মাস্কে যতদিন বেঁচে থাকে করোনা ভাইরাস

0

পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়া কোভিড-১৯ মহামারী সৃষ্টিকারী সার্স-কোভি-২ ভাইরাসটি সার্জিকাল ফেস মাস্কগুলিতে ৭ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে বলে দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। নভেল করোনাভাইরাসটি বিভিন্ন পৃষ্ঠে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কতক্ষণ সংক্রমক থেকে যায় তা বোঝার জন্য দ্রুত স্টাডি করা হচ্ছে। হংকংয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ‘সংক্রামক ভাইরাসের একটি উল্লেখযোগ্য স্তর একটি সার্জিক্যাল মাস্কের বাইরের স্তরে সাত দিন পরেও শনাক্ত হতে পারে। তবে মার্কিন গবেষকরা বলছেন যে, কার্ডবোর্ডে ২৪ ঘন্টা পরে এসএআরএস-কোভি-২ এর অস্তিত্ব মেলেনি, এটি নির্দেশ করে যে, ডাক পরিষেবা তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিমুক্ত।

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ডাক্তারদের ব্যবহ্নত নীল রংয়ের মাস্কে করোনা ভাইরাস ৭ দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। যেসব ডাক্তার ও চিকিৎসাকর্মী তাদের মাস্ক বারবার ব্যবহার করে থাকেন, তাদের সতর্ক হতে বলা হয়েছে। বিশেষ নিয়মে ওইসব মাস্ক ধুয়ে ফেলার পরামর্শও দেয়া হয়েছে। করোনার জীবনকাল সর্ম্পকে বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাস ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ২৪ ঘন্টা পর্যন্ত বাঁচতে পারে। ওই ধরণের তাপমাত্রা সাধারণ গ্রীষ্মকালের সবচেয়ে খারাপ সময়গুলোতে দেখা যায়। সে হিসেবে এই ভাইরাস সাউথ এশিয়া, সাউথ আমেরিকা এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের গরম এলাকায় সহজেই বেঁচে থাকতে পারে। ঠান্ডার মধ্যে করোনার স্থায়ীত্ব বিষয়ে বলা হয়েছে, গৃহস্থালীতে ব্যবহ্নত ফ্রিজারের মধ্যে ৪ ডিগ্রী বা তারচেয়ে কম তাপমাত্রায় করোনা ভাইরাস ২ সপ্তাহ পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। চীনের উহানের ঠান্ডা আবহাওয়া ও কানাডা-স্ক্যান্ডেনেভিয়ান দেশগুলোর আবহাওয়া করোনার স্থায়ীত্ব বাড়িয়ে দেয়। খাবারের সঙ্গে করোনা অনেকটা সময় ধরে বাসা-বাড়িতে অবস্থান করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। গরম পানিতে গোসলের পরেও ১০ মিনিট পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের বেঁচে থাকার রেকর্ড দেখেছেন গবেষকরা। তবে গরম পানি ও গরম চা-কফি, ৭০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের উপরে হলে সহজেই ভাইরাসকে মেরে ফেলতে পারছে। এছাড়া সাদা কাগজ বা টিস্যু পেপারের উপরে ভাইরাস ৩০ মিনিট বেঁচে থাকতে পারে বলে সেগুলো সাবধানে ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে প্রতিবেদনে। পরিধানযোগ্য কাপড়ের উপরে একদিন, স্টিল সামগ্রীর উপরে ৪দিন পর্যন্ত বাঁচে করোনা ভাইরাস। ডাক্তারের ব্যবহার্য মাস্ক ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে থাকা করোনা ভাইরাস মেরে ফেলতে পানি ও সাবান মিশ্রিত দ্রবণ ব্যবহারের নির্দেশনা আছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে। ওইসব মাস্ক একবার ব্যবহারের জন্য তৈরি হলেও অনেক সাধারণ মানুষ সেগুলো বারবার ব্যবহার করে থাকেন। বিশেষজ্ঞদের মতে ভাইরাস মেরে ফেলার ১:৪৯ পদ্ধতি অবলম্বন করলে ভাল ফল পাওয়া যায়। এক টেবিল চামচ সাবান বা ব্লিচিং পাউডারের সঙ্গে ৪৯ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে তৈরি দ্রবণ দিয়ে জিনিসপত্র পরিস্কার করলে এবং বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে করলে করোনা জীবাণু ধ্বংস হয় বলে জানানো হয়েছে।

%d bloggers like this: