ভাত খাওয়ার ট্যাকা নাই ঘর বানাই ক্যামনে??

0

খাইরুল ইসলাম আল আমিন:

দারিদ্রতার যাতাকলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন মোঃ খলিল উল্লাহ খলিল (৫০)।  জীর্ণ-শীর্ণ একটি ঘরে স্ত্রী এবং ৪ সন্তান নিয়ে সে বসবাস করে। স্ত্রী-সন্তানের মুখে দু’বেলা দু’মুঠো খাবার জোগাতে  সে দিন মজুরের কাজ করতো। উপার্জিত টাকায় চলতো সংসারের যাবতীয় খরচ। আদরের সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে যাতনাকে ভুলে কাজ করে গেছেন প্রতিনিয়তই। তবে জীবন সংগ্রামে সবাই টিকে থাকতে পারেনা।

কোন এক সময় থামতে হয় প্রত্যেককেই। হয়তো সে নিয়মেই থামতে হয়েছে খলিলকেও । করোনায় বন্ধ হয়ে যায় কাজ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির এমন অবস্থার কারণে অসহায় হয়ে পড়েছেন তার স্ত্রী-সন্তান। অপরদিকে দিনে দিনে মেরামতের অভাবে ভেঙ্গে পরছে তাদের একমাত্র বসত ঘরটি। ময়মনসিংহ  জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার শিমরাইল গ্রামে এভাবেই মানবেতর জিবনযাপন করছে দিনমজুর খলিল উল্লাহ খলিল। বাড়িতে গেলে দেখা হয় তার এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,  জরাজীর্ণ একটি ঝুপরী ঘরে খলিলের বসবাস। দীর্ঘদিন হতে মেরামত না করায় ঘরটির বিভিন্ন অংশ ভেঙ্গে গেছে।

যে কোন সময় তা ভেঙ্গে পড়ে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা। বর্তমানে ঘরটির যে জরাজীর্ণ  অবস্থা তাতে এটি মেরামতেরও সুযোগ নেই। এলাকাবাসীরা জানান, পৈত্রিক সুত্রে পাওয়া খলিলের এই বসতভিটা ছাড়া আর কোন কিছুই নেই। আর তার আর্থিক যে অবস্থা, তার পক্ষে নতুন করে ঘর তোলা কোনভাবেই সম্ভব না। এমন পরিস্থিতিতে সরকার যদি ঘর তুলে দেয়ার বরাদ্দ দিয়ে থাকে তাহলে সে তা পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করেন তারা। ময়মনসিংহের আঞ্চলিক ভাষায় কান্না জড়িত কন্ঠে খলিল বলেন, করোনায় পাইছি ১০ কেজি চালের কাট,  আর কোন অনুদান আমি পাইনাই। আমি পুলাপান নিয়া খুব কষ্টে আছি খুব যন্ত্রণায় আছি এই কথা আমি কার কাছে কই? আমার একটা পোলা  কলেজে পড়তো, ট্যাকা-পইসার অভাবে আমার পোলাডারে আমি পড়াইতাতে পারতাছিনা।

রাজের জুগাইল্লা কাম কইরা মাইগাযাইতা অতদিন পড়াইছি। অহনতো কামও নাই। এই যে করোনা আইছে অহন গড়তে বাইর অইতারিনা বাজারে গেলে পুলিশে হারান দেয় দৌড়াইয়া বাইত আইয়া পড়ি। অহন পুলাপাইন লইয়া কি খাই, কিবায় চলি কিবায় থাকি। আমার একটা ঘর নাই, ঘর বান্দার কোন সামর্থ্য নাই।

জুগাইল্লা কাম কইরা দিন আনি দিন খাই, এর উপরে কিছু করতে পারি না। ভাত খাওয়ার ট্যাকা নাই ঘর বানাই ক্যামনে?? বাংলাদেশ সরকার ও সমাজের বৃত্তবানদের একটু সাহায্যই পারে হতদরিদ্র খলিলের মুখে হাসি ফুটাতে। দশের লাঠি একের বোঝা। সকলের প্রতি উদার্ত আহবান খলিলের প্রতি সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার।

%d bloggers like this: