ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূকে হত্যা , শাশুড়ী গ্রেফতার

0
গোলাম কিবরিয়া পলাশ, ময়মনসিংহ :
ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে স্বামী ও শাশুড়ী গলাটিপে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিহত গৃহবধুর শাশুড়ী জেসমিনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার সকালে ৬টার দিকে উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের পোড়াবাড়িয়া গ্রামে।
খবর পেয়ে গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা খাতুন ও গফরগাঁও থানার ওসি অনুকুল সরকার ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন। জানতে পারি, নিহত গৃহবধূর নাম জান্নতুল ফেরদৌস মানছুরা (২০)। সে ওই গ্রামের ইব্রাহিম শেখ (৩৮) ওরফে সেলিম মিয়ার স্ত্রী। ঘটনার একমাত্রা প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের চার বছর বয়সী কন্যা সবিতা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ গফরগাঁও উপজেলার পোড়াবাড়িয়া গ্রামের সিরাজ মিয়ার ছেলে ইব্রাহীম শেখ ওরফে সেলিমের সাথে ২০১৬ সালের ২৯ অক্টোবর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পার্শ্ব’বর্তী উস্থি উনিয়নের কাজল মিয়া মেয়ে মানছুরার। বিয়ের ৬ মাস পর সেলিম দুবাই চলে যান।
সেখানে থাকা অবস্থায় সে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ৬ মাস পূর্বে শশুর কাজল মিয়া দুই লাখ টাকা খরচ করে দেশে ফিরেয়ে এনে চিকিৎসা করান। এলাকাবাসী জানান, সম্প্রতি বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা এনে দিতে গৃহবধূ মানছুরাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল স্বামী ইব্রাহীম ওরফে সেলিম।
এ অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে ফের টাকা চাওয়া নিয়ে স্বামীর সাথে কথা কাটাকাটি হয় মানছুরার। এহেন পরিস্থিতিতে স্বামী সেলিম ও তার মা জেসমিন মিলে মানছুরার গলাটিপে হত্যা করে। নিহতের চার বছরের শিশু সবিতা পুলিশ ও তার নানা-নানীসহ স্থানীয়দের সামনে অপকটে বলতে থাকে সকালে তার মাকে প্রথমে মারধর করেন তার বাবা।
পরে তার দাদী জেসমিন তার মায়ের পা চেপে ধরেন এবং তার বাবা গলাটিপে হত্যা করেন। এ কথাগুলো বলার সময়েও শিশুটি ছিল আতঙ্কিত। এ সময় নিহতের ছোট বোন কলেজ ছাত্রী আরজিনা আক্তার মীম বলেন, আমাদের ছোট্ট ভাগ্নি এ হত্যা একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী। সে যেভাবে সকলের সামনে অপকটে হত্যার বিবরণ দিচ্ছে তাতে আর কোন স্বাক্ষ্যপ্রমানের প্রয়োজন পড়েনা। আমার বোনের স্বামী ও তার মায়েই হত্যাকারী।
আমরা বোনের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবী করছি। নিহতের বাবা কাজল মীর বলেন, তাকে বিদেশ (দুবাই) পাঠানো থেকে শুরু করে দেশে ফিরিয়ে আনা পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা দিয়েও মেয়ের জীবন বাঁচাতে পারলাম না।
এ বিষয়ে গফরগাঁও সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজা খাতুন বলেন, নিহতের শরীরে কোন আঘাতে চিহ্ন না থাকলেও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

%d bloggers like this: