মুসলমানের রক্তে লাভবান হচ্ছে অস্ত্র বিক্রেতারা

0

ষ্টাফ রির্পোর্টার:

ধর্মকে কলুষিত করার জন্যে চক্রান্ত চলছে মন্তব্য করে ইসলামের নামে জঙ্গিবাদী তৎপরতায় কারা লাভবান হচ্ছে সে বিষয়টি তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, এতে রক্ত ঝরছে মুসলমানের, কিন্তু লাভবান হচ্ছে যারা অস্ত্র বিক্রি করছে, তাদের।

বৃহস্পতিবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ওলামা সম্মেলনে যোগ দিয়ে মসজিদে নববির খতিব ও ইমাম এ কথা বলেন। এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন মক্কার মসজিদুল হারাম (ক্বাবা ঘর) সিনিয়র ইমাম মোহাম্মদ বিন নাসির আল খুজায়েম এবং মদিনার মসজিদে নববির ইমাম ইমাম আবদুল মহসীন বিন কাশেমও।

সৌদি আরবের দুই ইমামকে এই অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মাননা তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে বাংলাদেশে আসায় তাদেরকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে সৌদি আরবের বাদশাহর ভুয়সী প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ দমনের বিরুদ্ধে যেকোন পদক্ষেপে বাংলাদেশ সৌদি আরবের পাশে আছে এবং একসঙ্গে কাজ করবে।

এই আয়োজনে সৌদি আরবের দুই খতিব বলেন, ইসলাম কখনও জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে না, নিরীহ মানুষকে হত্যা সমর্থন করে না। তাদের এই বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে আমরা যে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যে সংগ্রাম করে যাচ্ছি, কঠোর অবস্থান নিয়েছি। তারা যে বক্তব্য রেখেছেন, তাদের বক্তব্য শান্তি প্রতিষ্ঠায় আরও সহজ করবে, সুদৃঢ় করবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে যদি প্রশ্ন করি, এই যে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ তাতে লাভবান হয় কারা? যারা অস্ত্র তৈরি করে, বিক্রি করে তারা লাভবান হয়। কিন্তু এই লাভটা কার জন্যে মুসলমান মুসলমানদের রক্ত নিচ্ছে, হত্যা করছে। মুসলমানদের রক্তের বিনিময়ে অন্যরা লাভবান হচ্ছে-এটা কি ধরণের কথা?’।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ সারা বিশ্বের সমস্য। আমি সৌদি বাদশাহকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন বিশ্বের যারা শান্তিতে বিশ্বাস করে তাদেরকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এই সন্ত্রাস দমনে ভুমিকা রেখে যাচ্ছেন। এটাই বলতে চাই, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমনের জন্যে বাংলাদেশ সবসময় সৌদি বাদশাহর পাশে থাকবে এবং এক হয়ে কাজ করবে। যাতে আমাদের পবিত্র ধর্মের সম্মান কেউ ক্ষুন্ন করতে না পারে।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম পবিত্র ধর্ম। এই ধর্মকে হেয় করবে কলুষিত করবে সহ্য করতে পারি না। কেউ যাতে ইসলাম ধর্মকে হেয় করে কলুষিত করে কথা বলতে না পারে এরজন্যে আমাদের সোচ্চার হতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে আক্রমণ করতে সব সময় ধর্মকে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে নাকি ইসলাম থাকবে না। বিশেষ করে ৭৫ সালে কামাল জামালসহ আমাদের পরিবারের আঠারজন সদস্যকে হত্যা করা হয়। এই হত্যার পর থেকে আমরা দেখেছি, ধর্ম নিয়ে ব্যবসা হয়েছে, কিন্তু ইসলাম প্রচার প্রসারে কোন কাজ করা হয় নাই। স্বাধীনতার পর মদ জুয়া রেস খেলা সব বন্ধ করে দিয়েছিলেন। ৭৫ যারা ক্ষমাতায় এসেছিল তারা মদের লাইসেন্স দিয়ে দেয়। হজে পাঠানোর জন্য হিজবুল বাহার নামের একটি জাহাজ কেনা হয়েছিল। ৭৫ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সেটাকে প্রমোদতরী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। মুখে ইসলামের নাম আর কাজে ইসলামবিরোধী কাজ। জঙ্গিবাদ সন্ত্রাসের উত্থান তারা ঘটায়।’

বর্তমান পরিস্থিতিতে আজকের এই সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে সৌদি আরবের যে দুই জন মেহমান এসেছেন তাদের বক্তব্য জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমাদের যে অবস্থান মেহমানদের বক্তব্যে তা আরও সুদৃঢ় করবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মুসলমান মুসলমান ভাই ভাই হয়ে বসবাস করবে, কিন্তু এটা কেমন কথা-একজন মুসলমান আরেক জন নিরীহ মুসলমানকে বোমা মেরে হত্যা করে। তারা নাকি হিসাব নেয় জান্নাতে চলে যাবে। নিরীহ মুসলামানকে হত্যা করলে জান্নাতে নয়, জাহান্নামে যেতে হবে-এটি পবিত্র কোরআনে আছে।’

তিনি বলেন, ‘ইসলাম মানবতার ধর্ম, শান্তির, ভ্রাতৃত্বের  ধর্ম। উন্নতির পথে এগিয়ে যাওয়ার ধর্ম। ইসলাম মানবতাবাদের ধর্ম।’

সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানেই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে আপনারা ব্যবস্থা নেবেন।’

%d bloggers like this: