বৃহস্পতি গ্রহের অসাধারণ কিছু ছবি পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা 

0

বৃহস্পতি গ্রহের অসাধারণ কিছু নতুন ছবি তুলে ধরেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যেখানে গ্রহটির বিশাল গ্যাস স্তরের নীচে উষ্ণ ঝলমলে অঞ্চলগুলো ফুটে উঠেছে। বিবিসি বাংলা’র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপে অবস্থিত জেমিনি নর্থ টেলিস্কোপের ইনফ্রারেড থেকে এসব ছবি পাওয়া গেছে। পৃথিবীতে থেকে বৃহস্পতি গ্রহের তোলা এটাই সবচেয়ে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ।

গ্রহটির ছবির এই রেজোল্যুশন পাওয়ার জন্য বিজ্ঞানীরা ‘লাকি ইমেজিং’ নামের একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, যা পৃথিবীর অশান্ত বায়ুমণ্ডলের ভেতর দিয়ে দেখার সময় যে ঝাপসা ভাবটি আসে, সেটা দূর করে দেয়। এই কৌশলে লক্ষ্যবস্তুর একাধিক ছবি তোলা হয় এবং যে ছবিগুলোর মান সবচেয়ে ভালো হয়, শুধুমাত্র সেগুলো সংরক্ষণ করা হয়। যখন এরকম সবগুলো ‘লাকি শটস’ একত্র করা হয়, তখন শুধুমাত্র একটি ছবির তুলনায় অনেক বেশি পরিষ্কার চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়। হাবল টেলিস্কোপের মতো টেলিস্কোপগুলো যতটা আলোক তরঙ্গ শনাক্ত করতে পারে, ইনফ্রারেড টেলিস্কোপ তার চেয়ে দীর্ঘতর তরঙ্গদৈর্ঘ্য শনাক্ত করতে পারে। মেঘাছন্ন এবং কুয়াশায় ভরা বৃহস্পতি গ্রহের বায়ুমণ্ডলের শীর্ষস্তর দেখতে এটি অতীতে ব্যবহৃত হতো। যা দিয়ে বিজ্ঞানীরা গ্রহটির অভ্যন্তর বোঝার চেষ্টা করতেন। বিজ্ঞানীরা আরো পরিষ্কারভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন যে, এই গ্রহটির বিশাল গ্যাসস্তর নির্ভর আবহাওয়া কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং টিকে রয়েছে। বিশেষ করে কয়েক দশক, এমনকি শতাব্দী জুড়ে কীভাবে সেখানকার দুর্দান্ত ঝড়গুলো অব্যাহত থাকে। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণার অংশ হিসাবে এই ইনফ্রারেড ছবিগুলো পাওয়া গেছে। এটি এটি যৌথ গবেষণা কর্মসূচীর অংশ যেখানে হাবল টেলিস্কোপের পাশাপাশি জুনো মহাকাশযান সম্পৃক্ত রয়েছে, যেটি সৌরমণ্ডলের এই পঞ্চম গ্রহটি ঘিরে প্রদক্ষিণ করছে।

বৃহস্পতিগ্রহ সম্পর্কে কয়েকটি তথ্য-

১. বৃহস্পতি গ্রহ পৃথিবীর তুলনায় ১১গুণ প্রশস্ত এবং তিনশো গুণ বেশি বড়।

২. সূর্যকে প্রদক্ষিণ করতে এটি পৃথিবীর হিসাবে ১২ বছর সময় লাগে এবং এর এটির একেকটি ‘দিন’ ১০ ঘণ্টার ।

৩. গঠন প্রণালীতের নক্ষত্রের সঙ্গে এর মিল রয়েছে, এটি বেশিরভাগ হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম গ্যাসে তৈরি।

৪. চাপের কারণে হাইড্রোজেন ধাতুর মতো হয়ে রয়েছে বলে মনে করা হয় ।

৫. এই ধাতুর মতো হাইড্রোজেন সেখানকার চৌম্বকীয় ক্ষেত্রের উৎস হতে পারে ।

৬. গ্রহটিতে দেখতে পাওয়া মেঘের উপরের স্তরে অ্যামোনিয়া এবং হাইড্রোজেন সালফাইড রয়েছে।

৭. বৃহস্পতিগ্রহের নিম্ন-অক্ষাংশের ‘অঞ্চল’ পূর্ব-পশ্চিম বাতাস তৈরি করে।

৮. গ্রহটিতে যে বিশাল লাল বিন্দু দেখা যায়, সেটা হলো বিশাল ঝড় ভরটেক্স, যা পৃথিবীর চেয়ে বেশি প্রশস্ত।

%d bloggers like this: