ঢাকা ৩৫°সে ১৩ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ময়মনসিংহে মৃত্যুর চার মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি :

তদন্তের উদ্দেশে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় সাজ্জাত নামে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যুর সাড়ে চার মাস পর কবর থেকে লাশ তোলা হয়েছে। সোমবার বেলা ১১টার দিকে চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের চর লক্ষ্মীপুর কাছিমুল উলুম মাদ্রাসার গোরস্থান থেকে এ লাশ উঠানো হয়। নিহত শিশু সাজ্জাত চর লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত চান মিয়ার ছেলে। নির্বাহী হাকিম শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে শিশুটির লাশ তোলা হয়।

এসময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল কাশেম ও পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তাসহ স্থানীয় নেতা ও এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন। লাশ উঠানোর সময় নিহত শিশুর মায়ের গগণবিদারী কান্নায় হৃদয়-বিদারক এক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসময় উপস্থিত লোকজন কেদে ফেলেন।

শিশুটির মা আনোয়ারা বেগম অভিযোগ করে জানান, গত ১ অক্টোবর সাজ্জাতের এপেন্ডিসাইডের ব্যথা উঠলে নগরীর চরপাড়ার ব্রাহ্মপল্লী এলাকার রেজিয়া ক্লিনিকে ভর্তি করান। ক্লিনিকের মালিক হাসানুজ্জামান তার ক্লিনিকে ভর্তি হওয়ার জন্য বলেছিলেন। ভর্তির পর ওই রাতেই অপারেশন করতে হবে বলে জানান ক্লিনিকের মালিক হাসানুজ্জামান ও তার স্ত্রী পরিচালক সাবিনা ইয়াসমিন। পরে অপারেশন করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জন ডিসি বর্মণ ও অজ্ঞানের ডাক্তার টিকে সাহা এবং ডাক্তার প্রীতি রঞ্জন রায়।

আনোয়ার বেগম আরও জানান, তাড়াহুড়া করে অপারেশন করে চিকিৎসকরা চলে গেলে তার ছেলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তখন ক্লিনিকের লোকজনের সহযোগিতা চাইলে কেউ তাদের সহযোগিতা করেনি। তার ছেলের খারাপ অবস্থার জন্য তারা কোনো দায়ভার নেবে না বলে ভোরে কর্তৃপক্ষ তাদের ক্লিনিক থেকে বের করে দেয়। পরদিন সকালে দুই অক্টোবর সাজ্জাতকে কোলে করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি জানাজানি করলে মামলাসহ বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে আনোয়ারা বেগমকে হুমকি দেয় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ।

আনোয়ারা বেগম দুই ছেলে নিয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে তার সংসার চালাতেন। ছেলের অপারেশনের টাকা ঋণ করে দিয়েছিলেন।

বিচার চেয়ে আনোয়ারা বলেন, ‘রেজিয়া ক্লিনিকের চিকিৎসকরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে। আমি এর কঠিন বিচার চাই।’

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পিবিআই ইন্সপেক্টর আবুল কাশেম জানান, নিহত শিশুর মা আনোয়ারা বেগম ময়মনসিংহ অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্টেট আদালতে মামলা করলে আদালত মামলাটি পিবিআইয়ে হস্তান্তর করেন। একইসঙ্গে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর লাশ উত্তোলনের জন্য ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের নির্দেশ দেন। পরে ২ ডিসেম্বর ম্যাজিস্টেট নিয়োগের পর আজ কবর থেকে এ লাশ উঠানো হয়। সুষ্ঠু বিচার যেন শিশুর পরিবার পায় তার চেষ্টা করা হবে।

এ বিষয়ে নির্বাহী হাকিম শাহাদাত হোসেন জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত লাশ উঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। সেই নির্দেশেই লাশ কবর থেকে উঠানো হয়েছে।




আপনার মতামত লিখুন :