‘ময়মনসিংহে জঙ্গি সন্দেহে ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার’ জেলা ছাত্রলীগের সংবাদ সম্মেলন

0

মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহ নগরীতে জঙ্গি সন্দেহে আটক সাতজনের মধ্যে একজন ছাত্রলীগের নেতাও রয়েছেন। তার নাম আল আমিন (২৫)। সে ময়মনসিংহ সীমান্তবর্তী ধোবাউড়া উপজেলার বাঘবেড় ইউনিয়ন শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। গত বুধবার ( ৫ এপ্রিল ) বিভিন্ন দৈনিক পত্র পত্রিকায় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে গ্রেফতারকৃত সাত জঙ্গিদের মধ্যে ছাত্রলীগের নেতা আল আমিন রয়েছেন। এমন খবরের প্রতিবাদে সংবাদ সন্মেলন করেছে ময়মনসিংহ জেলা ছাত্রলীগ।

add1

বৃহস্পতিবার ( ৬ এপ্রিল ) দুপুরে নগরীর স্থানীয় একটি হোটেলে জেলা ছাত্রলীগ এই সংবাদ সন্মেলনের আয়োজন করেন। এই সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রকিবুল ইসলাম রকিব । এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ধেবাবউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো আব্দুল বারেক, সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান রনি প্রমুখ। এদিকে সংবাদ সন্মেলনে ছাত্রলীগ সভাপতি দাবী করে ছাত্রলীগকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় সংগঠনের ভাবমুর্তি ক্ষতি হয়েছে। ছাত্রলীগের কেউ জঙ্গী তৎপরতার সাথে যুক্ত হলে তার দায়ভার বাংলাদেশ ছাত্রলীগ নেবে না ।

এসময় রকিব সাংবাদিকদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দের সাথে আপনারা কথা বলুন। জঙ্গীদের সাথে গ্রেফতার আল আমীন ছাত্রলীগের কেউ না। সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত ধোবাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক দাবী করেন, প্রকাশিত বিভিন্ন দৈনিক পত্র পত্রিকায় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদের মত করে তিনি সাংবাদিকদের কিছু বলেন নি।

তবে এসময় তিনি সাংবাদিকদের এসব তথ্য দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। উলে­খ্য, গত সোমবার (৩ এপ্রিল) জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য সন্দেহে আল আমিনসহ সাতজনকে কালিবাড়ী সড়কের অ্যাডভোকেট আসিফ আনোয়ার মুরাদের ১৭০নং বাসা থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। বাড়িটি থেকে দুইটি কম্পিউটার, একটি মোটরসাইকেল, একটি ব্যাংকের চেকবই ও বেশ কিছু বইও জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন ময়মনসিংহ ধোবাউড়া উপজেলার আল আমিন (২৫), হালুয়াঘাট উপজেলার শহীদুল ইসলাম (২৮) ও আশিকুর রহমান (২৮), নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার শাহ আল রোমান শামীম (২৭), মাসুম আহমেদ (৩০) ও রুমান মিয়া (২৭) এবং জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার নাসির উদ্দিন (২৭)।

তবে বাড়িটিতে এখনোও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বাড়িটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলে জানিয়েছেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমারত হোসেন গাজী জানান, সাতজনকে বুধবার ( ৫ এপ্রিল ) ময়মনসিংহের ১নং বিচারিক হাকিম আমলি আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়।

শুনানি শেষে বিচারক বিল­াল হোসেন আসামিদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে ঢাকা থেকে পুলিশের এসবির বিশেষ দল ও ময়মনসিংহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ যৌথভাবে আটক সাতজনকে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তাদের দেয়া তথ্য মতে, বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

%d bloggers like this: