ঢাকা ৩১°সে ১৪ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

ময়মনসিংহে গড়ে উঠছে অনুমোদনহীন ১৪ তলা ভবন!

নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। নেই ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্রও। সিটি করপোরেশনে যে নকশা জমা দেওয়া হয়েছে, তার সঙ্গেও মিল নেই নির্মাণাধীন ভবনটির। তারপরও মাথা উঁচু করেই দাঁড়িয়ে গেছে ১৪ তলা ভবনটি। ইমারত নির্মাণ নীতিমালা উপেক্ষা করে ময়মনসিংহ নগরীর জেলা স্কুল মোড়ে নির্মাণাধীন ভবনটির কাজে কিছুদিন আগে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী হাকিম বন্ধ করে দেন। তবে কয়েকদিন পরেই ফের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে ভবন কর্তৃপক্ষ।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলর ও মসিক নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকার কথা থাকলেও আবার কি করে কাজ চলছে- সেটি তাদের জানা নেই।

ভবন মালিকদের নেতৃত্বে থাকা ফুলপুর বওলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাতেন খান বলেন, সিটি মেয়রের মৌখিক অনুমতিক্রমে কাজ চলছে।

বিল্ডিং কোড অমান্য করে ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহরের কোনো বিল্ডিংই নিয়মের মধ্য দিয়ে গড়ে উঠেনি। সেক্ষেত্রে তাদের বিল্ডিংয়েও কিছু অনিয়ম হয়েছে। এ নিয়ে নিউজ করার কিছু নেই।

সূত্র জানায়, ১৪ তলাবিশিষ্ট এ ভবনটির কাজ শুরু হয় পৌরসভা থাকাকালে। এক্ষেত্রে পৌর এলাকায় সাত তলার বেশি উঁচু বিল্ডিং নির্মাণের সুযোগ না থাকলেও সিটি করপোরেশন এলাকায় দায়িত্বশীল সংস্থার অনুমতি সাপেক্ষে বহুতল ভবন নির্মাণের নিয়ম রয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবনের সামনের অংশে পাঁচ ফুট, অন্য তিন দিকে তিন ফুট করে জমি খালি রেখে ভবন নির্মাণের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি।

৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিয়াজ মুর্শেদ বলেন, বিল্ডিংটির নির্মাণকাজ নিয়ে অনেকেই আমার কাছেও অভিযোগ করেছে। তবে সিটি করপোরেশন এর কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বলে আমি জানি। আবার কাজ করার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। বহুতল ভবন নির্মাণে স্থানীয় কাউন্সিলরের অনাপত্তিপত্রের প্রেক্ষিতে পরিবেশ অধিদপ্তর ছাড়পত্র দেয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এক্ষেত্রে ওয়ার্ড কাউন্সিলর এমন কোন অনাপত্তিপত্র দেননি বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশকিছু অনিয়মের দায়ে বিল্ডিংটির কাজ বন্ধ করে জরিমানাও করেছেন সিটি করপোরেশন নির্বাহী হাকিম। এ নিয়ে মেয়রের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেব। অনিয়মের প্রমাণ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ময়মনসিংহ পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিহির লাল সরদার বলেন, অভিযুক্ত ভবনটির অনুকূলে পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।

একইভাবে বহুতল ভবন নির্মাণে উপযোগিতার ক্ষেত্রে ফায়ার সার্ভিসের যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়, তা এখানে নেগেটিভ হতে পারে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজ পরিদর্শক সাজেদুল কবির জোয়ারদার।

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র ইকরামুল হক টিটু বলেন, ওই ভবনের কিছু লোক আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাদের নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার কথা বলি। তবে কাজ আবার চালু করার বিষয়ে লিখিত কোনো অনুমোদন দেওয়া হয়নি। আইন সবার জন্য সমান। এখানে আইন বর্হিভূতভাবে কোনো কাজ হলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আপনার মতামত লিখুন :