ময়মনসিংহের সড়কে থামছেনা মৃত্যুর মিছিল! ১৪ দিনের ব্যবধানে ঝরে গেল ২২ প্রাণ

0

 

মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ :

১৪ দিনের ব্যবধানে ময়মনসিংহের সড়কে গৃথক ঘটনায় ঝরে গেল ২২ টি তাজা প্রাণ। যেন থামছেই না এই মৃত্যুর মিছিল। গত ৮ আগস্ট মুক্তাগাছার সড়কে প্রাণ হারায় ৭ সিএনজি আরোহী। এছাড়া গত ১৮ আগস্ট ফুলপুর উপজেলার বাঁশাটি এলাকায় মাইক্রোবাস পুকুরে পড়ে শিশুসহ ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। সে শোক কাটতে না কাটতেই আজ (২২ আগস্ট) সকালে ভালুকা উপজেলার ডিগ্রী কলেজের সামনে প্রাইভেটকার-বাস সংঘর্ষে ঝরে পড়ে ৬ টি গ্রাণ এবং একই দিন ভোরে নান্দাইল উপজেলার তষনা নামক স্থানে গরু বুঝাই ট্রাকের সঙ্গে অপর একটি ট্রাকে মুখোমুখি সংঘর্ষে ঝরে যায় আরও দুটি তাজা প্রাণ। পৃথক এ চারটি দূর্ঘটনা ময়মনসিংহবাসীকে অনেকটা বাকরূদ্ধ করেছে। ময়মনসিংহের সড়কে এ মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হয়ে চলছে। এখনি সময় সড়কে নিয়ন্ত্রনহীনতা ও অসচেতনতার লাগাম টেনে ধরার। একই সাথে সংকোচিত এই মহাসড়ক গুলোর পরিধি বাড়াতে দায়িত্বশীলদের নড়েচড়ে বসার।

মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস,
ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী, ভালুকা মডেল থানার ওসি মঈন উদ্দিন ও নান্দাইল থানার ওসি মনসুর আহমেদ এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মুক্তাগাছা থানার ওসি বিপ্লব কুমার বিশ্বাস জানান, গত ৮ আগস্ট উপজেলারর মানকুন এলাকায় যাত্রবাহী বাস ও সিএনজি চালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৭ জন নিহত হয়। এদের মধ্যে ২ নারী ও ৫ জন পরুষ রয়েছে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে দূর্ঘটনাকবলিত সিএনজি-বাস ও ৭ টি মরদেহ উদ্ধার করে

 

 

থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, ১৮ আগস্ট সকালে ভালুকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস শেরপুরের নালিতাবাড়িতে যাচ্ছিলেন। পরে উপজেলার বাঁশাটি এলাকায় মাইক্রোবাসটি পৌছলে নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। এসময় শিশুসহ ৮ জনের প্রাণহানী হয়।

ভালুকা থানার ওসি মঈন উদ্দিন জানান, আজ সকালে
হালুয়াঘাট থেকে ছেড়ে আসা ইমাম পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকা উপজেলার কলেজের সামনে পৌছলে প্রাইভেটকারের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় শিশুসহ ৬ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। মৃতদের মধ্যে ২ জন শিশু, ২ জন নারী ও ৩ জন পুরুষ রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে পাঠানোর হয়েছে।

অন্যদিকে নান্দাইল থানার মুনসুর আহমেদ জানান, ভোর ৫ টার দিকে উপজেলার তষরা নামক স্থানে গরু বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে অপর একটি ট্রাকের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এসময় ঘটনাস্থলেই ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয় আরও ১ জন।

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনা যেন নৈমিত্তিক আকার ধারন করেছে। এক্ষেত্রে ময়মনসিংহ-তারাকান্দা-হালুয়াঘাট, ময়মনসিংহ -শেরপুর, ময়মনসিংহ-মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ-ত্রিশাল- ভালুকা ও ফুলপুর সড়কে অনিয়ন্ত্রিত বাস-ট্রাক-সিএনজি-আটো রিকশার বেপরোয়া গতি, নিয়ন্ত্রনহীনতা ও সংকোচিত সড়ককে দায়ি করেছে সচেতন মহল।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহঃ আহমার উজ্জামান বলেন, ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন রাস্তা গুলো অপশস্থ হওয়ার কারনে এ দূর্ঘটনা ঘটছে। তাই রাস্তা গুলো আগে বড় করতে হবে। এছাড়া চালকদের অসচেতনতা ও নিয়ন্ত্রহীন ভাবে বেপরোয়া গাড়ী চালানো এবং অতিরিক্ত যাত্রী নেয়ার জন্যই বড় বড় দূর্ঘটনা গুলো ঘটে চলেছে। তাছাড়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে উল্টো পথে গাড়ী চলা, ট্রাফিক আইন না মানা ও স্পির্ট ব্যাকার না থাকায় ও দ্রুত গতির গাড়ীর জন্যও এ ধরনের ঘটনা আমাদের প্রতিনিয়ত ফেস করতে হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এ ব্যাপারে মাঠে কাজ করছে। চালকসহ সাধারন মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। তাহলেই আমরা এই দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাবো।

%d bloggers like this: