ভিজিডি কর্মসূচি: গৌরীপুরে ৩০ কেজির বস্তায় ২৬ কেজি চাল, নিরব ভূমিকায় উপজেলা প্রশাসন

0

খাইরুল ইসলাম আল আমিন:

ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুর উপজেলার ডৌহাখলা ইউনিয়নে ভিজিডি কর্মসূচির চাল ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি বস্তায় ৩০ কেজি চাল থাকার কথা থাকলেও সেখানে দেওয়া হচ্ছে ২৬ কেজি। কারো ৪ মাস, কারো ৫ মাসের চাল এখনও পায়নি। যেগুলো পেয়েছে তাতেও অনেই পেয়েছে ৭/৮ কেজি করে কম। প্রতিবাদ করলে ধমক দিয়ে বের করে দেয়।

অভিযোগের সত্যতা যাছাইয়ে ২৮ ডিসেম্বর সোমবার সরেজমিনে গণমাধ্যম কর্মীরা যায় ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদে। গিয়ে দেখা যায়, চাল দেয়া হচ্ছে ঠিকেই কিন্তু নেই তদারকী কর্মকর্তা, ইউপি সচিব এমনকি ইউপি চেয়ারম্যান। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে চাল নিতে আসা উপকারভোগীদে তাড়িয়ে দেন ইউপি সদস্য আবুল কালাম।

পরে সেখানে অন্তত ৩০ জন সুবিধাভোগী নারীর সঙ্গে কথা বললে তাঁরা সবাই ভিজিডির চাল কম দেওয়ার এই অভিযোগ করেছেন। ডৌহাখলা ইউনিয়নের উপকারভোগী নাজনীন বেগম বলেন, “হুনছি চাউল দিব ৩০ কেজি কিন্তু আমরাতো পাই ২৫-২৬ কেজি।’ উপকারভোগী রবিলা বেগম জানান, এইবার ২বস্তা দিছে, ২৬ কেজি কইরা অইছে, আরো ২ বস্তা বাকি রইছে। রোকেয়া বেগম বলেন, লেহ্যা আছে ৩০ কেজি, মাইপ্পেয়া দেহি ২৫ কেজি চাউল। কেউ কেউ তো ৭-৮ কেজি কমের অভিযোগ তুলেন।

সত্যতা নিশ্চিত করতে উপকার ভোগীরা একটি ডিজিটাল মিটার নিয়ে আসেন পরিষদের গোদামে। ইউপি সদস্য আবুল কালাম এবং ২০/২৫ জন উপকার ভোগীদের সম্মুখে ওজন দেওয়া হলে দেখা যায় প্রতি বস্তায় ৪/৫ কেজি চাউল কম রয়েছে। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি নিজে গিয়ে পরিদর্শন করেন ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদে গোদাম।

এ সময় উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, গনমাধ্যমকর্মী, স্থানীয় রাজনীতিবীদ ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। পরে তিনি (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সরকারের সাথে একান্ত বৈঠক করে ২০২১ সালের ৪ জানুয়ারী সোমবার সকলের উপস্থিতিতে চাল দেয়া হবে বলে দুর্নীতি বার্তাকে জানান। কিন্তু মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এসময় “দেখেই বুঝা যাচ্ছে বস্তায় চাল কম আছে” কথাটি বললেও বিষয়টি আমলে নেননি উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

পরে ৪ জানুয়ারী সোমবার ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদে গণমাধ্যম কর্মীরা গিয়ে দেখতে পায় উপকারভোগীরা দাড়িয়ে আছে কিন্তু চাল দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। জানা যায় পুনরায় তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে, ৭ জানুয়ারী বৃস্পতিবারে দেয়া হবে।
যদিও ডৌহাখলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সরকার বলছেন গৌরীপুর খাদ্যগুদাম থেকে কম ওজনের ওই বস্তা সরবরাহ করা হয়েছে। কিন্তু গৌরীপুর খাদ্যগুদামের খাদ্যনিয়ন্ত্রক খাদ্যনিয়ন্ত্রক বিপ্লব সরকার দুর্নীতি বার্তাকে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভিজিডির চালের প্যাকেটে চাল কম হওয়ার কথা নয়।

আমরা প্রতি বস্তায় ৩০ কেজি বুঝিয়ে দেই তারাও আমাদের কাছ থেকে বুঝে নেয়। গোদাম থেকে বের হওয়ার পরে চাল কম হলে আমাদের কিছু করার নেই। তিনি দুর্নীতি বার্তাকে আরো বলেন, ২০২০ সালের কোন চাল আমাদের কাছে বকেয়া নেই। আমরা চেয়ারম্যানদের কাছে হস্তান্তর করেছি। যদি তারা না দিয়ে থাকে এতে আমাদের কোন দ্বায়ভার নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা বেগম আকন্দ দুর্নীতি বার্তাকে জানান, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি কর্মসূচির অধীনে গৌরীপুর উপজেলায় ৩ হাজার ২৬ জন দুস্থ নারী এই সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে ডৌহাখলা ইউনিয়নে ৩ শত ৪৩ জন সুবিধাভোগী রয়েছেন। প্রত্যেক সুবিধাভোগী প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল সহায়তা পাচ্ছেন। এসব সুবিধাভোগী নারীকে প্রতি মাসেই ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার পরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বরাবরে প্রত্যায়নপত্র দেয়ার নিয়ম থাকলেও আজ পর্যন্তও তা কেউ দেয়নি। চেয়ারম্যানরা নিজেদের ইচ্ছামত চালিয়ে যাচ্ছে।

৪ জানুয়ারী সোমবার নির্ধারিত স্থানে তাদের না পাওয়ায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হাসান মারুফ এর সাথে। এ সময় তিনি দুর্নীতি বার্তাকে জানান, তারিখটি পরিবর্তন করা হয়েছে, বৃস্পতিবারে সকলের উপস্থিতিতে চাল দেয়া হবে।

%d bloggers like this: