ভাঙ্গুড়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ-আটক ২

0

পাবনা প্রতিনিধি :

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার থানা পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল মঙ্গলবার রাতে পুলিশের দুই সোর্স পৌরসভার কলেজপাড়া মহল্লার হাজী শামসুল ইসলাম ও নুর ইসলামের বাড়িতে ৭ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করতে গিয়ে গ্রামবাসীর নিকট আটক হয়েছেন। পরে তাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

আটককৃত সোর্সরা হলেন, পৌরসভার কুমড়াডাঙ্গা মহল্লার মৃত খবির উদ্দিনের পুত্র আশরাফ আলী (৫০) ও মন্ডুতোষ ইউনিয়নের বোয়ালমারী কুঠিপাড়া গ্রামের মৃত শিরাজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মান্নান (৪৮)।

আটককৃত ব্যক্তিরা জানান, এস আই একরামূল হক ঐ টাকার জন্য তাদেও সেখানে পাঠিয়েছিলেন। হাজী শামসুল জানান,একটি মেয়েলি ঘটনার অভিযোগে তিনিসহ তার পরিবারের কয়েকজনকে আসামী করা হয়েছে। অথচ ঐ সময় তিনি ব্যবসায়িক কাজে মোকামে ছিলেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এস আই একরামূল হক তাদের অনুপস্থিতিতে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার কথা বলে ইতোপুর্বেও সোর্সদের মাধ্যমে তার স্ত্রীর নিকট থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। ইতিপূর্বেও ইয়াবা সহ সোর্স হামিদুল আটক হওয়ার ঘটনায় এই পুলিশ কর্মকর্তা একরামুল বিতর্কিত হয়েছিলেন।

উপজেলার অষ্টমণিষা ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক ইউসুব আলী মোল্লা বুধবার ভাঙ্গুড়া প্রেসক্লাবে লিখিত অভিযোগে জানান গত ২২ ফেব্রুয়ারি জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে একই গ্রামের মোজাহার আলীর ছেলে আমজাদ আলী গং ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তার পুত্র রওশন আলী (২২) কে রক্তাক্ত জখম করে। কিন্ত ঐদিন সন্ধায় থানায় মামলা রুজু করতে গেলে ডিউটি অফিসার এস আই মুনিরুজ্জামান ৩ হাজার টাকা ঘুষ নেয়ার পর অভিযোগ এন্ট্রি করেন (মামলা নং-০৯)। পরে এসআই মিজান কে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হলে মামলা পরিচালনার খরচ হিসেবে তিনিও ৫ হাজার টাকা নেন। কয়েকদিন পর আসামী ধরার নাম করে তিনি আরো ৩ হাজার এবং মেডিক্যাল রিপোর্টের জন্য ২ হাজার টাকা নেন। ইউসুব আলী বলেন গোলার ধান ও সরিষা বিক্রি করে এ পর্যন্ত তিনি পুলিশকে ২১ হাজার টাকা দিয়েছেন কিন্তু প্রকাশ্যে দিবালোকে আসামীরা ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ একজন আসামীকেও আটক করেনি।

উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম রমিজ অভিযোগ করে বলেন, গত সোমবার সন্ধ্যায় এস আই মাসুদ অহেতুক তাকে গ্রেফতার করে থানায় এনে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করেছিলেন কিন্ত স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের চাপে পরে তাকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় থানা পুলিশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক পুলিশ সদস্য বলেন, যে কোনো অভিযোগ থানায় আসার আগে নেতারাই নিষ্পত্তি করেন। তাহলে পুলিশ চলবে কী করে।

এবিষয়ে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জুয়েল পুলিশের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, পুলিশের সোর্স পরিচয়ে আটক দু‘ব্যক্তি কে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাদেরকে পাবনা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। কৃষক ইউসুবের অভিযোগের বিষয়ে তিনি আরো বলেন, এই ঘটনার ছয়দিন আগে একই গ্রামের হাশেম আলী গংরা ইউসুফ গংদের হামলায় আহত হয়ে থানায় একটি মামলা করেন। পুলিশ দু‘টো মামলাই তদন্ত করছে। এব্যাপারে ভাঙ্গুড়া থানায় একটি মামলা হয়েছে মামলা নং ২।

%d bloggers like this: