে অটো ছিনতাইয়ের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। জানা যায়, ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি ফিরোজ তালুকদারের নির্দেশে তদন্ত ফারুক হোসেন এর নেতৃত্বে এসআই মিনহাজ, এসআই নিরুপম নাগ শনিবার তাদেরকে বিভিন্ন এলাকা থেকে গ্রেফতার করে।

জানতে পারি, গ্রেফতারকৃত আসামীদের মধ্যে দুজন শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দিয়েছে। এক পর্যায়ে জবানবন্দিতে এই কথাও উঠে আসে যে, নেশার টাকা জোগাড় করতে আলমগীর নামক এক মাদকাসক্ত তার স্ত্রীর পায়ের নুপুর সাত হাজার টাজায় বন্ধক দিয়ে আর নিতে পারেনি। তাই অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ও খুন করে অটো ছিনিয়ে নেয় আলমগীরের নেতৃত্বে খুনি চক্রটি।

প্রাপ্ত তথ্য ও আসামীদের জবানবন্দিতে বুঝতে পারি, ২৫ নভেম্বর রাত প্রায় দশটারদিকে মিশুক রিক্সা চালক দুলাল আম বাগান এলাকায় যাওয়া মাত্রই আগে থেকে পরিকল্পনার অংশ হিসাবে বাতেন তার থাকা চীকন রশি দিয়ে দুলালের গলায় পেচিয়ে ধরে। এ সময় আলমগীরের হাতে থাকা চাকু দিয়ে মিশুক রিক্সা চালক দুলালের পিঠে আঘাত করে এবং রিক্সা থেকে দুলাল মিয়াকে ফেলে দেয়।

পরে তারা রিকশা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনা স্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহত দুলাল মিয়ার স্ত্রী জহুরা খাতুন বাদি হয়ে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা করেন। অজ্ঞাত এই হত্যাকান্ডর মাত্র ৩ দিনের মধ্যে কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ঘটনার মুলহোতা আলমগীর ও বাতেন, লিটন মিয়া ও শুক্কর আলীসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আলমগীর ও বাতেন আদালতে স্বীকারোক্তি প্রদান করেছে। পুলিশ জানায়, আলমগীর ও বাতেন একসাথে মাদক সেবন করতো। আলমগীর তার স্ত্রীর পায়ের নুপুর ৭ হাজার টাকায় বন্ধক দিয়ে মাদকের টাকা সংগ্রহ করে। পরে আর ফেরত আনতে না পেরে অটো ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করে।

এরই অংশ হিসাবে, এ ঘটনায় গ্রফতারকৃত আসামী আলমগীর তার মাদকসেবি বন্ধু বাতেনসহ অন্যদের সাথে নিয়ে মিশুক অটো রিক্সা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা শেয়ার করে। তার কাছে চাকু আছে। বাতেনকে দিয়ে চীকন রশি কিনে নেয়। ঘটনার দিন মাসকান্দা থেকে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আম বাগান এলাকায় যাওয়ার জন্য যাত্রীবেশে মিশুক অটো রিক্সাটি ভাড়া করে নিয়ে যায় এবং মিশুক অটো রিক্সাটির চালক দুলাল মিয়াকে হত্যা করে মিশুক অটো রিক্সাটি নিয়ে পালিয়ে যায় আলমগীরবাহিনী।

%d bloggers like this: