মোমেনশাহী ডিএস কামিল মাদ্রাসা নবীন বরণ অনুষ্ঠানে আব্দুল খালেক বঙ্গবন্ধু ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন

0

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের উপ-পরিচালক( ডিডি) এ.এস.এম আব্দুল খালেক বলেছেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই বাংলাদেশে প্রথম ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে ইসলামের আলোকায়নের পথ সুগম করেছেন।

ময়মনসিংহের ঐহিত্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মোমেনশাহী ডিএস কামিল (এমএ) মাদ্রাসা কৃষ্টপুর ২০১৬-২০১৭ শিক্ষাবর্ষেও আলিম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন ।২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর ২ টায় মাদ্রাসার নিজস্ব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, মোমেনশাহী ডি.এস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ড. মোঃ ইদ্রিস খান ।

ইদ্রিস খান তার বক্তব্যে বলেছেন, ইসলামের খেদমতে বঙ্গবন্ধুর অবদান রেখেন । বঙ্গবন্ধু ও তাঁর দল আওয়ামী লীগের ব্যাপক জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে শুধুমাত্র ভোটের রাজনীতিতে পরাজিত করতে ধর্মব্যবসায়ী ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্র তাঁকে ও তাঁর দলকে ইসলামবিদ্বেষী বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা যুগে যুগে চালিয়েছে, আজও একই ধারা অব্যাহত রেখেছে তারা। অথচ জাতির জনক ছিলেন একজন খাঁটি ইসলামিক চেতনায় বিশ্বাসী নেতা, ছিলেন একজন পরিপূর্ণ ঈমানদার ব্যক্তি। তাঁর মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে ইসলামের খেদমতে করেছেন অসংখ্য কর্মকান্ড। তাঁর আমলে করা বিভিন্ন কর্মকান্ডের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেন।

বঙ্গবন্ধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ইসলামিক ফাউন্ডেশন দুনিয়ার সর্ববৃহত্তর দাওয়াহ প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রসংশিত। ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড পুনর্গঠন করেন। তিনি নামকরণ করেন ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড’। পাকিস্তান ও তাদের এদেশীয় দালাল গোলাম অজমগংদের নানামুখী তত্পরতার কারনে সৌদী আরব বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে বিলম্ব করে। এরই জন্যে হাজ্জীরা সরাসরি ঢাকা থেকে সৌদি গমণ করতে পারতেন না। তাদের ভারতের ভিসায় দিল্লী দিয়ে যেতে হতো। এ সমস্যা দূরীকরণে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিতে তিনি বাদশা ফসয়ালকে ৭৩ সালে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনের এক ফাঁকে দেখা করে বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন।

জাতির জনক যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশের আর্থিক সংকট থাকা সত্বেও সরকারি তহবিল থেকে হজ্জ যাত্রীদের অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করেন। তখন থেকেই সরকারি ব্যবস্থাপনায় কিছু সংখ্যক হাজ্জীদের মক্কা মদীনা গমণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। তাঁর নির্দেশেই বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতারে কোরআন তেলোয়াত, আজান সম্প্রচার ও ইসলামিক অনুষ্ঠান করা হয়। তাঁর চেষ্টায় আলেমদের একত্রিত করে এদেশে প্রথম সীরাত মজলিস প্রতিষ্টা হয়েছিল। ৭৩ ও ৭৪ সালে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মিলাদুন্নবী (সাঃ) আয়োজন করা হয়। ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ), শব ই কদর, শব ই বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

সকল ইসলামিক পবিত্র দিনের পবিত্রতা রক্ষার জন্যে সিনেমা হলে চলচ্চিত্র প্রদর্শন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন তিনি। ইসলামে মধ্যপান নিষিদ্ধ। তিনি আইন করে মদ আমদানি ও পান অপরাধ হিসাবে গন্য করেন। তাঁকে হত্যার পর সামরিক জান্তা জিয়াউর রহমান মদের সরকারি অনুমোদন প্রদান করে। বঙ্গবন্ধু জুয়া, হাউজি ও আসামাজিক কার্যকলাপ তথা পতিতাবৃত্তি আইন করে নিষিদ্ধ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের আমলে পতিতাবৃত্তির সরকারী স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ঘোড়াকে নিয়ে প্রতিযোগীতায় নেমে বাজি ধরা ইসলামে নিষিদ্ধ। তাছাড়া এই প্রতিযোগীতায় অংশ নিয়ে মানুষ সর্বস্বান্ত হতো।

পাকিস্তান আমল থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এই ঘৃণ্য কাজ চলতো। দেশ স্বাধীন হলে তিনি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের এই কাজ বন্ধ করে দেন। বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমার টঙ্গির জায়গা বঙ্গবন্ধু বরাদ্দ করেন। সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে রাশিয়ায় ইসলাম প্রচারের সূচনা করেন বঙ্গবন্ধু। রাশিয়া একটি কমিউনিস্ট দেশ। সেখানে ইসলাম প্রচারের অনুমতি মিলতো না কারো। স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগীতা ও বঙ্গবন্ধুর সাথে সেদেশের নেতাদেও ভালো সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বঙ্গবন্ধু রাশিয়ায় প্রথম তাবলিগ জামাত পাঠান। এখন সেদেশে যতো তাবলিগ জামাত তথা ইসলাম প্রচারের যে মাধ্যম আছে তার ভিত্তি রচনা করেন বঙ্গবন্ধু।

কাকরাইলের যে মসজিদে তাবলিগ জামাতের মারকাজ অনুষ্ঠিত হয়ে এইমসজিদটি ছিল ছোট। বঙ্গবন্ধু মসজিদ সম্প্রসারিত করার জন্য জায়গা বরাদ্দ করেন এবং তাঁরই নির্দেশে সম্প্রসারিত করা হয়। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুসলিম বিশ্বের সাথে সম্পর্ক গড়ে তুলতে ১৯৭৪ সালে ওআইসি সম্মেলনে যোগ দেন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের দায়িত্বভার নিয়ে সকল মুসলিম দেশের স্বীকৃতি আদায় করতে ও তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের কাজ শুরু করেন। মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) মক্কা বিজয় করে বলেছিলেন আজ তোমাদের প্রতি কোনো আক্রোশ নেই, তিনি তাদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন।

মহানবীর সেই অমোঘ শিক্ষার আলোকে ১০ জানুয়ারী স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করে বঙ্গবন্ধু বলেন, “আমার পশ্চিম পাকিস্তানী ভাইয়েরা, আপনাদেও উপর আমার কোনো বিদ্বেশ নাই। আমি চাই, আপনারা সুখে থাকুন।” ইসলামে মানবতবিরোধী কাজের কোনো স্থান নাই। ইসলামে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদন্ড। ধর্মব্যবসায়ী স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য নারী ধর্ষণ করেছে। হত্যা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগসহ যতো রকম মানবতাবিরোধী ইসলামবিরোধী কাজ আছে তা পাক বাহীনি ও তাদের এদেশীয় দোসররা করেছে।

তাদের বিচার করতে তিনি ১৯৭৩ সালে সংবিধানে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিধান যুক্ত করেন। তিনি দালাল আইন জারি করেন। ৭৩ টি ট্রাইব্যুনাল গঠন করে বিচার শুরু করেন। ১৯৭৩ সালে তিনি আরব-ইসরাইল যুদ্ধে আরব বিশ্বের প্রতি সমর্থন প্রদান করেন এবং এই যুদ্ধে আরবদের পক্ষে সামর্থ অনুযায়ী সহযোগীতা প্রদানের ঘোষণা দেন। তিনি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সমর্থনে ১ লাখ পাউন্ড চা, ২৮ জনের মেডিকেল টিমসহ একটা সেবক বাহিনী পাঠান। জাতির জনক তাঁর মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে ইসলামের খেদমতে যে কাজসমূহ করেছেন তা অতুলনীয়। তাঁকে হত্যার পর ধর্মব্যবসায়ী ও স্বাধীনতাবিরোধী চক্রএদেশে ইসলামের চেতনা ধ্বংস করে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনা তাঁর বিগত ও বর্তমান শাসনামলে ইসলামের খেদমতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছেন। মাননীয় শেখ হাসিনা তনয়া দেশে উপমহাদেশের প্রথম আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন ্ও ইসলামিক শিক্ষায় নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা করেছেন।
অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড, ময়মনসিংহ অঞ্চলের সহকারী পরিদর্শক মো: মোয়াজ্জেম হোসেন, পিতাম্বরপাড়া হোসাইনিয়া ফাযিল মাদ্রাসা, ঈশ্বরগঞ্জ এর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শোয়াইব, ডি.এস কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল ওয়াহাব খানের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন, ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো: খায়রুল আলম রফিক প্রমুখ। নেতৃবৃন্দ বলেন, অগ্রযাত্রার সূচনা করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে ব্যাপক অবদান রাখছেন। দেশের প্রতিটি শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার প্রসারে সরকারের ভূমিকা অনুকরণীয় । মাদ্রাসার সকল শিক্ষক/শিক্ষিকা সহ ২০১৬-২০১৭ শিক্ষা বর্ষের সকল শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

%d bloggers like this: