মাস্ক পরার কারণে ত্বকে হচ্ছে ‘মাস্কনে’

0

করোনাভাইরাস থেকে বাঁচতে অন্যতম পরামর্শ হলো মাস্ক পরা এবং হাত সাবান বা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিস্কার রাখা। এই কারণে গরমে যতই কষ্ট হোক না কেন মাস্ক বাইরে গেলে মাস্ক পরে থাকা ছাড়া কোন উপায় নেই। কষ্ট হলেও এটি মেনে নিচ্ছেন সবাই। কিন্তু মাস্ক পরার কারণে ত্বকে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

স্বাভাবিকভাবেই মুখ কান ও গলার কিছু অংশ সব সময় খোলা থেকেছে। এখন হঠাৎ করে কাপড়ের টুকরো দিয়ে ঢেকে ফেলার কারণে ত্বক তা স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে না। বেশিক্ষণ মাস্ক পরে থাকলে অনেকের নাক, মুখ জুড়ে ছোট, বড় লালচে-গোলাপি ব্রণ বা র‍্যাশ উঁকি দিচ্ছে। খসখসে ত্বক, চুলকানি, ঠোঁটের চারপাশে লাল লাল গুটির মতো দাগও দেখা দিচ্ছে। বয়ঃসন্ধিতেও ব্রণর সমস্যায় ভোগেননি যারা, তারাও মাস্ক-জনিত সমস্যায় জেরবার।

ত্বক-বিশেষজ্ঞরা এই মাস্কঘটিত ব্রণদের নাম দিয়েছেন ‘মাস্কনে’ (Maskne) । অর্থাৎ মাস্কের কারণে যে ব্রণ বা অ্যাকনে (Mask+Acne)।

একটানা মাস্ক পরে থাকলে নাক, মুখে বাতাস কম পায়। এর কারণে ঘাম, ময়লা জমে র‍্যাশ হতে শুরু করে। তার উপরে বার বার হাত দিয়ে মাস্কের কান ধরে কখনও নাকের উপরে তোলা, আবার কখনও থুতনির নীচে নামানোতে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। নাক-মুখ জুড়ে লালচে দাগ, ব্রণ উঠছে।

ত্বক-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকে আবার মাস্ক সরিয়ে বার বার মুখে হাত দেন, যার ফলেও হাতের ময়লা ঠোঁটে, নাকে লেগে যায়। তার উপর আবার মাস্ক চাপিয়ে দিলে ঘাম জমে সেই জায়গার ত্বকের ক্ষতি হয়।

এমনিতেই গরমের সময় ব্রণের সমস্যায় ভোগেন অনেকে। তার উপরে মাস্কে দীর্ঘক্ষণ মুখ ঢেকে রাখলে ত্বক আরও বেশি বিদ্রোহ ঘোষণা করে। চামড়া খসখসে, শুকনাও হয়ে যায় অনেকের। বেশি চুলকালে সেই জায়গায় ব্রণ ফেটে গিয়ে বিপত্তি দেখা যায়।

ত্বক-বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, সেনসিটিভ তাদের সমস্যা আরও। বিশেষত যদি এগজিমা বা সোরিয়াসিসের মতো ক্রনিক ত্বকের রোগ থাকে বা অ্যালার্জিজনিত অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস তাহলে ত্বকের যত্ন একটু বেশি নিতে হবে।

তাদের পরামর্শ, স্যানিটাইজার ব্যবহার করার পরে হাতে নিয়ম করে ময়শ্চারাইজার বা নারকেল তেল লাগাতে হবে। মুখে ভারী মেকআপ দেয়া যাবে না। তৈলাক্ত প্রসাধনী এই সময় ব্যবহার না করাই উচিত।

এর বদলে ত্বক অনুযায়ী হাল্কা ময়শ্চারাইজার, রোদে বের হলে সানস্ক্রিন (অবশ্যই ত্বকের ধরন অনুযায়ী) ব্যবহার করতে হবে। ছোট ছোট ব্রণ ঠোঁট আর নাকের চারপাশে দেখা গেলে চন্দনের প্রলেপ দেওয়া যেতে পারে। তাতে জ্বালা বা চুলকানি অনেকটাই কমবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিমপাতাও খুব কাজে দেয় মাস্কনের সমস্যা রুখতে। নিমপাতা বাটা নাক বা মুখের চারপাশে লাগিয়ে রাখলে আরাম মেলে।

করোনাভাইরাসের যুগে শুধু ত্বকের যত্ন নিলেই চলবে না। মাস্কেরও যত্ন নিতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আগেই বলেছ থ্রি-লেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলে ভাইরাস প্রবেশ করতে পারবে না। থ্রি-লেয়ার মাস্ক হোক, সার্জিকাল মাস্ক বা সুতির ফ্যাব্রিক মাস্ক, যেটাই ব্যবহার করুন না কেন, নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা দরকার। মাস্কে যেন কোনওভাবেই সাবান বা ডিটারজেন্ট না লেগে থাকে সেটা দেখতে হবে। ধোয়ার পরে রোদে রেখে ভাল করে শুকিয়ে নিতে হবে।

%d bloggers like this: